যত্নে থাকুক পছন্দের শাড়ি

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

শাড়ি পছন্দ করেনা এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভিন্ন ভিন্ন শাড়িতে নিজেকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে সকলেই পছন্দ করে। কিন্তু শাড়ির এই ভিন্ন ধরনের সাথে সাথে চাই ভিন্ন ধরনের যত্নের। এমন কিছু নিয়েই আজকের আয়োজন।

শাড়িতে নারী- এই প্রবাদ সকল নারীর সাথেই প্রযোজ্য। যে কোন উৎসব, পালা-পার্বনে শাড়িই থাকে আমাদের প্রথম চয়েস। এটি পরিধান করলে সাজে দেয় এক অন্যরকম লুক। শাড়ি ছাড়া সাজ যেন অসম্পুর্নই থেকে যায়। কিন্তু এত পছন্দের যে শাড়ি সেগুলোরও প্রয়োজন হয় আলাদা যত্নআত্তির। আর সবসময় যেহেতু পরা হয়না তাই সেগুলোর বেশিরভাগ সময় যায় কাবার্ডবন্দি হয়ে। তাই সঠিক সময়ে সঠিকভাবে যত্ন না নিলে তা হয়ে পরে পড়ার অযোগ্য। তাই শাড়ির ধরন বুঝে নিতে হবে এদের যত্ন।

সুতি শাড়ি

আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য সুতি শাড়ি সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক ও বহুল ব্যবহৃত। এই সুতি শাড়ির কিন্তু যত্নের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি। এইজন্য যা করতে হবে-

-প্রথমবার একটি সুতি শাড়ি ধোয়ার আগে, একটি বালতিতে গরম পানি নিয়ে তাতে কিছুটা রক সল্ট দিয়ে দিতে হবে। সেই মেশানো পানিতে কাপড়টি ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে নতুন শাড়িতে ভালোভাবে রংটি ধরে যাবে এবং তা পরবর্তীতে ধোয়ার সময় রঙ উঠে যাওয়া রোধ করা নিশ্চিত করবে।

-ধোয়ার সময় মাইল্ড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে ভালো। জোরালোভাবে ঘষা যাবেনা। ধোয়ার পরে পানি না নিংড়িয়ে কল বা উঁচু কিছুর উপর ঝুলিয়ে দিলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হয়ে যাবে।

-সুতি শাড়ির নিষ্প্রান ভাব কাটার জন্য ধোয়ার পর মাড় দিলে এতে টানটান ভাব ফিরে আসবে।

-শুকানোর জন্য একটি ছায়াযুক্ত জায়গায় শাড়িটি ঝুলিয়ে দিতে হবে। অতিরিক্ত সূর্যের রশ্মি সরাসরি পরলে কাপড়ের রঙ বিবর্ন হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে।

-শাড়ি সংরক্ষনের জায়গাটি হতে হবে আর্দ্রতা ও সরাসরি সূর্যালোক বর্জিত। আর এগুল ভাঁজে ভাঁজে না রেখে সুন্দর করে হ্যাংগারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

-হ্যাংগার সবসময় প্লাস্টিকের হলে ভালো হয়। ধাতব হলে তা থেকে কাপড়ে দাগ পড়ে যেতে পারে।

-সুতি শড়ির ভাঁজ ঠিক রাখার জন্য আয়রনের প্রয়োজন হয়। শাড়ির উপর একটা কাপড় পেঁচিয়ে সঠিক তাপমাত্রায় আয়রন করতে হবে।

-কাবার্ডে অনেকসময় দীর্ঘদিন কাপড় থাকতে থাকতে একধরনের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব ও গন্ধ চলে আসে। তা দূর করার জন্য কর্পূর বা ন্যাপথলিন কাপড়ে পেঁচিয়ে আলমারিতে রেখে দিলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

সিল্ক শাড়ি

যে কোন অনুষ্ঠানে অনেকেরই সিল্কের শাড়িই থাকে প্রথম চয়েস। এই সিল্কের শাড়িও রয়েছে অনেক ধরনের। বেনারসি, বালুচরি, তসর, বোমকাই সহ এর রয়েছে আরও অনেক ধরন। দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এর সঠিক সংরক্ষন ও যত্নের প্রয়োজন হয়। যেমন-

-সিল্কের শাড়ি কখনোই হাতে বা মেশিনে ধোঁয়া যাবেনা। ড্রাই ওয়াশ এর জন্য উত্তম।

-যদি বাসায় ধুতেই হয় তবে মেশিনে না ধুয়ে হাল্কা হাতে ধুতে হবে।

-শড়িতে কোন ধরনের দাগ পড়লেই সাথে সাথে তা ঠান্ডা পানি দিয়ে দাগ মুছে ফেলতে হবে।

-সরাসরি সূর্যের আলোতে শুকাতে দেয়া যাবেনা। এতে রঙ বিবর্ন হয়ে যাবে

-এইসব শাড়ি বান্ডিল করে রাখা যাবেনা। হ্যাংগারে সুন্দর করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

-শাড়ীতে ভারি জরির কাজ থাকলে ভাঁজ করার সময় কাজের অংশটুকু ভেতরে দিকে করে রাখলে এতে কাজ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকেনা।

-শাড়ি যেকোন প্লাস্টিকের কভারে রাখা যাবেনা। এতে এর এমব্রয়ডারি কাজগুলো কালো হয়ে যাবে।

-প্রতি ছয় মাস পরপর সিল্কের শাড়ি ছায়ায় নেড়ে দিতে হবে। না হলে ভাঁজে ভাঁজে শাড়িগুলো কেটে যেতে পারে।

-আয়রন করতে হলে মিডিয়াম হিটে করতে হবে। এবং শাড়ির উপর একটি সুতির কাপড় বিচিয়ে আয়রন করতে হবে।

-ঘরেই হোক অথবা বাইরে, ধোয়ার পর সিল্কের শাড়ি অনেক সময় তার নিজস্ব শাইন হারিয়ে ফেলে। এই জন্য একটা পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। একটি পরিষ্কার বালতিতে সাদা ভিনেগার এবং হাল্কা গরম পানি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে (প্রতি লিটার পানিতে ১ টেবিল চামচ ভিনেগার)। মিশ্রনে শাড়িটি ৩-৫ মিনিট ভিজিয়ে নরমাল পানিতে ধুয়ে আলতো করে চেপে পানি ঝড়াতে হবে। বাতাসে শুকিয়ে নিলেই হয়ে যাবে।

জামদানি শাড়ি

শাড়ির বিভিন্ন ধরনের মধ্যে জামদানি শাড়ির আবেদন চিরকালই অন্যরকম। এর অপরুপ কারুকাজ, নকশা ও বৈচিত্র্যতার জন্য বরাবরই সবার আকর্ষন কেড়েছে। সিম্পল কিন্তু আভিজাত্যময় এই শাড়ি যত্নের ধরনেও রয়েছে অনেক ভিন্নতা-

-জামদানি শাড়ি যততা সম্ভব পানি থেকে দূরে রাখতে হবে। পানি লাগলে এর বুনন খুলে যেতে পারে।

-এই শাড়ি কোথাও কেটে গে বা ফেঁসে গেলে তাঁতির কাছে দিলেই তা আবার নতুনের মত হএ যায়।

-বাসায় এই শাড়ি ধুলে রঙ জ্বলে যাওয়া ও এর সেলাই খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এটি ড্রাই ওয়াশ করাই শ্রেয়।

-যেহেতু এইসব শাড়ি নিয়মইত পরা হয়না। তাই মাঝে মাঝে তুলে রাখা শাড়ি খুলে নিয়ে রোদে শুকাতে হবে। এমনভাবে উল্টে-পাল্টে রোদে শুকাতে হবে যাতে দুই দিকেই সমানভাবে রোদ লাগে।

-পরার পরে সাথে সাথেই তা আলমারিতে তুলে রাখা ঠিক না। বরং হালকা রোদে বা বাতাসে তা শুকিয়ে নিয়ে তারপর রাখতে হবে। এতে শাড়ি থাকবে সতেজ ও সুন্দর।

ব্লক ও হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ি

-এই শাড়িগুলোর দিকে একটু বেশিই নজর দিতে হয়। বারে বারে এগুলো না ধোয়াই ভালো। ধোয়ার সময় গারম পানি এবং কড়া ডিটারজেন্ট পরিহার জরতে হবে।

-শুকাতেও কড়া রোদ এগুলো পছন্দ করে না। প্রখর রোদে এর কালার নষ্ট হয়ে যায়।

-প্রথমবার ধোয়ার আগে কাপড়ের উলটা পিঠে ভালোভাবে আয়রন করে নিলে রঙ আরও পাকা হবে। এরপর যতবারই আয়রনের প্রয়োজন হবে উলটা পিঠে করতে হবে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

18 − three =