রান্নাঘরের সাফাই-মন্ত্র

করেছে Sabiha Zaman

রান্নার সময় তেল-ঝোল ছিটকে সহজেই হেঁশেল ময়লা হয়ে যায়। চিন্তা নেই। ওই তেলচিটে ভাব সাফ করাও শক্ত নয়যত তরিবতসহকারে রাঁধবে, রসুইখানাটি ততই কালিঝুলি মাখবে। মুরগিতে জম্পেশ করে দই-হলুদ মাখালে কফোঁটা মসলাবাটা স্ল্যাবে গড়াবেই। কড়ায় ইলিশ ছাড়লে তেল ছিটকে টাইলসে পড়বে। তার জন্য ‘রান্নাঘর নোংরা চিটচিটে হলো’ বলে দুঃখ করতে নেই। তবে এ-ও ঠিক যে পাকশালাটি তকতকে না রাখলে রান্না করতে মন চায় না। তাই রান্নার শেষে কিচেনের বেসিন, দেয়াল থেকে তেল মুছে ফেলে রান্নাঘর সাফসুতরো করে ফেলো।

 

  • নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধোঁয়া, তরকারির ঝোল, ভাতের মাড় সব কিচেনে জমতে থাকবে। ওই দাগ জমে শক্ত হয়ে গেলে তা ওঠানো মুশকিল। রান্নার গ্যাস ও তার আশপাশের অংশ রান্না শেষে অবশ্যই মুছবে। অল্প গরম পানিতে বাসন মাজার তরলটি গুলে নিয়ে মপ দিয়ে ওভেন ও রান্নার জায়গাটি যত্ন করে পরিষ্কার করো। রান্নার সময় পাশে পরিষ্কার কাপড় রাখো। কিছু ছিটকে দেয়ালে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে নাও। তখন ফ্রিজ বা মসলাদানি খোলার দরকারেও ওই কাপড় ব্যবহার করবে। এতে দাগ লাগবে না। ওয়াইপ-স্পঞ্জে এক ফোঁটা ডিশওয়াশার মিশিয়ে ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডারের বাইরের অংশ, সিঙ্ক রোজ পরিষ্কার করতে পারলে ভালো। সময়ের অভাবে সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার সাফ করো। এ কাজে বেশি দিন ফাঁকি দিলে ওই কালচে বাষ্প মেশানো তেলতেলে আঠালো ভাবটা স্থায়ি হয়ে যাবে। তখন সাধের অ্যাপ্লায়েন্সগুলোর মূর্তি ফেরাতে তোমারই হাড়মাঁস কালি হবে।
  • ওভেন পরিষ্কার করতে একটি বাটিতে পানির মধ্যে ভিনেগার বা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে তা ওভেনে গরম করো। দুই মিনিট পরে বের করে নাও। সেই বাষ্পই ওভেনের চারপাশে লেগে যাবে। পরে কাপড় দিয়ে মুছে নাও।
  • ব্লেন্ডারের তরল রাখার পাত্রটি খুলে পাতিলেবু, পানি ও এক ফোঁটা ডিশওয়াশ দিয়ে আবার চালাও। সবশেষে পরিষ্কার পানি ভরে চালিয়ে, পানি ফেলে মুছে নাও।
  • রান্নাঘর খোলামেলা হলে, ভেতরে জিনিসপত্র কম রাখলে চিটে কম হয়। ফ্রিজ, ওভেন, মসলার তাক সুদৃশ্য ঢাকনায় মুড়ে রাখাই ভালো। ছোট ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ হয়তো মেলে না। সে ক্ষেত্রে মসলার কৌটো বা অন্য তৈজসপত্র ওভেনের থেকে নিচুতে ক্যাবিনেটে ভরে রাখবে। কাবার্ডের পাল্লাও বন্ধ রাখো। এতে ওগুলো রান্নার তাপ ও ঝুল থেকে রেহাই পাবে। কারণ, রান্না করার সময় ধোঁয়া ওপরের দিকে ওঠে। ওই ধোঁয়াই দেয়াল, তাক আর মেঝেও নোংরা চিটচিটে করে দেয়। এসব সাফাইয়ের জন্য বাজারে প্রচুর লিকুইড ক্লিনার মেলে। এতে স্ক্রাবার ভিজিয়ে সপ্তাহে অন্তত দুবার (রোজ না পারলে) পুরো জায়গাটা ধুয়েমুছে শুকিয়ে নিলে পাকশালা জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। মাসে একবার ঝুল ঝেড়ে নাও। মসলার কৌটো নিয়মিত পরিষ্কার করবে।

 

  • ক্লিনিং প্রডাক্টের ব্যবহারবিধি পড়ে নাও। যে ক্লিনার দিয়ে সিরামিক স্ল্যাব বা দেয়ালের টাইলস পরিষ্কার করবে, কাঠের তাক তা দিয়ে মোছা চলবে না। সামান্য আয়াসে বাড়িতেই কিচেন ডি-গ্রিজার তৈরি করে নিতে পারো। হালকা দাগের জন্য গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে পরিষ্কার করবে। কড়া তেলচিটে ছোপ হলে একটু ঘন ক্লিনার লাগবে। যেমন লেমন বেসড ক্রিম ক্লিনার। এক কাপ পানিতে ১/৪ ভাগ ভিনেগার মিশিয়ে ময়লা অংশে দ্রবণটি ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখো। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই কড়া দাগ উধাও। কাঠের আসবাব হোয়াইট স্পিরিটে মুছবে। সাবধানতার জন্য এক ফোঁটা ক্লিনার দিয়ে অল্প দেয়াল বা ক্যাবিনেট মুছে আগে পরখ করে নাও এতে প্যান্ট বা পালিশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না।

 

  • রান্নাঘরে কিচেন চিমনি, হুড, এগজস্ট ফ্যান থাকলে ধোঁয়া, তেল বাষ্প হয়ে বাইরে বেরিয়ে যাবে। এতে রান্নাঘর ধোপদুরস্ত থাকবে। তবে এই প্রডাক্টগুলোরও নিয়মিত সাফাই জরুরি। পেশাদারকে ডেকে বছরে দুবার চিমনি সার্ভিসিং করাও। অটোক্লিন চিমনি হলেও, সপ্তাহে এক দিন তেলের পাইপটি খুলে ধুয়ে নাও। চিমনির চারপাশ রোজ ভেজা কাপড়ে মুছে দেবে। জানালার তাক, গ্রিল, এগজস্ট ফ্যানের খাঁজে খুব ময়লা জমে। প্রশিক্ষিত লোক ডেকে তা সাফ করাতে পারলে ভালো। নিজে করতে হলে একটা ছুরি দিয়ে গ্রিলের কোণ, ফ্যান ব্লেডের ফাঁকে আঁকড়ে থাকা ময়লা প্রথমে চেঁছে নাও। পরে বাসন মাজার সাবান কাপড়ে নিয়ে তা দিয়ে পরিষ্কার করে নিলেও চলবে।

এত ঝাড়পোঁছের পরে নিজের হাত দুটিকেও ধুয়েমুছে মোলায়েম করে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে ভুলবে না যেন! গৃহিণী ও তার হেঁশেল- দুই-ই থাকুক শ্রীময়ী।

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

5 × 1 =