মস্তিষ্ক ভালো রাখার সেরা খাবার

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

সুস্থ দেহ,সুস্থ মন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেহঘড়ি চলাচল কমে যায়। প্রাকৃতিক নিয়মেই মস্তিষ্কেরও ক্ষয় হতে থাকে। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে, একটিভ থাকতে আজ এমন কিছু খাবার নিয়ে বলবো যেগুলো এর স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে পারে।

সারাদিন আমাদের কত কিছু চিন্তা করতে হয়।  কি অফিস বা ব্যবসার কথাই হোক অথবা ঘরোয়া কোন ব্যাপার। আর এই চিন্তা করার জন্য কতটা শক্তির প্রয়োজন হয় তা আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি? বাস্তবে, মস্তিষ্কের কাজ ভালোভাবে করার জন্য প্রচুর জ্বালানীর প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, গড়ে আমরা প্রতিদিন যে ক্যালোরি পোড়াই তার প্রায় ২০% মস্তিষ্কের জন্য দায়ী। আর এই জন্য আমাদের এমন কিছু খাবার গ্রহন করতে হবে যা ব্রেনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তেমন কিছু খাবার হল-

সবুজ শাকসবজি   

সবুজ শাকসবজি শরীরের জন্য বিশেষ করে মস্তিষ্কের জন্য ভাল। এই সবজিগুলো বিটা-ক্যারোটিন, ফলিক অ্যাসিড, লুটেইন এবং ভিটামিন কে- এর মত মস্তিষ্ক উদ্দীপক পুষ্টিতে সমৃদ্ধ।

বাদাম

বাদাম প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত। এগুলোও মস্তিষ্কের দূর্দান্ত খাবার। প্রতিটা বাদামের অনন্য উপকারিতা আছে। পেস্তা, অ্যালমন্ড এসব কিছুই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে। কিন্তু যদি কার্যক্ষমতাকে বুস্ট করাতে চাও তবে ওয়ালনাট বা আখরোট বেছে নেয়া যেতে পারে। এগুলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ন। এক গবেষণায় দেখে গেছে যে প্রাপ্তবয়স্করা যারা প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ গ্রাম বাদাম খান তাদের জ্ঞানীয় স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল যারা কম খেয়েছে তাদের তুলনায়।

চা এবং কফি

গবেষকরা ক্যাফেইনের মস্তিষ্কের তথ্য-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। কফিতে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও গ্রিন টি এল-থেনাইন সমৃদ্ধ। এই শক্তিশালী অ্যামিনো অ্যাসিড স্ট্রেস এবং উদ্বেগ পরিচালনা করতে সাহায্য করে যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপুর্ন।

টমেটো

টমেটোর লাইকোপিন-এ সমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কের জন্য সেরা খাবার। এই শক্তিশালী ক্যারোটিনয়েড আলঝাইমার এবং পারকিনসন মত ব্যাধি বন্ধ করতে দেখানো হয়েছে। একটি তাজা ,মাঝারি টমেটোতে প্রায় ৩.২ মিলিগ্রাম লাইকোপিন থাকে এবং প্রতিদিন ৯ থেকে ২১ মিলিগ্রাম লাইকপিন সবচেয়ে উপকারী হতে পারে।

গোটা শস্য

গোটা শস্য যেমন গম, ওটমিল, বার্লি এবং বাদামী চাল একটি সুষম খাদ্যের অপরিহার্য অংশ এবং এরা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে সমর্থন করতে পরিচিত। অনেক শস্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, একটি গুরুত্বপুর্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রি র‍্যাডিক্যালের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে এবং স্নায়বিক ক্ষতি প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন ৩ সার্ভিংস বা কমপক্ষে ৪৮ গ্রাম এই শস্য গ্রহন করা উচিৎ।

ব্রকলি

শাকসবজিই একমাত্র সবুজ শাকসবজি নয় যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য সারা খাবারের তালিকা তৈরি করে। ব্রকলি এবং অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজিও গুরুত্বপুর্ণ। এই সবজিতে উচ্চমাত্রায় গ্লুকোসিনোলেট থাকে। পানির সাথে মিলিত হলে এই যৌগগুলো আইসোথিওসায়ানেত তৈরি করে, শক্তিশালী বিপাকে যা নিউরোপ্রাটেক্টিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে পরিচিত।

ডার্ক চকলেট

মস্তিষ্কের জন্য যদি ভাল খাবার খুঁজো তাহলে ডার্ক চকলেটের কথা মাথায় নাও আসতে পারে। কিন্তু ডার্ক চকলেট এই তালিকার অন্যান্য খাবারের অনেক উপকারিতা একত্র করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ক্যাফিনে পূর্ন। সপ্তাহে কয়েকবার ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। সর্বাধিক সুবিধা পেতে এবং চিনি থেকে ক্যালোরি সীমিত করতে এটি কমপক্ষে ৭০% ডার্ক তা নিশ্চিত করতে হবে।

তৈলাক্ত মাছ

তৈলাক্ত মাছ খাওয়া মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উপকারী। স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকারেল ইত্যাদি মাছ নিয়মিত খাওয়া উচিৎ।

বীজ

এগুলো ছোট হতে পারে, কিন্তু পুষ্টির দিক দিয়ে বাদামের মতই কাজ করে। সূর্যমুখী বীজ, বিশেষ করে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। কুমড়োর বীজে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও তামা, আয়রন,ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্কের মত গুরুত্বপুর্ন খনিজ পদার্থ।

ডিম

ডিমে বি৬, বি১২, বি৯ (ফলিক অ্যাসিড) সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ন বি ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এই ভিটামিনগুলো মস্তিষ্কের সংকোচন রোধ করতে এবং বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক পতন রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

five + eighteen =