রাশ টানো এসব অভ্যাসে

করেছে Sabiha Zaman

জীবনের গ্রাফ কখনোই এক পথে চলে না। প্রতিদিনের নানা ঘটনার কারণে নিয়ত এই গ্রাফ ওঠানামা করে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব অভ্যাসের গণ্ডি আছে। আর সেই গণ্ডির ভেতরেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে বেশির ভাগ মানুষ। সেই অভ্যাসে সামান্য হলেও পরিবর্তন আসে জীবনে প্রেম এলে। একা থাকা আর কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে ফারাক কিছুটা থাকেই। ছোটখাটো নানা জিনিসের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন সম্পর্কের সঙ্গে বসত শুরু করে মানুষ।

নতুন সম্পর্ক তৈরি হলে দুই পক্ষকেই মানিয়ে নিতে হয় কিছু কিছু জিনিস। খবর রাখতে হয় একে অপরের পছন্দ-অপছন্দের দিকটারও। সে কারণেও বদল আসে কিছু অভ্যাসের। কিছু ক্ষেত্রে মানিয়ে নিতেও অসুবিধা হয়। আর তখনই সমস্যা তৈরি হয় সদ্য তৈরি হওয়া সম্পর্কে। তাই কিছু অভ্যাসে সামান্য বদল এনে সম্পর্ক ও জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন পড়ে কখনো-সখনো। নতুন সম্পর্কে জড়ালে নিজের কোন অভ্যাসগুলোয় রাশ টানা জরুরি, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। কোন কোন দিকে খেয়াল রাখলে প্রথম থেকেই সম্পর্কের ভিত মজবুত হবে, জানো?

 

সময় ভাগ করে নাও

মাঝেমধ্যে সম্পূর্ণ একা সময় কাটাতে চাওয়াটা দোষের নয়। সম্পর্কে থেকেও সেই সময় বের করে নেওয়া যায়। কিন্তু এই একা সময় কাটানোর ইচ্ছা যদি অভ্যাসে পরিণত হয় সম্পর্কে জড়ালে, তা বদলাতে হবে। সারাক্ষণই একা থাকতে চাওয়ার অভ্যাসে তোমার প্রেমের সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর। তাই একে অপরকে সময় দাও। পরস্পরের সান্নিধ্যে খুঁজে নাও জীবনের আনন্দ।

 

একা ঘুরতে যাওয়া

অনেকেই একা ঘুরতে যেতে ভালোবাসে। জীবনে নতুন মানুষ এলেই যে তোমার একা বেড়াতে যাওয়ার অভ্যাস বন্ধ হয়ে যাবে, তা নয়। তবে একা ঘুরতে যাওয়ার পাশাপাশি দুজন বা পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার অভ্যাসটাও করে ফেলো। কোনো কোনো ট্রিপে নিজের সঙ্গীকে ও পরিবারকে নিয়ে যাও। এর ফলে তোমরা একে অপরের সঙ্গে একান্তে অনেকটা সময় কাটাতে পারবে। জেনে নিতে পারবে একে অপরের পছন্দ-অপছন্দগুলো।

 

সঙ্গীর ওপর নির্ভরতা

দীর্ঘদিন একা থাকার কারণে অনেকের মধ্যেই একটা স্বাধীন মনোভাব জন্মে যায়। তবে সম্পর্ক সুন্দর রাখতে চাইলে তোমাকে নিজের সঙ্গীর ওপর নির্ভর হতেও শিখতে হবে। সম্পর্কে জড়ানো মানেই স্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়া নয়। আত্মনির্ভর হয়েও প্রেমিক বা প্রেমিকার ওপর কিছু কিছু বিষয়ে নির্ভর করা যায়। সম্পর্ক জড়ানোর সময় এই কথাগুলো মাথায় রাখো।

 

ইগো সরাও

সম্পর্কে থাকলে ইগোকে কিছুটা বিসর্জন দিতে হয়। এমনিতেই অকারণ ইগো জীবনে ক্ষতিই করে। সঙ্গীর সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিও বাড়তে পারে এতে। কোনো বিষয়ে মতান্তর হলে দরকারে নিজে এগিয়ে মিটমাট করে নাও। সম্পর্কের শুরুতে তুমি উদারতা দেখাতে পারলে আজীবন সঙ্গীও এই সম্পর্ককে সম্মান করতে শিখবে। কোনো কারণে রাগ বা অভিমান হলে অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ হলেও খারাপ লাগা-ভালো লাগার প্রকাশ করো। লক্ষ রাখো নিজের নানা কাজ ও কথায় ভালোবাসাও যেন প্রকাশ পায়।

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

3 × one =