মেয়েদের হতে হবে স্পষ্টবাদী-মালিহা এম কাদির

করেছে Rodoshee Magazine

বাংলাদেশি নারী ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মালিহা এম কাদির। তার প্রথম উদ্যোগ সহজডটকম। গেল বছর বিশ্বের তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স ক্লাস অব-২০১৭’ পুরস্কার পেয়েছেন। অনূর্ধ্ব-৪০ বছরের উদ্ভাবনী ও উদ্যমী নারী-পুরুষদের যারা নিজেদের গণ্ডি ও বাইরের দুনিয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন, তাদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। আর এ বছর জানুয়ারিতে শুরু করেছেন রাইড শেয়ারিং সেবা সহজ রাইড। রোদসী আড্ডায় মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। আড্ডায় মেতেছেন রোদসী সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমীনের সঙ্গে।
সাবিনা ইয়াসমীন : আপনার ছোটবেলা, বেড়ে ওঠার গল্প শুনতে চাই।
মালিহা এম কাদির : বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন। আম্মা জীবন বিমা করপোরেশনে চাকরি করতেন। ছোট বোন ছিল, মারা গেছে। মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। আমাকে নিয়েই তাদের সমস্ত উচ্চাকাক্সক্ষা। ছোটবেলায় ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করতে বাইরে যাব। ঢাকায় ইংলিশ মিডিয়াম থেকে ও লেভেল সম্পন্ন করে আমেরিকায় চলে যাই। সেখানে স্মিথ কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইকোনমিকসে স্নাতক সম্পন্ন করি। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ। অনেক উচ্চাকাক্সক্ষা ছিল। আম্মা তো বলত এত উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত নয়। যেটা বুঝতাম নাম্বার ওয়ান, ওটাই করতাম। আমি ক্লাসে সারা জীবন ফার্স্ট ছিলাম। একবার ক্লাস থ্রিতে পক্স হওয়ার কারণে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছিলাম। কান্নাকাটিতে পুরো বাড়িতে হুলুস্থূল। স্বপ্ন ছিল আর্কিটেক্ট হবো। কিন্তু রসায়নে দুর্বল ছিলাম। অষ্টম শ্রেণিতে সায়েন্স না নিয়ে অর্থনীতি নিলাম। কম্পিউটার সায়েন্সের পর অর্থনীতি পড়লাম। অফিসের ডেকোরেশনের পরিকল্পনা আমার। এখনো মনে হয়, ব্যবসা শেষ করে অবসরে গেলে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ে মনোযোগ দেব।

সাবিনা ইয়াসমীন : যখন যাত্রা করেছিলেন, বাংলাদেশের অনলাইনে সাড়া ছিল না। উদ্যোগটা সাহসী ছিল।
মালিহা এম কাদির : এখনো নেই। তবে অনেক উন্নতি হয়েছে। সাহস ছিল, বুঝেই আসা।

সাবিনা ইয়াসমীন : সহজডটকম প্রতিষ্ঠার আইডিয়া কীভাবে আসে আর সহজ নামটা কীভাবে এলো?
মালিহা এম কাদির : কর্মজীবী নারী হিসেবে পেশাজীবনের শুরুতে মাথায় থাকত জীবন কীভাবে আরও সহজ হবে। আমেরিকায় ‘রিয়েল সিম্পল’ নামক একটা ম্যাগাজিন পড়তাম। ম্যাগাজিনের থিম ছিল হাউ টু মেক লাইফ সিম্পল। কাজগুলো কীভাবে দ্রুত ও সহজে করা যায়, সেসব পড়তাম। সহজডটকমের কাজই হলো মানুষের জীবনকে সহজ করা। নাম খুঁজছি। কল্পনার বিষয় ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে মানুষের জীবন সহজ করা যায়। সেখান থেকেই একটা নাম তৈরি করতে চাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমার মাথায় এলো। তা থেকেই সহজ। নামটা কিন্তু অনেক বিস্তৃত। আমি কোনো সহজ ট্রাভেল, সহজট্রিপ, সহজটিকিট এসব কিছুই নিইনি। ইচ্ছে ছিল টিকিট দিয়ে শুরু করব, তারপর অন্য সেবা। রাইড শেয়ারিং শুরু করলাম। আরও সার্ভিস আসবে।
মূলত বাস নিয়ে কাজ করছি। বাস ইন্ডাস্ট্রিতে সময় লেগেছে। সেক্টরটা খুবই পিছিয়ে আছে। কাজটা কঠিন, দুই দিকেই সহায়তা লাগে। সব দেশেই ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি বিশৃঙ্খল। রাস্তায় গাড়ি চালাতে অনেক ঝামেলা হয়। সেখানেও আমি বলব বাস মালিকেরা আমাদের অনেক সহযোগিতা দিয়েছেন। অনেক বাস অপারেটরের দ্বিতীয় প্রজন্ম বিদেশে পড়াশোনা করেছে। ওরা জিনিসটা সঙ্গে সঙ্গে নিয়েছে। ওদের জন্যই করতে পেরেছি। এখনো একটা করে অপারেটরকে অনলাইনে আনছি। কোনো অপারেটরের পেছনে পাঁচ বছর সময় লেগেছে।
তারপর তো টিকিট বিক্রি করলাম অনলাইনে। এখন যাত্রীরা কাউন্টারে গিয়ে যদি কোনো খারাপ ব্যবহার পায়, আমাদের নামে মামলা করে। কাউন্টারের লোকটা আমাদের না। তার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
সাবিনা ইয়াসমীন : সমস্যাগুলো থেকে বের হওয়া সম্ভব?
মালিহা এম কাদির : বেশির ভাগ বাস অপারেটরের সঙ্গে কোনোরকম ঝামেলা হয় না। ছোট অপারেটরদের সঙ্গেই সমস্যা দেখা দেয়। এখন ৭৭টি বাস অপারেটর, লঞ্চে আরও বেশি। ছোটখাটো বাস অপারেটর অনলাইনে চলেই এসেছে।
সাবিনা ইয়াসমীন : ঢাকার বাইরে থেকেও টিকিট কাটা যাচ্ছে?
মালিহা এম কাদির : বাস অপারেটরদের ওপর নির্ভর করছে। অনেক অপারেটরের আছে, অনেকের নেই। তারা খুব ধীরে এগোচ্ছে। ঢাকার বাইরের অনেক কাউন্টারকে কমিশনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
সাবিনা ইয়াসমীন : টিকিটিংয়ের পাশাপাশি সফটওয়্যারটাও দিচ্ছেন?
মালিহা এম কাদির : সফটওয়্যারটা, হার্ডওয়্যারও আমরা দিচ্ছি। প্রায় ৭০টা অপারেটরকে দিচ্ছি। প্রতিটি অপারেটরের জন্য সফটওয়্যার কাস্টমাইজ করা।
সাবিনা ইয়াসমীন : লঞ্চের টিকিটিংয়ে কেমন সাড়া?
মালিহা এম কাদির : লঞ্চের টিকিটিং আরও কঠিন। এক-দুটো অপারেটর অনলাইনের সুবিধা ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে। তাদের টিকিট ভালোই বিক্রি হচ্ছে। অন্যরা যদি এগিয়ে আসে, তাদের টিকিট আরও বেশি বিক্রি হতো। পরিবহন সেক্টরে সব মালিক ব্যবস্থাপনায় থাকে না। সেখানেই সমস্যাটা হয়।
সাবিনা ইয়াসমীন : থার্ড পার্টি নিশ্চয় আছে। যেমন, কমিশন কাউন্টারগুলোর কথা বললেন।
মালিহা এম কাদির : থার্ড পার্টি কমিশন কাউন্টার ওরা তো চায়ই না। ঢাকার প্রায় সব জায়গায় বাস কাউন্টার আছে। এদের বেশির ভাগই অবৈধ। বাস কাউন্টার থাকবে গাবতলী-সায়েদাবাদে। যদি বাসার পাশেই কাউন্টার চলে আসে, তবে অনলাইন থেকে টিকিট কেন কিনবে? ওদের ব্যবসার ক্ষতি হবে না অনলাইনে বিক্রি করলে। যদি অলিগলিতে বাস কাউন্টার না থাকত, তাহলে এত চ্যালেঞ্জ ছিল না।
সাবিনা ইয়াসমীন : নতুন প্রজন্ম একবার অভ্যস্ত হলে অনলাইনে আসবেই।
মালিহা এম কাদির : পৃথিবীর সব দেশে অনলাইনেই টিকিটিং হয়। প্রথমদিকে আমরা সুবিধা পাচ্ছি, উল্টো দিকে সমস্যায়ও পড়ছি। সবাইকে বুঝিয়ে নিয়ে আসা, অনলাইনের উপযোগী করা, কম্পিউটার-প্রিন্টারও দিচ্ছি। ট্রেনিং দিচ্ছি কিন্তু এগুলো থেকে আমাদের কোনো রিটার্ন নেই। সরকারের ডিজিটাইজেশনের কোনো পলিসিতে যদি অনলাইনের জন্য একটা কোটা থাকত এবং সে জন্য ট্যাক্স সুবিধা থাকত, তাহলে জিনিসটা অনেক সহজ হতো।
সাবিনা ইয়াসমীন: সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কখনো এ বিষয়ে কথা বলেছেন?
মালিহা এম কাদির : সরকারের পেছনে ওইভাবে দৌড়াতে গেলে একজন লোক সব সময় লাগবে। সুযোগ হলে বলেছি। ট্রেনের টিকিট পেলামই না।
সাবিনা ইয়াসমীন : তারপরও বিআইডব্লিউটিসির টিকিট পেয়েছেন।
মালিহা এম কাদির : যেভাবে হওয়া উচিত, পুরোপুরি হয়নি। পাঁচ বছর ধরে বলছি, আপনারা ডিজিটাইজ করুন। প্রতিদিনের টিকিটগুলো সফটওয়্যারে আনেন। তাহলে অনলাইনে সব খুলে দিতে পারব। কাজের সমন্বয়টা ভালো হতো। বিআইডব্লিউটিসির ৫০ ভাগের মতো টিকিট অনলাইনে। ভালোই বিক্রি হয়। টিকিটে কোনো কমিশন পাই না। ভোক্তাদের চার্জ থেকেই সামান্য আয় নিই।
সাবিনা ইয়াসমীন : সহজ রাইডে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
মালিহা এম কাদির : খুবই ভালো সাড়া পেয়েছি। আমাদের শহরের যাতায়াতব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা রাখে। প্রতিদিনের প্রোডাক্ট দিনের মধ্যে দু-তিনবার লাগে।
সাবিনা ইয়াসমীন : সহজ রাইড দেরি হয়ে গেল কিনা? এর মধ্যে অন্যান্য মোটরসাইকেল রাইড শুরু হয়ে গেছে।
মালিহা এম কাদির : আমরা জানুয়ারিতে যাত্রা করলাম। আর ছয় মাস অপেক্ষা করলে দেরি হয়ে যেত। মার্কেটটা অনেক বড়। অন্যরা এমন কিছু ছিল না যে এন্ট্রি করা যাবে না। কেউ যদি প্রতিদিন দু-তিন লাখ রাইড করে, তখন প্রবেশ কঠিন। সেদিক থেকে সময়টা ঠিক আছে। আগে বৈধ ছিল না। আমরা এলাম লিগ্যাল হওয়ার পরে।
সহজ একটা ব্র্যান্ড। অবৈধ একটা কিছু শুরু করলে ব্র্যান্ডটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। জানুয়ারির ৬ তারিখে আমরা যাত্রা করলাম, ৮ তারিখ সংসদে উঠল।
সাবিনা ইয়াসমীন : নারীদের জন্য আলাদা ভাবনা আছে কি?
মালিহা এম কাদির : এই প্ল্যাটফর্মে নারীদের আনব। নারীদের অনেকে ওভার প্লে করে। নারী চালক পাওয়া খুবই কঠিন।
সাবিনা ইয়াসমীন : আপনাদের রাইডারদের হেলমেট ব্যবহার, আইন মানা বাধ্যতামূলক ও সচেতন করার উদ্যোগ থাকবে?
মালিহা এম কাদির : নিরাপত্তাই প্রধান বিষয়। আমরা নিজেরা চালকদেরও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছি। নিরাপত্তা নিয়ে ফেসবুকেও ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। এ জন্যই আমরা দ্রুত শুরু করিনি। ২০১৫ থেকে সহজ রাইড করার ইচ্ছা ছিল। সে বছরের জানুয়ারিতে বিআরটিএ জানাল, এটা লিগ্যাল না। তারপর আমরা এগোইনি।
সাবিনা ইয়াসমীন : গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
মালিহা এম কাদির : সারাক্ষণই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। রেগে গেলেই লেখে। ভালো কথা বেশি লেখে না। এমনিতে সহজ রাইডের সাড়া খুবই ভালো দিচ্ছে। রাইডসে দুদিক থেকেই ভালো রিভিউ। আবার পেছনের অভিযোগ থাকেই।

সাবিনা ইয়াসমীন : আমাদের দেশের মেয়েরা যেভাবে কাজ করছে তা ঠিকভাবে হচ্ছে, নাকি অনেক বেশি বাধা বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়ছে বলে মনে করেন?
মালিহা এম কাদির : আমেরিকা, সিঙ্গাপুরে কাজ করেছি। সব জায়গায় একই রকম কমবেশি সমস্যা আছে। এ দেশের মহিলারা অনেক কাজ করে। আমার এটা দেখতে খুব ভালো লাগে। তারপরও মেয়েরা অনেক সমস্যায় পড়ে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের পলিসি থাকা উচিত। তবে আমাদেরও মনোভাবে পরিবর্তন আনতে হবে।
সাবিনা ইয়াসমীন : মেয়েদের সচেতন হওয়া ও নিজের সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। যতই সমস্যায় পড়ি, আমার যোগ্যতা দিয়েই কর্মক্ষেত্রে বিচার করতে হবে, সেটা বুঝিয়ে দেওয়া।
মালিহা এম কাদির : মেয়েদের আরও স্পষ্টবাদী হতে হবে। মেয়েরা চুপ থাকে, কথা বলতে চায় না। ওখানে আমার মনে হয় আমাদের মেয়েদের পরিবর্তন হতে হবে।
সাবিনা ইয়াসমীন : এই বোধটা খুব কম মেয়ের আছে। যারা হয়তো ভালো ফলাফল করছে, শিক্ষিত, বলছে আমরাও পারি। এটা যখন নিজের ভেতরে আসবে তখন তার পাশে ছেলে বসে কাজ করছে না মেয়ে, সেটা আসবে না। যে মেয়েটা চিন্তা করে আমরাও পারি, সে কিন্তু একটা অবস্থানে আসে।
মালিহা এম কাদির : আমি জীবনে কখনো চিন্তা করিনি আমি মেয়ে, আমার এটা করা উচিত। আমি প্রফেশনাল, তুমিও প্রফেশনাল। মেয়েরা হয়তো সংকোচ বোধ করে, এতগুলো ছেলের মাঝে কথা বলব, কি না কি মনে করবে। আমার ইন্ডাস্ট্রিতেও এ রকম হয়েছে। বাস অপারেটরদের সঙ্গে কোনো মেয়ে কাজ করতে যায়নি। আমি গিয়েছি, তারা খুবই সম্মান করে। ওভাবে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
সাবিনা ইয়াসমীন : আমারও মনে হয় মেয়েরা যদি তাদের জায়গায় সচেতন হয়, ইচ্ছেটা থাকে, এগিয়ে যেতে পারে।
মালিহা এম কাদির : ইভ টিজিংয়ের ব্যাপারটা কিন্তু আছে। আমি জানি না, এটা কী করে বন্ধ করা যাবে।
সাবিনা ইয়াসমীন : এই শিক্ষাটা স্কুল থেকেও হচ্ছে না। কেবল ঢেকে রাখা হয়। এটা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু চিন্তাই করা হয় না। কাজের মেয়েকে মারধর করছ, তোমার ছেলে যে অন্যায় করছে, সে চিন্তাটাই মাথায় আসছে না।
মালিহা এম কাদির : মা-বাবার কাছে দেখেই ছেলেমেয়ে শেখে। এই যে একবার ভুল ভেতরে ঢুকল। এই পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকেই শিক্ষাটা আসে।
সাবিনা ইয়াসমীন : পাঠ্যবই নৈতিক শিক্ষা শেখায়। এটা হয়তো গল্পের মধ্যে আসে। কিন্তু জীবনকে শেখায় ঘর। বাচ্চারা সেখান থেকেই শিখছে। ঘরকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
সাবিনা ইয়াসমীন : মেয়েদের জন্য কিছু বলার আছে?
মালিহা এম কাদির : বেশি করে কাজ করো। সংসার করলে চাকরি হবে না, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমার মনে হয় আত্মসম্মান নিয়ে থাকতে হবে। ছেলেমেয়েতে কোনো ব্যবধান নেই। যুদ্ধে গেলে শারীরিক কারণে মেয়েরা লড়াইয়ে সামান্য পিছিয়ে যেতে পারে। মাথায় তো কোনো ব্যবধান নেই।
সাবিনা ইয়াসমীন : মানুষ কিন্তু চলে বুদ্ধিতে, গায়ের জোরে নয়।
মালিহা এম কাদির : নারীরা চিন্তা করে আমি নারী, আমার জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা থাকবে। এ ধরনের ভাবনা ঝেড়ে ফেলো। সবার আগে আত্মসম্মানবোধ। এটা আমার কাজ ভালোভাবে করতে হবে। এটা থাকলে নারীরা এগিয়ে যাবে। আমার তো লজ্জা লাগে আমি কেন আমার স্বামীর ওপর নির্ভর করব।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

20 − two =