মিষ্টি আলুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

দেহ সুস্থ, ভালো ও কার্মচাঞ্চল্য রাখতে জ্বালানীর প্রয়োজন। আর শরীরে এই জ্বালানীর কাজ করে খাদ্য। খাদ্যের সকল পুষ্টিগুণ কম-বেশি শরীরের জন্য প্রয়োজন হয়। মিষ্টি আলু এমন এক জাদুকরী খাদ্য যা সুগার নিয়ন্ত্রনে, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, শরীরে ওজন নিয়ন্ত্রনে, হজম শক্তিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।  

উইসকনসিন-লা ক্রস বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, ৫০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিষ্টি আলু বিশ্বব্যাপী একটি রন্ধনসম্পর্কীয় ছাপ তৈরি করেছে। এগুলি আফ্রিকান, ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের ছিল খাবারের প্রধান। মিষ্টি আলু বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। যেমন- সাদা, বেগুনি, কমলা ও হলুদ। তবে অধিকাংশ অঞ্চলে বেগুনি ও সাদা রঙয়ের আলুই দেখা যায়। যে কোন খাবারের প্রিপারেশনের সাথে এটি যোগ করলে একটি টেস্টি, কালারফুল ফলাফল পাওয়া যাবে; এবং সেই সাথে প্রচুর পুষ্টিও। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার এবং ম্যাঙ্গানিজ সহ অসংখ্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা, একাধিক সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সুবিধার নির্দেশনা দেয়। মিষ্টি আলুর এমন কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে

মিষ্টি আলু সাদা আলুর তুলনায় বেশি হেলথ বেনেফিট রয়েছে, তন্মধ্যে এটি রক্তে শর্করার প্রভব নিয়ন্ত্রন করতে পারে। সাদা আলুর তুলনায় মিষ্টি আলুতে ফাইবার বেশি থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের জন্য আরো স্থিতিশীলতা প্রদান করতে পারে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) নোট হিসেবে, প্রতি ১ কাপ পরিবেশনে ৬.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে, রাসেট আলুর তুলনায় প্রতি কাপে ২ গ্রাম। যদিও মিষ্টি আলু একটি স্টার্চযুক্ত খাবার, তবে এর মধ্যে থাকা ফাইবার আলু থেকে শর্করার পরিপাককে ধীরগতিতে সাহায্য করতে পারে। তাই যদি ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কিছু খাবার পছন্দ করতে হয় তবে পরিমিতপরিমানে মিষ্টি আলু গ্রহন হবে বেস্ট চয়েস।

চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে

আমরা জানি চোখের দৃষ্টি বাড়াতে গাজরের ভূমিকা অনেক। তবে এই কমলা সবজী শুধু নয়, মিষ্টি আলুর সাথেও চোখের স্বাস্থ্যের একটি সংযোগ রয়েছে- এবং এটি সবই তাদের প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ-এর উপর নির্ভর করে। তারা এই পুষ্টির একটি চমৎকার উৎস বলে ইউএসডিএ মন্তব্য করেছে। ভিটামিন এ সামগ্রিক দৃষ্টি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এ ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, বিটা- ক্যারোটিন (ভিটামিন এ এর পূর্বসুরী) বেশ কয়েকটি পুষ্টির মধ্যে একটি যা ম্যাকুলার অবক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে অবদান রাখে। শুধু তাই নয় বয়স সম্পর্কিত ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। ডায়েটেশিয়ান সসেদা’র মতে, এর মধ্যে উচ্চ বিটা-ক্যারোটিন সামগ্রী রয়েছে। বিটা-ক্যারোটিন একটি ক্যারোটিনয়েড, যা একটি ফাইটোকেমিক্যাল যা ভিটামিন এ তে রুপান্তরিত হতে পারে। লুটেইন এবং জেক্সানথিনের মত অন্যান্য ক্যারোটিনয়েডের সাথে, এটি ম্যাকুলার স্বাস্থ্যের সাহায্য করে।

 হজমে সহায়তা

কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়রিয়ার মত হজম সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সাথে লড়াই করার ক্ষমতা আছে মিষ্টি আলুর। এতে দ্রবনীয় ফাইবার থাকে যা সহজে এবং অনায়াসে এই প্রবলেমগুলো সলভ করে দেয়। গবেষণায় দেখা যায়, ফাইবারের এই দ্রবনীয় রূপটি কোলনে পানি শোষণ করে এবং ভাল অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য সরবরাহ করে। বেগুনি মিষ্টি আলু ডায়রিয়া নিরাময়ের জন্য বিষেষভাবে সহায়ক। ফুড এন্ড ফাংশনে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি প্রানী গবেষণায় দেখা গেছে, যখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ইঁদুরকে বেগুনি মিষ্টি আলু খাওয়ানো হয়েছিল, তখন এটি তাদের অন্ত্রের বৈচিত্র্য পরিবর্তন করে, তাদের উপসর্গগুলি উপশম করে।

কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য রক্ষা

পরিমানমত মিষ্টি আলু খেলে তা ডায়াবেটিস রোগীদের কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা হওয়ার যে আশংকা থাকে তা দূর হয়। একটি ৫ ইঞ্চি মিষ্টি আলুতে ৪ গ্রাম ফাইবার রয়েছে যা রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। শুধু তাই নয়, এথেকে প্রতিদিনের পটাশিয়ামের ৯ শতাংশও পাওয়া যাবে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার শরীরকে অতিরিক্ত সোডিয়াম হতে পরিত্রান পেতে এবং রক্তনালীর দেয়ালকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রনে সাহায্য

উচ্চ কার্বোহাইড্রেট সামগ্রীর কারনে, ওজন নিয়ন্ত্রনের জন্য ডায়েট চার্টে আমরা কোন ধরনের আলু যুক্ত নাও করতে পারি। কিন্তু খাবারের সংখ্যা কমানোর জন্য মিষ্টি কন্দকে কোনভাবে ছাড় দেয়া ঠিক হবেনা। খাবারের মধ্যে পূর্ণ বোধ করার পাশাপাশি তাদের প্রচুর ফাইবার যোগ হয় (পুরুষদের জন্য ৩৮ গ্রাম এবং নারীদের জন্য ২৫ গ্রাম)। মিষ্টি আলু এমন একটি বহুমুখী সবজি যা দিনের যেকোন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ। এবং এটি গ্রহনের ফলে তাতে পেট দীর্ঘক্ষন ভর্তি থাকে। এতে ওবেসিটি হ্রাস করে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × five =