রান্না করেই লাখপতি

করেছে Sabiha Zaman

নারী মানে শক্তি। নারীর এগিয়ে যেতে কোনো বাধাই বাধা নয়। কারণ, নারীর ইচ্ছাই তার এগিয়ে যাওয়ার মূল চালিকা শক্তি। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে রুবাইদা রাখী। মা রাখীকে কখনো রান্না করতে দিতেন না একমাত্র মেয়ে বলে। কিন্তু রাখী খেতে খুব ভালোবাসে। বিয়ের পর নিজের সংসারে প্রবল আগ্রহ নিয়ে রান্নার দায়িত্ব তুলে নেয় রাখি। পরিবার ও বন্ধুবান্ধব সবাই রাখীর রান্না খুব পছন্দ করত। অনেকেই বলত তুমি কেন নিজেই রেস্টুরেন্ট দিচ্ছ না। ২০১৪ সালে রাখী নিজে কিছু করার তাগিদে অনলাইন ব্যবসা শুরু করে। তবে সেটা ছিল ড্রেস নিয়ে।  রাখীর অনলাইন যাত্রা নিয়ে লিখেছেন সাবিহা জামান।

অনলাইনে খাবারের ব্যবসা করা নিয়ে রাখী বলেন, ‘চার বছর আগে আমি শুরু করেছিলাম অফলাইন দিয়ে কিন্তু পরে মনে হলো অনলাইনে করলে কেমন হয়। তারপর অনলাইন পেজ খোলা আর আমার অনলাইনে খাবারের বিজনেস চালু করা। চার বছরের পথচলায় অর্জন করেছি অনেক, পেয়েছি অনেকের ভালোবাসাও। ১০০ পদের ভর্তা দিয়ে যাত্রা শুরু করে আমার “ভর্তা বাহার ও ফুড ক্যাটারিং”।
আমার কাছে সব সময় সফলতা অনেক কঠিন একটা শব্দ। আমি সফল হয়েছি এটা আমি আসলে চিন্তা করি না, বরং আমি মনে করি আমাকে আরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে আরও সফল হতে চাইলে। তাই আমার মেধা আর কাজ দিয়ে আরও পরিশ্রম করতে চাই। অনলাইন বা অফলাইন যেটাই হোক না কেন, সময়মতো শ্রম না দিলে কারও জন্যই সফল হওয়াটা সহজ নয়। চার বছর আগে আমিও ভাবিনি অনলাইনে এত সফলতা পাব। আমি পরিশ্রম দিয়ে গেছি।


করোনাকালে অনেক ক্রেতাই অনলাইন কেনাকাটার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ে বেড়ে গেছে অনলাইন শপিং। অনেকেই এ সময়ে অনলাইন ব্যবসায় সফলতা পেয়েছে। অনলাইনের ব্যবসার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এই সময়ে। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাখী বলেন, করোনাকালে আসলে সবাই ঘরে থাকায় ই-কমার্স সাইটের সব ব্যবসায় মোটামুটি বেশ সাড়া পেয়েছে। আমার কাজের চাপ বেড়ে গেছে। ঘরের রান্না খাবারে হাইজিনের বিষয়টা বজায় থাকে, এটা ভেবে সবাই আসলে অনলাইনে করোনাকালে হোম মেড রান্না করা খাবারের দিকে ঝুঁকেছেন। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি রান্নার উপকরণগুলোও থাকে স্বাস্থ্যকর, ঠিক যেন তোমার ঘরের খাবারের মতো। করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হোম মেড খাবার নিচ্ছে, কারণ তারা রান্না করতে পারছে না।


আমি মূলত অনলাইন-অফলাইন দুটো মিলিয়েই কাজ করছি। সত্যি বলতে চার বছর আগে অনলাইনে যে কোনো ব্যবসায় এতটা সুযোগ-সুবিধা ছিল না, যা এখন এসেছে। শুরুর দিকে পারিবারিকভাবেও অনলাইন ব্যবসায় সাপোর্ট ছিল কম। শুধু তাই নয়, একটা সময় এমন ছিল, খাবার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খাবার ডেলিভারি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এখন পরিবর্তন এসেছে। অনেক ডেলিভারি কোম্পানির সাপোর্ট আছে, সেই সঙ্গে ফুড ডেলিভারি গ্রুপগুলোও যেগুলো থেকে কেউ চাইলেই ডেলিভারির ঝামেলা অনেক কমে গেছে বলে আমি মনে করি। তা ছাড়া অনলাইন ফুড ডেলিভারি সার্ভিস যেমন ফুড পান্ডা, ই-ফুড, পাঠাও ফুডের মতো ই-ফুড সার্ভিস থাকায় খাবার ডেলিভারির সমস্যা নেই বলা যায়। আমার পরিবার থেকেও এখন অনেক সাপোর্ট পাই। সব মিলিয়ে তখন আর এখনের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।


আমি যখন খাবারের বিজনেস শুরু করি, তখন তো ডিজিটাল ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না, আর সবচেয়ে বড় কথা মানুষের এটার সঙ্গে পরিচিতি কম ছিল। যারা অনলাইনে খাবার নিত, বেশির ভাগ ফুড পান্ডার সঙ্গে বেশি পরিচিত ছিল। তা-ও খাবার নিয়েই কাজ করব ভেবে আমি অফলাইনে কিছু অফিসে খাবার দেওয়া শুরু করি। তার সঙ্গে আমার পেজ চালিয়ে যাই। যারা অফলাইনে নিত, তারা অনেকেই আমার কাছ থেকে অনলাইনেও খাবার নিত। সময়ের সঙ্গে খুব দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থা উন্নতির ছোঁয়া পাওয়ায় আমার বিজনেস এগিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি। আমি হাল ছাড়িনি, অনলাইনে কাজ করতে এসে হতাশ হইনি। অফলাইনের পূর্ণ ব্যবহার আর এর সঙ্গে আমার পরিশ্রম দুই দিয়ে চার বছর আগে শুরু করি।

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তোমার আমার মনে হয় ভবিষ্যতে অনলাইন ব্যবসায়ীদের সুদিন আছে। আর সাধারণ মানুষ এটা খুব ভালোভাবেই নেবে। কারণ, এই করোনাকালে মানুষ প্রচুর অনলাইন কেনাকাটা করছে আর সময়ের সঙ্গে এটা বাড়বে বলে আমি মনে করি। কারণ, পরিবর্তন হচ্ছে সময়ের, আমরা এখন অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। অনলাইন আসলে যেকোনো মানুষের জন্য অনেক বড় একটা মাধ্যম। মানুষ সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইন যাত্রা এগিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এর সঙ্গে অনলাইনের ই-কমার্স বা এফ কমার্সের পেজ কিংবা সাইটগুলো আরও উন্নত হবে। সুযোগ-সুবিধাও বাড়বে। আর তাই অনলাইনে যারা পর্যাপ্ত জ্ঞান রেখে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে, প্রতিযোগিতার মার্কেটে তারাই টিকে থাকবে আশা করি।


অনলাইন কিংবা অফলাইন সব ক্ষেত্রেই ভালো-খারাপ থাকে। অনেকেই বলেন সাধারণ মানুষ অনলাইন বোঝে না কিংবা তারা বিশ্বাস করে না এটা ভুল ধারণা। তুমি যেমন অফলাইনে কিনতে গেলে বাজার যাচাই করে কিনতে পারো, অনলাইনেও সেটা সম্ভব। ভালোভাবে যে পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে কিছু কেনার আগে রিভিউ দেখুক ওই সাইটের বিষয়ে জানো, তারপর কেনো। যারা যাচাই-বাছাই করে অনলাইন থেকে কেনাকাটা করছে, তারা কিন্তু অনলাইনে কিনতে পছন্দ করে। কারণ, এটাই ঝামেলা অনেক কম। রিভিউসহ সব তথ্য ভালো করে যাচাইকরণের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে আশা করি ঠকবে কম এবং অনলাইননির্ভরতাও সামনে এভাবে বাড়তে পারে। কারণ ঘরে বসে পছন্দ অনুযায়ী এবং মানসম্মত জিনিস পেলে মানুষ সেটা বেশি পছন্দ করবে সব সময়ই।
তুমি যদি পরিশ্রমী হও, ভালো কিছু করতে চাও, তবে অনলাইন তোমার জন্য সেরা। সময়ের সঙ্গে অনলাইন বিজনেস অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। যার কারণ প্রযুক্তির উন্নতি আর মানুষের আগ্রহ।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × 3 =