মেঝেতে ওম

করেছে Tania Akter

সুরাইয়া নাজনীন

শীতের সাজ হবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ঘরে থাকবে গাঢ় আর উজ্জ্বল রঙের সমারোহ। এ সময়ে হালকা বা অম্লান রঙের বদলে লাল, নীল, হলুদ, কমলার মতো গাঢ় রং ছড়িয়ে দেওয়া যায় ঘরের চার দেয়ালে। এর ফলে শীতের হিমেল হাওয়া খুব একটা জড়সড় করতে পারবে না, তেমনিভাবে মেঝেতেও ওম দেওয়া যায় রঙিন আবেশে, রঙিন কার্পেটে।

 

 

শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা কিংবা হালকা হিমেল বাতাস দুটিই কিন্তু ঋতুবৈচিত্র্যের আমেজে ভরপুর। তবে ঘরের ভেতরেও আনুষঙ্গিক বাড়তি কিছু সতর্কতা খুব প্রয়োজন এই শীতল মৌসুমে। আমরা বরাবরই গ্রীষ্মকালে ঘরের সাজে হালকা রঙের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কিন্তু শীতের সাজ হবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ঘরে থাকবে গাঢ় আর উজ্জ্বল রঙের সমারোহ। এ সময় হালকা বা অম্লান রঙের বদলে লাল, নীল, হলুদ, কমলার মতো গাঢ় রং ছড়িয়ে দিতে পারো তোমার ঘরের চার দেয়ালে। এর ফলে শীতের হিমেল হাওয়া খুব একটা জড়সড় করতে পারবে না তোমার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে।

আবার গাঢ় এবং উজ্জ্বল রঙে ঘরের প্রতিটি কোণ থাকবে বেশ উষ্ণ এবং আরামদায়ক। তবে যাদের অন্দর আগে থেকেই সাদা রঙে রাঙানো, তাদের চিন্তার কিছু নেই। দেয়ালের সাদা রং পরিবর্তন বা নতুন করে কিছু করতে না চাইলে ব্যবহার করতে পারো ওয়ালপেপার। বর্তমানে বাজারে নানান ধরনের ডিজাইন আর নকশায় ওয়ালপেপার পাওয়া যাচ্ছে। সঠিকভাবে দেয়ালের জন্য ওয়ালপেপার নির্বাচন করে তোলা যায় ঘরের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য।

 

 

মেঝের হিম হিম ঠান্ডা থেকে রক্ষায় খুব প্রয়োজন এ সময় কার্পেট বা শতরঞ্জি। শোবার ঘরে খাটের পাশেও রাখতে পারো ভারী কার্পেট বা শতরঞ্জি। শিশুদের ঘরে মেঝেজুড়েই ব্যবহার করতে পারো শতরঞ্জি। আবার খাটের পাশে, পড়ার টেবিলের পাশে বা দরজায় আলাদা শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারো। ঘরের আসবাবের আকৃতি এবং রং অনুসারে কার্পেট বা শতরঞ্জির ব্যবহার যেন আকর্ষণীয় হয়ে ফুটে ওঠে।

 

 

 

তবে শীতকালের ঠান্ডা বাতাসের পাশাপাশি সবচেয়ে উটকো ঝামেলা হলো মশার আধিপত্য। ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন মশার উপদ্রব বেড়ে যায় বহুগুণে। আর এই সব মশা বিভিন্ন রোগের জীবাণু বয়ে নিয়ে বেড়ায় পাশাপাশি মশার কামড়ে অনেকের অ্যালার্জির মতো সমস্যা হয়। বাজারে মশার প্রতিষেধক অনেক স্প্রে আর ওষুধ রয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক এক সহজ উপায়েও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। আর তা হলো ধোঁয়া। ঘরে ধোঁয়া থাকলে অনেকের সমস্যা হয় বা চোখ জ্বালাপোড়া করে। তবে ধূপের গন্ধ বা ধোঁয়া কিন্তু অনেক বেশি সহনশীল। নানান ধরনের সুগন্ধিসহ মশা মারার স্প্রেও ব্যবহার করে নিতে পারো।

 

আর অন্দরে নির্মল উষ্ণ পরিবেশের পাশাপাশি সবচেয়ে দরকারি কাজ হলো পরিচ্ছন্নতা। যতটুকু সাধ্যের মধ্যে থাকবে অন্দর পরিষ্কার রাখতে হবে। দৈনন্দিন পরিচর্যা আর প্রকৃতির নির্মল আলো-বাতাস আমাদের এমনিতেই অন্দরের আভিজাত্য বাড়িয়ে তুলবে। আর ঠান্ডা হাওয়ায় ভরপুর শীত ঋতুর এই আমেজকে উপভোগ্য করে তোলার মাঝেই রয়েছে আনন্দ।

 

 

 

 

 

 

কোথায় কেমন কার্পেট

ড্রয়িংরুমে যখন কার্পেট পাতবে, কার্পেটটা যেন এমনভাবে পাতা থাকে, যাতে সোফায় বসে পা কার্পেটের ওপরে থাকে। ফলে ঘরজুড়ে কার্পেট না পাতলেও চলবে। বেডরুমে কার্পেট পাতার জায়গা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তবু খাট থেকে নামার পর যেখানে পা রাখবে, সেখানকার মেঝেতে ছোট একটা কার্পেট পেতে রাখতে হবে, যাতে মেঝের ঠান্ডা সরাসরি পায়ে না লাগে। তবে কার্পেট ব্যবহারে কিছু কথা মনে রাখবে। বাথরুমে বা রান্নাঘরের আশপাশে, অর্থাৎ ভিজে পায়ে বেরিয়েই পা দিতে হয়, এমন জায়গায় কার্পেট রাখবে না একেবারেই। কারণ কার্পেট ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

 

 

 

 

নিয়ম মেনে কার্পেট ব্যবহার

শুধু ঠান্ডা থেকে রেহাই পেতে নয়, সৌন্দর্যের বিষয়টিও মাথায় রেখে অন্দরে কার্পেট ব্যবহার করা শ্রেয়। আবার কার্পেটের পাশাপাশি নকশিকাঁথা বা শতরঞ্জিও ব্যবহার করা যেতে পারে। বড়দের পাশাপাশি শিশুদের ঘরেও কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে বাহারি রঙের কার্পেটগুলো ওরা খুব পছন্দ করে। শোবার ঘরে বিছানার চাদর ও পর্দার রঙের সঙ্গে মিল রেখে কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। আর খাবার ঘরে কিছুটা কালচে রঙের কার্পেট ব্যবহার করা ভালো। একইভাবে ঘরের পুরোটাজুড়ে (ওয়াল টু ওয়াল) কার্পেট বাড়িতে না পাতাই ভালো। কারণ ফিক্সড কার্পেট হলে বারবার সরিয়ে ধুলা পরিষ্কার করা বেশ কঠিন। ভ্যাকিউম ক্লিনারটা নিয়মিত ব্যবহার করবে কার্পেটের ভেতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে। কার্পেটে ধুলা জমা একটা সমস্যা। বাড়ির কারও যদি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকে, তাহলে কার্পেটের ধুলায় সমস্যা হতে পারে। আর শীতের সময় তো এ ধরনের সমস্যা একটু বেশিই হয়। তাই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে কার্পেটের ব্যবহার না করাই ভালো।

 

 

 

রকমফের

বসার ঘরে দিতে পারো চৌকোনা কার্পেট, শোবার ঘরে দেওয়া যেতে পারে ডিম্বাকার অথবা গোলাকার কার্পেট। আর রং হবে রুচি অনুযায়ী। তবে ঝঞ্ঝাট কমাতে ব্যবহার করা যায় কফি, চকোলেট, মেরুন, সবুজ, ব্রাউন অথবা জলপাই কালারের কার্পেট। কারণ এই রংগুলো ঘরের যেকোনো রঙের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ঘরের জন্য মোটা কার্পেট ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ, সেগুলো পরিষ্কার করতে বেশ বেগ পেতে হয়।

 

 

 

কার্পেটের যত্ন

কার্পেট সম্ভব হলে বছরে তিনবার পরিষ্কার করতে হবে। কার্পেটের দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য ড্রাইওয়াশ করাটাই উত্তম। কার্পেট কিছু সময় রোদে দিতে পারো, ফলে রোগজীবাণু ধ্বংস হবে। তবে বেশি সময় রোদে রাখা ঠিক নয়। তাতে কার্পেটের রং এবং স্থায়িত্ব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। তবে কার্পেট পরিষ্কারের জন্য সবচেয়ে উত্তম পন্থা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা। এটা দিয়ে পরিষ্কার ভালো হয় এবং কার্পেটের স্থায়িত্বও বাড়ে।

 

ছবি: সংগৃহীত

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

6 + thirteen =