মনের যত্নে সাজ

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন

আমরা মনের যত্নে কী করি? আদৌ কি জানি মনের যত্ন নিতে কী করা দরকার। অবশ্য একেকজন একেকভাবে ভাবে এ বিষয়ে। তবে হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া মনটাকে ভালো করতে মনের মতো করে সাজা যেতে পারে। সাজলে মন কিন্তু ভালো হবেই। তবে জবরজং সাজলে ভালো মনও খারাপ হতে পারে। মন ভালো করতে সাজের কী ক্যারিশমা, তা জানালেন বিউটি এক্সপার্ট আফরোজা পারভীন

রঙের ভেলায়
সাজে রং খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে খুশি সেখানে রং ব্যবহার করলেই হবে না। জানতে হবে এর সঠিক ব্যবহার। মন খারাপ নিয়ে যদি ডার্ক কালারের মেকআপ করা হয়, তাহলে মনের ওপর আরও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বললেন আফরোজা। হালকা পিংক শেড কিংবা গোল্ডেন শেডের মেকআপ নিলে দেখতেও ভালো লাগবে, আবার মনও ভালো হবে। চোখে হালকা কাজল দিয়ে হালকা শেডেই সেজে নিতে পারো। এ সময় স্মোকি করার দরকার নেই। এতে সময় বেশি লাগবে, মনের ওপর অন্য রকম চাপ পড়তে পারে। গাল ভরে ব্লাশন নেওয়ার কোনো দরকার নেই। আঙুল দিয়েই একটু বুলিয়ে নিতে পারো। এতে মুচকি হাসলেই তোমাকে দারুণ, মনটাও চনমনে হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন
মন ভালো তো শরীর ভালো বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করেন। আমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন শরীরের পাশাপাশি মনকে উৎফুল্ল রাখা। কারণ, আমাদের মন ভালো মানে শরীর ভালো। যেকোনো কাজের উৎসাহটা পাই আমাদের মন থেকে। তাই মন ভালো রাখার দায়িত্বটাও আমাদেরই। তাই যেকোনো কাজই মনোযোগ দিয়ে করলে তা আর পাঁচটা কাজের থেকে ভালোভাবে শেষ হয়।
তবে প্রশ্ন জাগতে পারে যে করোনাকালীন দেহবন্দী মনকে কীভাবে ভালো রাখব? আসল কথা হলো, নিজেকে ঘরে আবদ্ধ করেও মন ভালো রাখা যায়। আর সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন নিজেকে পরিপাটি বা গুছিয়ে রাখা। কারণ, যখন আমরা বাড়িতেও নিজেকে পরিপাটি করে রাখব, তখন আমাদের মনও সতেজ থাকবে।
ঘরে বসে সাজ। মানেটা খুবই সোজা। যেহেতু সাজটাও একটা কাজ, আর তুমি যখন সাজতে ভালোবাসো এবং তা খুব মনোযোগ দিয়েই করছ, তাহলে আর দেরি কেন। এবার ঘরে বসেই শুরু করে দাও সাজের মাঝে কাজ। আমরা সবাই সাজতে পারি, কিন্তু অন্যদের থেকে নিজেদের একটু আলাদাভাবে যে উপস্থাপন করতে পারে, তাকে সবাই অনুকরণ করে। এই ঘরবন্দী সময়কে নষ্ট না করে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাহলে পছন্দের কাজটা দিয়েই না হয় শুরু করে দিতে পারো। আর উপভোগ করে নাও নিজের সৃজনশীল কাজ।

সাজ কি শুধুই রূপসজ্জা?
না, একদমই না। সাজসজ্জার অনেক ধরন আছে, যার মধ্যে রূপসজ্জাটাই সব থেকে বেশি দেখা যায়। নিজেকে পরিপাটি রাখতে যেমন সাজসজ্জা করো, তেমনি ঘরটাকেও সাজিয়ে রাখো। ব্যস্ততার জন্য ঘরের সাজে মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এখন সে ঘরটাকে মনের মতো সাজাতে পারো। পছন্দের শোপিস কিনতে শপিং মলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনলাইন শপ থেকে আনিয়ে নিতে পারো পছন্দের শোপিস। আর অলংকিত করতে পারো সাধের ঘর। বাগানের শখ থাকলে করে নিতে পারো। এত দিন সময়ের অভাবে করতে পারছিলে না, তা এখন সাজিয়ে ফেলতে পারো মনের মতো করে। পছন্দের বইয়ের আলমারিটা জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। সময়ের অভাবে হাত দেওয়া হয়নি বইয়ের আলমারিতে। এখন পছন্দের বই দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারো আলমারিটা। অনেকেই ছবি আঁকতে পছন্দ করে। এত দিন হয়তো সময় মেলানো কঠিন ছিল। বর্তমান সময়টা ঘরে বসেই কাটাতে হয়। তাই জাগিয়ে তোলো সৃজনশীলতাকে। এঁকে ফেলো মনের শতরঞ্জি। অনেক দিন ধরে পছন্দের বারান্দাটা সাজাতে পারোনি। চাইলে এখন বারান্দাটাকে সাজাতে পারো একটু অন্য ধাঁচে।

মন ভালো তো শরীর ভালো
মন ভালো থাকলেই ভালো থাকবে শরীর। শরীরের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যেকের উচিত মনকে আগে ভালো রাখা। কারণ, আমাদের মন ভালো থাকলেই শরীর ভালো থাকে। যেকোনো কাজে আমরা দারুণ উৎসাহ পাই যখন আমাদের মন ভালো থাকে। তাই যে কাজটা আমরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে না করে মনোযোগ দিয়ে করি, তা আর পাঁচটা কাজের থেকে ভালোভাবে শেষ হয়। তবে বলতেই পারো যে এই করোনাকালে নিজেকে ঘরবন্দী রেখে মন কীভাবে ভালো রাখব? হ্যাঁ, আমি বলব এই সময়ে নিজেকে ঘরবন্দী করেও নিজের মন ভালো রাখা যায়। আর তার জন্য চাই নিজেকে সব সময় সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা। কারণ যখন আমরা বাড়িতেও নিজেকে পরিপাটি করে রাখব, তখন আমাদের মনও সতেজ থাকবে।

এখন যদি একটু লক্ষ করি তাহলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে এখন অনেক বিউটি ব্লগার কাজ করছেন এবং তারা তাদের ভিডিও টিউটোরিয়ালের মধ্যে সাজসজ্জাকে এক অন্য রকম ধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। আগে যেমন কোনো বিয়ে বা কারও জন্মদিন কোনো অথবা যেকোনো অনুষ্ঠানের কথা শোনামাত্র মাথায় আসত কোন পারলারে সাজব! কিন্তু এখন আর পারলার থেকে সাজার ঝামেলা নেই। কারণ, বিউটি ব্লগারদের ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখেই সাজের কাজটা কোনো ঝামেলা ছাড়া বাড়িতেই সেরে ফেলা যায়।

ছবি: ইন্টারনেট

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twenty − 8 =