ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে

করেছে Sabiha Zaman

জীবনে আনন্দের মানে একেকজনের কাছে একেক রকম। তবে ভ্রমণে আনন্দ পান না, এমন মানুষ বিরল। অসুস্থ মানুষও ভ্রমণ করলে সুস্থ হয়ে যায়। এমন ধারণা থেকে ফেসবুকে কিছু আয়োজন রেখেছে ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা। তারা নানাভাবে ভ্রমণপ্রেমীদের আনন্দ দেয়। কথা হলো এমন কয়েকজনের সঙ্গে। লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন

বাউন্ডুলে ট্রাভেল ক্লাব
ফেসবুক গ্রুপ ‘বাউন্ডুলে ট্রাভেল ক্লাব’-এর অ্যাডমিন ইমরান হোসেন বাঁধন। কথা হলো তার সঙ্গে ট্যুরের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে। কীভাবে যাত্রা শুরু?
বাউন্ডুলে ট্রাভেল ক্লাবের শুরুটা হয়েছিল ক্রিকেটের মাধ্যমে। আমি প্রতি মাসের অন্তত ১৫-২০ দিন নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন জেলায় দলবেঁধে খেলতে যেতাম। এতে আমার মনে হলো খেলার সঙ্গে ঘোরাঘুরির অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। এলাকার বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে অনেকেই ফোন দিয়ে বাসের ভাড়া, হোটেল খরচ, রুট প্ল্যান ইত্যাদি জানতে চাইত। আমি ফ্রিতেই এসব সার্ভিস দিয়েছি অনেক দিন। একসময় হোটেল ম্যানেজার, বাস কাউন্টারের লোক এদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। এরা প্রায়ই আমাকে ফ্রিতে বাসের টিকেট দিত। হোটেলে একটা এক্সট্রা ডিসকাউন্ট আমার জন্য থাকত। এভাবেই হঠাৎ করে মনে হলো এই কাজটা সার্ভিস হিসেবে খেলার পাশাপাশি নেওয়া যায়। আর এভাবেই ‘বাউন্ডুলে ট্রাভেল ক্লাব’-এর জন্ম।

ইমরান হোসেন বাঁধন

আপনারা একসঙ্গে কতজন ট্যুরের আয়োজন করেন?
আমাদের প্রথম দিকে লিমিট ছিল। নতুন অবস্থায় আমরা ১০-১২ জনের বেশি নিয়ে যেতাম না। আস্তে আস্তে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাজের চাপ বাড়ে। এখন আমরা প্রতি ১৫ থেকে ২০ জনের জন্য একটা গাইড হিসাব করে ১০০-১৫০ জনের পর্যন্ত ট্যুর পরিচালনা করে থাকি।
কত দিনের জন্য হতে পারে অর্থাৎ সময়সীমার কোনো ব্যাপার আছে কি?
আমাদের নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই। আমরা কাস্টমার প্রায়োরিটির ওপর ভ্রমণ পরিকল্পনা করে থাকি। ডে ট্যুর থেকে শুরু করে বিদেশে আমরা ১৫-১৭ দিনের ট্রিপ নিয়েও কাজ করেছি। প্রথম দিকে গ্রুপ মেম্বার বা ক্লায়েন্ট ছিল বেশির ভাগই বন্ধুবান্ধব। আস্তে আস্তে এখন মেম্বার বা ক্লায়েন্ট যা-ই বলেন পরিচিত লোকের চেয়ে অপরিচিত লোকই বেশি। ভ্রমণের পর বাড়ি ফেরার পথে সবাই আবার বন্ধু বা ফ্যামিলি হয়ে যায়।


করোনা ট্যুরের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে, আপনার কী মনে হয়?
পর্যটনের একদম উঠতি বয়স যখন ছিল, ঠিক তখনই করোনার থাবা আসে। টানা দেড় বছর পর এখন একটু স্বাভাবিকতার মুখ দেখছি। এই ক্ষতি পোষাতে আরও সময় লাগবে।

নারীদের জন্য কি আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়?
আমাদের কাছে নারী-পুরুষ সবাই সম্মানী ব্যক্তি। আমরা চেষ্টা করি আপনি যেহেতু ফ্যামিলি রেখে বাইরে ঘুরতে এসেছেন, অতএব বাইরে এসে যাতে আপনাকে ফ্যামিলিকে মিস করতে না হয়। আমরা সেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি সব সময়।

রূপসী বাংলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম
ফেসবুক গ্রুপ রূপসী বাংলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের অ্যাডমিন মোহাম্মদ ফারুক। তিনিও কথা বলেন রোদসীর সঙ্গে

মোহাম্মদ ফারুক

যেভাবে তাদের যাত্রা শুরু
প্রথমে আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনে টুকটাক ঘোরাঘুরি করতাম। একটা সময় পরিচিত মুখের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে লাগল। তখন উপলব্ধি করলাম আমাদের দেশের পর্যটনটা আসলে অনেক সম্ভাবনাময়ী কিন্তু এই সেক্টর সম্পর্কে দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো ঘোর অন্ধকারে রয়েছে। মানে তারা জানেই না যে আমাদের দেশে এমন এমন কিছু স্পট আছে, যেগুলো বাইরের কোনো দেশের থেকে কোনো অংশে কম সুন্দর নয়। বরং অনেক দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের থেকে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক বেশি সুন্দর এবং ঘোরার মতো। তখন একটা ইচ্ছা বা টার্গেট সেট করলাম যে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলোকে লোকচক্ষুর সামনে আনব। তাদের দেখাব যে আমাদের দেশও কম সুন্দর নয়। মূলত এই উদ্দেশ্যেই ২০১৬ সালের আমার গ্রুপ রূপসী বাংলার পথচলা শুরু। আমরা আমাদের ইভেন্টে ১০ জন, আবার কোনো ইভেন্টে ৩৬ জন। আবার করপোরেট ইভেন্টগুলোতে আরও বেশি হয়। মাঝেমধ্যে কমও হয়।

ট্রিপের সময়সীমা কেমন থাকে
কিছু কিছু ট্রিপ থাকে ডে টাইপ। দিনে গিয়ে দিনে ঘুরে আসি। কিছু থাকে এক রাত বা দুই রাতের। যেহেতু আমাদের শুক্র-শনি সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, সেহেতু এক রাত স্টে করার ইভেন্ট বেশি হয়। কারণ, এতে রোববার ঢাকায় ব্যাক করে ক্লায়েন্টরা অফিস করতে পারে। আবার সেন্ট মার্টিন বা বান্দরবান দুই রাতের ইভেন্ট বেশি হয়। সত্যি বলতে স্পট প্লাস ক্লায়েন্টের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে ট্যুরের স্থায়িত্বকাল।

ক্লায়েন্টরা কি আপনাদের পরিচিতই বেশি থাকে?
প্রথমেই বলেছি যে দিন দিন আমাদের কাছে পরিচিত মুখের সংখ্যা বাড়ছে। মানে আমাদের থেকে যে বা যারা সার্ভিস নিয়েছে বা নিচ্ছে, তারাই তাদের পরিচিতদের আমাদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে সাজেস্ট করে। তাই আমাদের মেম্বার পেতে অতটা কষ্ট হয় না। তা ছাড়া মোটামুটি এখন দেশের মানুষ তাদের দেশের পর্যটন সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত। একটু ছুটি বা ব্রেক পেলেই প্রকৃতির কাছে ছুটে যেতে চায়।
আমরা মূলত বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমান সব ধরনের ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে থাকি। ক্লায়েন্টের ডিমান্ডের ওপর নির্ভর করে যাতায়াতব্যবস্থাটা। আমরা চেষ্টা করি ক্লায়েন্টকে খুশি রেখে পূর্ণ সার্ভিস প্রদান করতে। আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত সফলভাবে কোয়ালিটিফুল সার্ভিস প্রোভাইড করতে সক্ষম।
করোনা মহামারি এখন একটু স্বাভাবিক হওয়ার পরে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আমরা আমাদের কার্যক্রম আবারও শুরু করেছি। ইনশা আল্লাহ্ ক্লায়েন্টদের নিরাপত্তার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ইভেন্ট পরিচালনা করছি। অর্ধেক মেম্বার নিয়ে ইভেন্ট আয়োজন, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ হচ্ছে প্রত্যেক ইভেন্টে। নিজেদের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব সবটুকু আমরা করছি।

আর নারীদের জন্য আমাদের আলাদা নারী হোস্ট থাকে। তাদের যাওয়া-আসার বাসে সিট থাকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী। খাবার থেকে শুরু করে থাকার জায়গা বা স্পট সুন্দরভাবে ঘোরানোর জন্য দক্ষ ফিমেল গাইড প্রদান করে থাকি। তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকি।
আমাদের দেশের নারীরা আগে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারত না কিন্তু এখন দিন পরিবর্তন হয়েছে। আমরা নারীদের আমাদের সঙ্গে ভ্রমণের জন্য সাদরে আমন্ত্রণ জানাই।

ছবি: বাউন্ডুলে ট্রাভেল ক্লাব ও  রূপসী বাংলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

4 + 7 =