রুপচর্চায় ফেসপ্যাক

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

রুপের আবেদন?? সে তো সবসময় ছিল। যুগের পর যুগ যে বিষয়টি ছিল পরম আরাধ্যের তা হল সৌন্দর্য। গোলানো বেসন থেকে শুরু করে কি হলুদ বাটা,আর চন্দন, মধু সব কিছুরই উপস্থিতি ছিল সেই প্রাচীন কাল থেকেই। সময় পাল্টেছে কিন্তু ফেসপ্যাক হিসেবে এগুলোর ব্যবহার আজো রয়ে গেছে।  

সভ্যতার বিবর্তনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে রুপচর্চার ইতিহাস। একটু ইতিহাস ঘাটলেই উঠে আসবে রানী ক্লিওপেট্রার নাম। যার রুপে বিমোহিত ছিলেন রোমান বীর জুলিয়াস সিজার ও মার্ক অ্যান্টর্নি। কথিত আছে যে ক্লিওপেট্রা তাঁর স্নানের জন্য ব্যবহার করতেন দুধ,মধু এবং অলিভ অয়েল। তাঁর অমিত রুপযৌবনের রহস্য লুকিয়ে ছিল নাকি এতে। অন্যদিকে হেলেন অব ট্রয়- এই রানী মধু খুব ভালোবাসতেন। চুল হোক আর ত্বক,দুটোর যত্নেই ছিল এর ব্যবহার। কিন্তু সময়ের পালাক্রমে হয়ে উঠেছে আমাদের ব্যস্তময় জীবন। ঘড়ির দোলায় দুলছে জীবন। সে বাসার গৃহিণী হোক বা কর্মজীবী অথবা শিক্ষার্থী কারোরই দুদন্ড সময় নেই নিজের যত্ন নেয়ার। প্রতিদিনের দূষন, আদ্রতা প্রভাব পড়ে ত্বকে। যার ফলশ্রুতিতে ত্বক উজ্জ্বলতা হারায়, অল্প বয়সেই পড়ে বয়সের ছাপ। সময় বাঁচাতে আমরা নির্ভর হয়ে পড়ছি কেমিক্যাল মিশ্রিত সামগ্রীতে যা ক্ষণিকের জন্য ত্বক উজ্জ্বল করলেও এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল খুব একটা ভালো হয়না। অথচ আমাদের হাতের কাছেই আছে এমন কিছু উপাদান-

                                                                        

বেসনঃ

প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এবং সহজলভ্য। এতে নেই কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফল। মুখের ফর্সাভাব ধরে রাখতে ও ত্বক টানটান রাখতে এটি সাহায্য করে। বেসন-টকদই, বেসন-মধু বা বেসন-হলুদ দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা যেতে পারে।

চালের গুড়াঃ

চালের গুড়ার সাথে পরিমান মত টমেটো পেস্ট, খানিকটা তরল দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। এটি নতুন সেল তৈরিতে সাহায্য করে এবং কোলাজেনকে ইম্প্রুভ করে।

গোলাপজলঃ

সৌন্দর্যের সঙ্গে গোলাপ ও গোলাপজলের সম্পর্ক অনেক পুরাতন। ত্বককে টানটান করতে, বলিরেখা সরাতে এই গোলাপজল অনেক কার্যকর। ক্লিনজার হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়।

এলোভেরাঃ

ত্বকের যত্নে একটি জাদুকরী ও প্রাকৃতিক উপাদান। কালচে ভাব, ব্রনের দাগ এবং পিগমেন্টেশন হালকা করতে এটি কার্যকর। ত্বকের শুষ্কভাব, প্রানহীনতা দূর করতে এই এলোভেরা সুদিং জেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কাঁচা দুধ-হলুদঃ

কাঁচা দুধে রয়েছে ল্যাকটিক এসিড, যা রোদে পোড়া চামড়া দূর করে অন্যদিকে হলুদে আছে অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য; যা ত্বককে উজ্জ্বল করে।

মধুঃ

ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক, ক্লিনজার, ব্রনের ট্রিটমেন্ট (এন্টিফাংগাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া উপাদান) হিসেবে কাজ করে।

টমেটোঃ

শুধু রান্নার স্বাদ বদলের জন্য নয়, ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতেও টমেটোর ব্যবহার অতুলনীয়। এটি ত্বকের অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে এলার্জি আছে কিনা তা আগে পরখ করে ব্যবহার করতে হবে।

 

ফলের ব্যবহারঃ

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পাকা কলা বেশ কার্যকর। এছাড়াও পাকা পেঁপে, আনারস যাতে আছে এনজাইম, যা মরা কোষ পরিস্কার করতে, এজিং স্পট,ফাইন লাইন ও সানবার্ন দূর করতে সাহায্য করে।

সৌন্দর্য সচেতনতা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। ব্যস্ততা,অনিয়ম জীবন ব্যস্ততা ম্লান করে দিতে পারে আমাদের নিজস্ব সুন্দরতা। এ যুগে ফর্সা ত্বকের জন্য রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের পিছনে না ছুটে ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে ত্বককে করে তুলুন পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও প্রানবন্ত।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

19 − eight =