যত্নের জৌলুস

করেছে Rodoshee

ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং, নিয়মিত ফেসমাস্ক, কোনো কিছুই বাদ যায় না? কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছ, তোমার ত্বক পরিচর্যার রুটিন, বয়সের সঙ্গে মানানসই কি না?

কে না চায় ত্বকের জৌলুশ অনেক দিন ধরে রাখতে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ধরন পাল্টে যায়। ফলে পরিচর্যার প্যাটার্নেও বদল আসে। এ ছাড়া নিজের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের ওপরও তোমার বয়স ধরে রাখা অনেকাংশে নির্ভর করে। এবার ত্বকের যত্নের ব্যাপারে কথা বলেছেন নভীনস বিউটি অ্যান্ড অ্যারোমা সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আমিনা হক। লিখেছেন: নাসরিন প্রিয়া।

যত্ন যখন শুরু: ত্বকের যত্ন শুরু করা উচিত ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স থেকে। এই সময়টাতে হরমোনাল পরিবর্তন ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে মেয়েদের। এ জন্য ত্বকের যত্নটা ১৬ থেকে শুরু করা উচিত। হরমোনাল ও মানসিকতা পরিবর্তনের ফলে একটা মেয়ে এই সময়ে মানসিকভাবে বড় হতে শুরু করে। শারীরিক পরিবর্তনের জন্য এই সময়ে তার কিছু যত্ন নেওয়া দরকার। সে ক্ষেত্রে হালকাভাবে ত্বক পরিষ্কার করবে। কারণ, এ সময়ে ত্বক পরিষ্কার করাটা জরুরি। তবে এই সময়ে চার থেকে পাঁচ মিনিটের বেশি ত্বকের যত্ন নেওয়া যাবে না। যদি অয়েলি ত্বক হয়, সে ক্ষেত্রে সে একটু শসার রস এবং ময়দা দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে পারো। তবে আর কিছু করার দরকার বলে আমি মনে করি না। মাঝেমধ্যে সপ্তাহে এক দিন চাইলে স্ক্রাব করতে পারো। এ জন্য শসার রস, চালের গুঁড়া, মসুর ডাল মিশ্রণ করে স্ক্রাবিং করে নিতে পারো। তা ছাড়া শসার রস, ময়দা, লেবুর রস নিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারো। আর নরমাল স্কিনের জন্য মুলতানি মাটি, দুধ, লেবুর রস, গোলাপের পাপড়ি বেটে নিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারো। আর যাদের ড্রাই স্কিন তারা ক্যারটের প্যাক ব্যবহার করতে পারো। ২০ বছর বয়সে এসে ত্বক অনেক হাইড্রেট থাকে। এ জন্য ওপরের প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দিয়ে ত্বকের যতœটা করে আসতে হবে। এ ছাড়া গাছে কয়েক দিন পানি না দিলে কী অবস্থা হয় গাছের খেয়াল করেছ? গাছ যেমন শুকিয়ে যায়, তেমন আমাদের ত্বকও কিন্তু ব্যতিক্রম নয়। যত বেশি পানি পান করবে, তোমার ত্বক তত বেশি হাইড্রেটেড থাকবে। ত্বক হাইড্রেটেড থাকা মানেই তারুণ্যদীপ্ত থাকা। অ্যান্টি-এজিং হিসেবে পানির গুণ সবচেয়ে বেশি। পানি তোমার ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া রোধ করবে। ময়েশ্চারাইজার তোমার ত্বককে সরাসরি হাইড্রেটেড করে এবং ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখে। মুখ ধোয়ার পর আমাদের ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে যায় এবং শুষ্ক ত্বকে খুব দ্রুত বলিরেখা পড়ে। ময়েশ্চারাইজার ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ করে। তাই মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবে না। অতিরিক্ত মেকআপ, রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করো। তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করো।

পঁচিশের পরের সময় : কথায় আছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। তাই বলিরেখা পড়ার আগেই যদি আমরা প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে হয়তো বয়সের ছাপ দেরিতে আসবে। পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে অনেকের মুখে ধীরে ধীরে বলিরেখা পড়া শুরু হয়ে যায়। তাই অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ব্যবহার শুরু করা উচিত। যত বয়স বাড়বে, তত ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবে। ৩০ বছরের পর থেকে চেহারার সৌন্দর্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। পঁয়ত্রিশ বছর থেকে অনেকেরই মুখে হালকা বলিরেখা, চোখের কোণে ভাঁজ পড়া শুরু করে। যেহেতু মাত্র শুরু, তখনই যদি যত্ন নেওয়া হয় তাহলে বয়সের ছাপ দূর করা সম্ভব। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো ক্লিনজার দিয়ে মেকআপ ও ময়লা পরিষ্কার করো। ক্লিনজিং করার পর দিনের শুরুটা করো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে। ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে আমরা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করি। শুষ্ক ত্বকে অতি দ্রুত বলিরেখা পড়ে যায়। তাই ময়েশ্চারাইজ করা জরুরি। সঙ্গে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে ত্বকে অল্প বয়সে বলিরেখা ও ভাঁজ পড়া প্রতিরোধ করতে এসপিএফ ১৫ বা তার বেশি এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। যদি তোমার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে থাকে, তাহলে তুমি ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে অল্প সিরাম যোগ করে নিতে পারো। সিরাম সাধারণত ঘন হওয়ায় এতে বেশি পরিমাণ অ্যান্টি-এজিং উপাদান থাকে এবং ত্বক তা তাড়াতাড়ি শোষণ করে নেয়। তোমার চোখের চারপাশের জায়গাটি ত্বকের অন্যান্য জায়গা থেকে বেশি পাতলা হয়ে থাকে। তাই এখানে দ্রুত ফাইন লাইন দেখা যায়। এই ফাইন লাইন রোধ করতে গ্লিসারিন অথবা নিয়াসিনিমাইড (ভিটামিন বি৩) যুক্ত আই-ক্রিম ব্যবহার করো। এই আই-ক্রিম চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল ও ফোলা ভাবও দূর করবে।

যখন চল্লিশ : এই সময়টিকে মেইন্টেনেন্স ধাপও বলা যেতে পারে। চল্লিশের পর সবার মুখেই বলিরেখা, চোখের কোনায় ভাঁজ পড়ে যায়। নিশ্চয় ভাবছ বলিরেখা তো পড়েই গেল, আর কী যত্ন নেব। যদি বয়স ধরে রাখতে চাও তাহলে ওপরের যত্নগুলোর কোনোটিতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। উপরের টিপসগুলোর পাশাপাশি শরীর ফিট রাখো। কারণ, শরীর সুস্থ থাকলেই তোমার ত্বকে প্রাণ থাকবে। তাই প্রতিদিন ব্যায়াম করার চেষ্টা কর। নিয়ম করে হাঁটো। এই সময় অনেক মহিলাদের মেনোপজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং পঁয়তাল্লিশ বা পঞ্চাশে পা দিলে মোটামুটি সব মহিলারই মনোপোজ হয়ে যায়। শরীরে নানা রকম পরিবর্তন দেখা যায়। হরমোনের বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে শরীরে এবং ত্বকে তার ছাপ পড়ে। বিশেষ করে মেনোপজের পরে ত্বকের তৈলগ্রন্থিগুলো কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই ত্বক অনেক শুষ্ক এবং সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এ জন্য সেই শুরু থেকে করা ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিংয়ের রুটিন ফলো করে যাওয়া। তার সঙ্গে অবশ্যই বাইরে বেরোলে সানস্ক্রিন লাগানো। এই সময় অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ কোনো ক্রিম বা সিরাম বেছে নেওয়া উচিত ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং মাঝেমধ্যেই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাবে। তাই এই সময়টাতে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিজের ডায়েট চার্ট তৈরি করে নাও। এ ছাড়া বেশি করে শাকসবজি বয়স ধরে রাখতে চাও তো আজই নিয়মের মধ্যে চলা শুরু করতে হবে। তাহলে তোমার ত্বকও থাকছে অনেক দিন ধরে মসৃণ ও তারুণ্যদীপ্ত। জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় যখন হাসতে হাসতে পারো করেই ফেলেছ তখন আর এত চাপ না নিয়ে খোলা মনে হাসিখুশি জীবন যাপন কর। ভালো ঘুম দাও। প্রচুর ফল এবং শাকসবজি খাও। দেখবে বয়স এমনিতেই চৌকাঠের বাইরে থমকে দাঁড়িয়ে গেছে।

 

০ মন্তব্য করো
1

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × two =