যদি ডাক শুনে কেউ না আসে

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

জীবন মাঝে মাঝে অনেক চাপের হতে পারে। যখন তা আয়ত্ত্বের বাইরে চলে যায় মনে হয় এই বুঝি ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব। কিন্তু পরাজিত বোধ করে আশা ছেড়ে দিওনা। রাত যত দীর্ঘ হোক, ভোর হবেই।

কল্পনা করো তুমি এমন এক জায়গায় বাস করছো যেটি দীর্ঘ খরার সাথে লড়াই করছে। যেদিকেই তাকাও চারপাশ নির্জীব, ধুলোমাখা আর প্রাণহীন। যেন সেখানে কখনো বৃষ্টির ছোঁয়াও পড়েনি। দেখে মনে হতে পারে ফসল বা গাছ কখনো জন্মাবেনা। কিন্তু তুমি যদি দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকো তবে জানো যে দীর্ঘতম খরাও এক সময় বৃষ্টিপাতের দ্বারা ভেঙে যেতে পারে। জীবনেও আমরা সেই শুকনো, খরার মতো অনুভব করতে পারি। হয়তো তুমি এমন এক সম্পর্কের মাঝে আছো যা কঠিন হয়ে উঠেছে, কারো উপর হয়তো আশা রেখেছিলে এবং হতাশ হয়েছিলে। এক পর্যায়ে আবিষ্কার করলে এই মিথ্যে আশা তোমার জীবনকে শুষ্ক এবং কঠিন করে তুলেছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় বারংবার প্রাণান্তকর চেষ্টার পরেও আমরা আমাদের আরাধ্য জিনিস লাভ করতে পারিনি। এই অনুভূতি তখন আমাদের আশাহত করে দেয়। তখন হয়তো মনে হতে পারে সামনে আর কোন পথ নেই এবং সেই আশাহীনতার শুকনো জায়গায় নিজেকে একাকী পথিক মনে হবে। জীবনের এই কঠিন ক্রান্তিলগ্নে হতাশা ঝেড়ে ফেলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে আসো কিছু টিপস দেখে নিইঃ

জীবন ক্রমাগত পরিবর্তনশীল

হতাশার অনুভূতি মানে জীবন আরও ভাল হবে তা কল্পনা করতে না পারে। এই নিষ্পেশন অনুভূতি সবকিছুতে অন্ধকার নিক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু সত্য যে, জীবন সবসময় পরিবর্তনশীল, পরিবর্তন আসলে অনিবার্য। আমরা যদি বিশ্বাস রাখি এবং ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মের সাথে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাই, তাহলে হতাশার এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। কখনো কখনো আমাদের যা করতে হবে তা হল কেবল সময়কে অতিবাহিত করতে দেয়া এবং সমস্যাটিকে বাড়িয়ে তোলার প্রলোভনকে প্রতিরোধ করা। জীবনে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।

অতীতে পার করা কঠিন সময়গুলো স্মরন করা

একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে দিয়ে চলার সময় ভয়, আত্ম-সন্দেহ এবং হতাশাবাদী  চিন্তা দ্বারা আঁকড়ে থাকা স্বাভাবিক। যা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে একটি সহজ কিন্তু অনেক কার্যকরী কাজ হলো জীবনের এমন ঘটনাগুলোকে তালিকাবদ্ধ করা যা আমরা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পার করেছি। পাশাপাশি এগুলো উতরে যখন সফল হওয়ার চিত্রগুলো লিপিবদ্ধ করবে তখন দেখবে নিজের এবং অজানা ভবিষ্যতের প্রতি নতুন বিশ্বাস খুঁজে পাবে, যা তোমাকে ভয়ের পরিবর্তে এক ভাললাগা নিয়ে আসতে পারে।

মনের কথা লিখো

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তুমি কেমন অনুভব করছো তা সম্পর্কে ডায়েরি লিখো, যা তোমার আবেগ এবং চিন্তাভাবনাগুলোকে গভীরভাবে খনন করতে সহায়তা করে। চিন্তা, আবেগ মাথায় ঘুরতে না দিয়ে তা শব্দের মধ্যে তুলে ধরো এবং এটি খুবই থেরাপিউটিক।

সবকিছুই খারাপভাবে না দেখা

চলমান ইস্যুতে জুম আউট করো এবং ফোকাস করো। সবকিছুই খারাপভাবে দেখা যা, আমাদের মনোযোগকে কেড়ে নেয় এবং এর ভেতরে কোন ইতিবাচক চিত্র যে থাকতে পারে তা দেখতে আমরা ব্যর্থ হই। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের সমস্যাগুলো আমাদের জীবনে যা কিছু চলছে তার একটি উপসেট মাত্র এবং দুশ্চিন্তা, ভয় এবং উদ্বেগকে মনকে ছাপিয়ে যেতে দিবে না। এমনকি তা যদি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র যেমন স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, কাজ, অর্থ এবং আবেগ বিপর্যস্থ হয়ে যায়, তবুও আমরা বেঁচে আছি এর অর্থ হলো পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আছে।

উদ্দেশ্যমূলক কিছু খুঁজে নাও

আমাদের জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্যের অভাব রয়েছে বলে আমরা সহজেই হতাশা বোধ করি। এমতাবস্থায় যখন উদ্দেশ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলা হয় তখন তা বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। কথায় আছে, ‘যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।’ তাই জীবনকে উদ্দেশ্যপূর্ন বোধ করার জন্য আমাদের সকলকে জীবনে কিছু বিশাল মিশন খুঁজে বের করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি

আমরা বর্তমানে এমন এক সময় পার করছি যেখানে আমাদের সবকিছু প্রযুক্তির কাছে আটকে আছে। আমাদের ভালো লাগা, খারাপ লাগা, বিষন্নবোধ সবকিছুতেই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে সমাধান খুঁজতে যাই। কিন্তু সত্য হলো যে, যখন জীবনে ভালো অনুভব করবেনা তখন এই সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের আরও খারাপ বোধ করতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এর কোন প্লাস পয়েন্ট নেই কিন্তু যখন জীবন থমকে যায় তখন সামাজিকতার অনেক খারাপ দিক নির্দেশ করেছে মিডিয়া যা মানসিক স্বাস্থ্যকে সাহায্য করেনা। এর মাধ্যমেঃ

-বিষন্নতার মাত্রা বেড়ে যায়

-অন্য মানুষের সাথে নিজের জীবনকে অন্যায়ভাবে তুলনা করতে উৎসাহিত করে

-ঈর্ষা বোধের সৃষ্টি করে

-আরও একাকী বোধ করে

সক্রিয় হও

শারীরিক কার্যকলাপ হতাশার অনুভূতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরেকটি দূর্দান্ত হাতিয়ার। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম হতাশার জন্য উপকারী হতে পারে এবং ফলস্বরুপ একটি ভালো মেজাজ তৈরি করতে পারে। এটি সকল নেতিবাচকতা ঝেড়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রদান করতে পারে। এই সক্রিয় হওয়া অনেক ধরনের হতে পারে। তা হতে পারে ব্যায়াম করা কিংবা খেলাধুলা করা, হতে পারে বাগান করাও।

কথা বলো

নিজের অনুভূতি সম্পর্কে কারো সাথে কথা বলা অবিশ্বাস্যভাবে সহায়ক হতে পারে। এটি কোন বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা থেরাপিস্টের সাথে কথা বলা হোক না কেন, নিজ অনুভূতিগুলো সম্পর্কে কথা বলা তাদের বুক থেকে সরিয়ে নেয়ার একটি দূর্দান্ত উপায় হতে পারে। এই চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতি ভাগ করে নেয়ার মাধ্যমে, তারা তোমাকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং কীভাবে এগিয়ে যাবে সে সম্পর্কে পরামর্শ দিতে সক্ষম হতে পারে।

এই তত্ত্বটি বিপরীতমুখী বলে মনে হতে পারে, তবে এটি সত্য যে জীবনের বেদনাদায়ক সময়গুলো ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য একটি প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা এবং অসন্তোষ আমাদের শিক্ষা দেয় এবং আমাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়।

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × five =