মোবাইল, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে যা করবে

করেছে Wazedur Rahman

প্লাস্টিক মানি বলতে যা বোঝায়, সাম্প্রতিক কালে তার গুরুত্ব ও ব্যবহার অপরিসীম। বাড়ির পাশের বাজারে নিয়মিত যেতে না হলে বেশির ভাগ সময়েই পকেটে খুব বেশি ক্যাশ নিয়ে চলাফেরা করে না কেউই। ইদানীং বাজারটুকুও গ্রসারি অ্যাপের মাধ্যমে করে ফেলে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। সেই সঙ্গে স্মার্টফোন ছাড়াও অচল জেন নেক্সট। ফোনের বিষয়টি অবশ্য যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে এর ওপরে নির্ভরশীলতা এতই বেড়ে গেছে যে কার্ড কিংবা ফোনটি হাতের নাগালে না থাকলেই চূড়ান্ত অসহায় লাগবে নিজেকে। রোজনামচাও যাবে আটকে।

অতএব, স্মার্টফোন কিংবা স্মার্টকার্ডটি কোনোভাবে খোয়া গেলে বা খুঁজে না পেলে তৎক্ষণাৎ কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা জেনে রাখাও জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই এমন সময়ে মাথা কাজ করে না। আগে থেকে সতর্ক হলে বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগানো সম্ভব। ঠিকমতো সন্ধান করলে ফিরে পেতে পারো তোমার সাধের ক্রেডিট, ডেবিট ও স্মার্টকার্ডটি।

যত্নে রাখো কার্ড

  • এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড যত্ন নিয়ে ব্যবহার করো। সাধারণত যারা নিয়মিত কাজে বেরোয়, তারা মানিব্যাগেই রাখে কার্ড। একাধিক কার্ড থাকলে কার্ডহোল্ডারও ব্যবহার করে অনেকে। সবসুদ্ধ খোয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
  • যে কার্ডটি হারিয়েছে বা চুরি গেছে, তার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে লক করতে বলো। কার্ডের ডিটেল নিজের কাছে লিখে রাখা জরুরি।
  • ফোনের কনট্যাক্ট লিস্টে পার্সোনাল ব্যাংকারের নম্বর সেভ করে রাখে অনেকে। তাকে ফোন করো, অথবা সরাসরি ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করো।
  • ব্যাংকের অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড করে রাখলে বা নেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজেই কার্ড লক করতে পারবে। কার্ডের ব্যাপারে যেকোনো সাহায্যের জন্য টোল ফ্রি নম্বরটি ফোনে সেভ করে রাখো। এ ছাড়া কার্ড প্রটেকশন প্ল্যানও অ্যাকটিভেট করে রাখতে পারো নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে।
  • কার্ড প্রটেক্টেড থাকলে তা অনেক সময় ইমার্জেন্সি ক্যাশ অ্যাসিস্ট্যান্সেও কাজে লাগে। বিশেষ করে, বেড়াতে গিয়ে বা চিকিৎসাসংক্রান্ত জরুরি দরকারে।
  • অনেক সময়ে এটিএম ট্রানজেকশনের সময়ে মেশিন পুরোনো হলে বা কোনো ত্রুটি থাকলে কার্ড লক হয়ে মেশিনেই আটকে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় সেই কার্ড জমা পড়ে যায়। সেখানে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্ডটি ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
  • অ্যান্ড্রয়েড হোক কিংবা আইওএস, এখন স্মার্টফোন হারালে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। কারণ, প্রায় প্রতিটি আধুনিক ফোনেই সিকিউরিটি এবং ট্র্যাকারের বন্দোবস্ত করা সম্ভব। ফোন হারালে সেই মারফত তার সন্ধান পাওয়া খুব দুষ্কর নয়। তার জন্যও আগে থেকে কয়েকটি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অ্যানড্রয়েডের ক্ষেত্রে নামী কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং আইফোনে নিজস্ব সিকিউরিটির ব্যবস্থা থাকে। যদি ঠিকমতো নিজের অ্যাকাউন্টটি ট্র্যাকে রাখো, তাহলে সহজে সুরাহা সম্ভব।
  • ফোন হারিয়ে ফেলেছ, বুঝতে পারামাত্রই অন্য কোনো ফোন থেকে নিজের নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করো। রিং হলে বুঝবে, ফোনটি কোথাও খোয়া গেছে, চুরি যায়নি। সাধারণত চুরি গেলে সিম সঙ্গে সঙ্গে খুলে ফেলা হয়।
  • হারিয়ে যাওয়া ফোনে যদি রিং না হয় কিংবা ডেড টোন আসে, তাহলে বুঝতে হবে, হয় ব্যাটারি ড্রেনড হয়েছে অথবা ফোনটি চুরি গেছে। সে ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হও।
  • চুরি হওয়া ফোনের ক্ষেত্রে প্রথমেই স্থানীয় থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করো। ফোনের জিপিএস ট্র্যাকার অন থাকলে সাইবার ক্রাইম বিভাগের থেকে ফোনটি ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে সাহায্য পেতে পারো। ব্যক্তিগত তথ্য, যা অন্য কারও জানা সম্ভব নয়, তা দিয়ে লক স্ক্রিন মেসেজ সেট করে রাখতে পারো।
  • গুগলে অ্যাকাউন্ট থাকলে ফোনে থাকা কনট্যাক্ট, ছবি বা ডেটা সবই উদ্ধার করে ফেলা সম্ভব। ফোন হারিয়ে গেলে অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যানড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার খুলে সব কটি অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করো। ফোনে ফাইন্ড মাই অ্যাপ চালু রাখো।
  • চুরি হয়েছে বুঝতে পারলে তোমার অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোনের ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলা দরকার। না হলে হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা থেকে যায়। মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারের সাহায্যে পার্সোনাল ডেটা ফোন থেকে মুছে ফেলো। পাসওয়ার্ড বদলে নাও।
  • ফোন, ল্যাপটপের মতো ডিভাইস চুরি গেলে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। কল/ইন্টারনেট সার্ভিসও সাসপেন্ড করতে হবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। ‘মার্ক অ্যাজ লস্ট’ করতে ভুলবে না।

দৈনন্দিন যাপনের অপরিহার্য গ্যাজেট সামলে রাখো। জীবনকে আরও সহজ, মসৃণ করে তোলে যা যা, তা সাবধানে রাখার মার নেই।

লেখা : রোদসী ডেস্ক 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four × two =