মেহেদি উৎসব যেন ফ্যাকাশে না হয়

করেছে Sabiha Zaman

সুরাইয়া নাজনীন

উৎসব রাঙাতে মেহেদি লাগবেই। তবে এখনকার দিনগুলো যেন ফ্যাকাশে হয়ে উঠছে। করোনা পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। মনটাকে চাঙা রাখতে উৎসবে মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাবে কমবেশি সবাই। ঈদ বহু প্রতীক্ষার উৎসব। তাই চাঁদরাত যেন মলিন না হয়। রং ঝলমলে হয়ে উঠুক মেহেদিরাঙা হাতে।

যেহেতু হাতে মেহেদি দেওয়ার পর বেশ কিছুদিন সেই রং থাকে, তাই মেহেদির নকশা হতে হবে আকর্ষণীয়। এবার দুই ধরনের নকশার চল থাকবে। ছোট ছোট মোটিফে একটু হালকা নকশা যেমন চলবে, তেমনি অনেকে দুই হাত ভরে ঘন করেও মেহেদি লাগাবে। সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে হালকা নকশার মেহেদি।

ঈদ উৎসবের বিশেষত্ব বহন করে মেহেদি। ঈদের দিন কোন ধরনের পোশাক পরা হবে, তার ওপর অনেকটা নির্ভর করবে মেহেদির নকশা। এখন প্রিন্টেড কামিজের চল দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে খুব ঘন করে মেহেদি না লাগানোই ভালো। আর ঈদ পোশাকটি যদি হয় লম্বা হাতার, তাহলে কনুই পর্যন্ত না দিয়ে হাতের তালুতে এবং ওপরে পছন্দমতো নকশা করা যেতে পারে। মেহেদির রঙের ক্ষেত্রে গাঢ় মেরুন এবং লাল রংটাই বেশি পছন্দ করে সবাই। যদি কারও কালো মেহেদি পছন্দ থাকে, তাহলে হাতের তালুতে পুরো মেহেদি দেওয়ার পর সুন্দর একটি আউটলাইন হিসেবে কালো মেহেদি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা দেখতে বেশ গোছানো লাগে, বললেন রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান।


ঈদের দিন বিকেলে নিজেকে একটু ফ্রি রাখতে ফতুয়া, জিনস, কুর্তা বেছে নেয় অনেকে। সে ক্ষেত্রে মেহেদির নকশা জ্যামিতিক হলে ভালো লাগবে। আর শাড়ি পরলে বিভিন্ন ফুলেল নকশা মানানসই হবে।
মেহেদির সতর্কতার ব্যাপারে কানিজ আলমাস আরও বলেন, যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তারা সচেতন থাকবে আগে থেকেই। ভালো হয় গাছের মেহেদি বেটে লাগালে। সময় না থাকলে তারা সংরক্ষিত মেহেদি লাগাতে পারো। এতে কেমিক্যাল কম থাকে। আর কালো মেহেদি তাদের জন্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিউটি স্যালন রেড-এর রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ঈদের আনন্দ যত দিন থাকে, মেহেদিও তত দিন তার সঙ্গে সঙ্গ দেয়। মেহেদির প্রচলন অনেক আগের কিন্তু এখন এর ধারার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মডার্ন ফরম্যাটটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে সবাই। ঈদের দিন বাড়িতে টুকটাক সবারই কিছু কাজ থাকে। তাই এবার মেহেদির জড়োয়া কাজ প্রাধান্য পাবে হাতের ওপরে। দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে প্রতিটি নকশার মধ্যে গ্যাপ থাকবে একই রকম। এখন অনেকে ট্যাটু নকশাও পছন্দ করছে। তবে ট্রাডিশনাল নকশা কিংবা জ্যামিতিক নকশা যেটাই হোক না কেন, সেটা হতে হবে আর্টিস্টিক।

বাজারে অনেক ধরনের আকার ও দামের মেহেদি পাওয়া যায়। ৩০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকার মধ্যে পছন্দমতো রঙের মেহেদি পাবে। আর বিভিন্ন বিউটি স্যালনে মেহেদি পরানোর দামের ভিন্নতা রয়েছে। এটা নির্ভর করবে নকশার ওপর।

এখন পুরোনো মেহেদি না লাগিয়ে আঙুলের পাশ দিয়ে মেহেদির নকশা করাই হালের ফ্যাশন। আর নখে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে নেলপলিশ দিলে আরও ভালো মানাবে। তা ছাড়া হাতের গড়ন বুঝে মেহেদি লাগানো উচিত।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবে

  • মেহেদি কেনার আগে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেবে।
  • হাতের সব কাজ শেষ করে একেবারে ফ্রি হয়ে তারপর মেহেদি লাগাতে বসবে।
  • হাতটাকে ভালো করে পরিষ্কার করে নাও।

 ভেজা হাতে মেহেদি লাগাবে না, শুকনো হাতে মেহেদি লাগাবে।
হাতে লোশন বা অয়েলি কিছু লাগাবে না, এতে মেহেদির রং ভালো বসবে না।
মেহেদির রংটা আরও বেশি লাল করার জন্য মেহেদি ওঠানোর পর ব্যবহার করতে পারো চিনি ও লেবুর রস।
শিশুদের হাতে মেহেদি দেওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। আগে সামান্য মেহেদি লাগিয়ে দেখতে পারো, কোনো সমস্যা না হলে বাকিটা লাগাও।

ছবি: সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × three =