মাইক্রোওয়েভ ওভেনঃকেনার আগে বিবেচ্য বিষয়

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

বাঙ্গালী ভোজন বিলাস জাতী। ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল ও মুখরোচক রন্ধনপ্রণালীর জন্য তারা সুপরিচিত। কিন্তু বর্তমান কর্মব্যস্ততায় রান্নার পেছনে সময় দেয়ার মত অত অফুরন্ত সময় নেই কারোরই। সময় বাঁচাতে ও চটজলদি রান্নার কাজ সমাধা করতে তাই বেশিরভাগই মানুষেরই চয়েসে থাকে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। ঘরের হেঁসেলে এই ওভেন আনার আগে কিছু বিষয় আগে থেকেই বিবেচনা করে রাখা ভালো।

সেই দিনগুলো চলে গেছে যখন মাইক্রোওয়েভ ওভেনকে কেবল পুনরায় খাবার গরম করার যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হত। প্রযুক্তি উদ্ভাবনএবং অগ্রগতির সাথে, এখন আমাদের কাছে মাইক্রোওয়েভ রয়েছে যা মাল্টিটাস্ক করতে পারে এবং শুধুমাত্র পুনরায় গরম করার চেয়ে আরও অনেক কিছু করতে পারে। অল্প পরিসরে জায়গা নেয়া এর উপস্থিতি রান্নাঘরের সেটিং ড্রামাটিক্যালি পরিবর্তন করে।  দোকান বা অনলাইন যেক্ষেত্র থেকেই ওভেন কেনার পরিকল্পনা করো না কেন সেখানে অন্তহীন বিকল্প, বিভিন্ন টাইপস, সাইজ কনফিগারেশন এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ফিচারের সম্মুখীন হবে যা দেখা যাবে পুর্বেও শোনা হয়নি। তাই চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে মাইক্রোওয়েভ ওভেন কেনার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে সেগুলোর উপর এখানে ছোট একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের প্রকারভেদ

বাজারে সাধারনত তিন ধরনের মাইক্রোওয়েভ ওভেন দেখতে পাওয়া যায়। যেমনঃ সলো, গ্রিল এবং কনভেকশন।

সলো মাইক্রোওয়েভ ওভেন

এটি হল মাইক্রোওয়েভের সাধারন মডেল যা শুধুমাত্র খাবারকে গরম করা, প্রস্তুত খাবার রান্না করা এবং হিমায়িত খাবার ডিফ্রোস্ট করার জন্য আদর্শ।

গ্রিল মাইক্রোওয়েভ ওভেন

গ্রিল মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সলো মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মত একই মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো অফার করে এবং এতে এক্সট্রা গ্রিলিং বিকল্পের বৈশিষ্ট্য আছে। এই ধরনের মডেলে তাপ উৎপন্ন করার জন্য কয়েল থাকে। এই গরম কয়েলে ভাঁজ আএবং রোস্টিং প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে।

কনভেকশন মাইক্রোওয়েভ ওভেন

এই ধরনের ওভেনে সমানভাবে খাবার রান্না করতে একটি গরম করার উপাদান এবং একটি অভ্যন্তরীণ পাখা ব্যবহার করে। এই ওভেনগুলো কেক বা রুটি বা রোস্টিং মুরগি এবং আরও অনেক কিছু বেক করার জন্য আদর্শ। এতে ডিফ্রস্ট, হিট, রোস্ট, ব্রাউন, খাস্তা, বেক এবন ফুড কুক মেনুর মত বিস্তৃত পরিসরের ফাংশন অফার করে।

কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়

-আমরা আগেই জেনেছি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের প্রকারভেদগুলো। এখন আগে ঠিক করে নিতে হবে যে ক কাজে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করা হবে। এবং প্রয়োজন অনুযায়ি উপরের এই তিন ক্যাটাগরির মধ্য থেকে নির্বাচন করতে হবে।

-রান্নাঘরের সাইজের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে। এই মাল্টিফাংশনাল অ্যাপ্লায়েন্সটি .৫ কিউবিক ফুট থেকে ১.৫ কিউবিক ফুট মডেল পর্যন্ত সব কিছুতেই আসে। কিন্তু কেনার আগে তোমাকে বিবেচনা করতে হবে রান্নাঘরে কোন জায়গায় এটা রাখা হবে।

-ওয়াটেজ কত তা দেখে নিতে হবে। ওয়াটেজ যত বেশি হবে মাইক্রোওয়েভ তত বেশি কাজ করবে। এটি বেশি তো রান্না দ্রুত হবে। একটি পূর্ন খাবার প্রস্তুত করার জন্য একটি বড় মডেল এবং উচ্চ ক্ষমতা প্রয়োজন হবে। ফুল সাইজের ওভেন ১০০০-১৬০০ ওয়াট পাওয়ার এবং মিড সাইজ ওভেন ৮০০-১০০০ ওয়াট পাওয়ারের সাথে আসে। যদি ১-২ জনের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে হয়, তবে একটি কম শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভও যথেষ্ট।

-কন্ট্রোল পযানেল কি ধরনের হবে তা চেক করতে হবে। মূলত মেকানিক্যাল কন্ট্রোল প্যানেল হেভী ও সবসময়ের জন্য উত্তম।

-ইজি ক্লিনিং অপশন দেখে নিতে হবে।

– নিরাপত্তার জন্য চাইল্ড সেফটি লক আছে কিনা দেখতে হবে।

-মাইক্রোওয়েভ ওভেনে আজকাল রান্নার প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য বিভিন্ন ফিচার অফার করে। একটি নতুন ওভেন কেনার আগে স্বয়ংক্রিয় ডিফ্রস্ট, প্রি-হিট বা বিশেষ প্রি-প্রোগ্রাম করা সেটিং এর মত বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কেও সচেতন হওয়া উচিৎ। বিশেষ করে যারা রান্নায় নতুন তাদের জন্য অটো কুক অপশনটি অনেক বড় বিকল্প হতে পারে।

নিজের এবং পরিবারের জন্য সর্বোত্তম মাইক্রোওয়েভ ওভেন বেছে নেয়ার জন্য কিছু সময় বিনিয়োগ করলে সঠিক পন্যটি সঠিক দামে কিনে নিতে পারা যায়।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nineteen − 16 =