রোদ থেকে ত্বক রক্ষায়

করেছে Sabiha Zaman

বসন্ত শেষে মিষ্টি রোদ যেন একটু অবাধ্য হতে শুরু করেছে। সরাসরি রোদ আমাদের ত্বকের জন্য ভালো নয় কিন্তু। আর তাই তো রোদে থাকার কারণে ত্বকের নানা জটিলতা তৈরি হয়। এ জন্য রোদ থেকে ত্বক রক্ষায় নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। নানান কাজ নিয়ে প্রতিদিন আমাদের ঘরের বাইরে যেতে হয় কিন্তু আমরা কতটুকু খেয়াল রাখছি নিজের ত্বকের এই কড়া রোদে? তুমি কি জানো কীভাবে রোদ থেকে তোমার ত্বক রক্ষা করবে? আমাদের সবার এ বিষয়টি জানা জরুরি। কারণ, রোদে থাকে বেগুনি আলোকরশ্মি, যা সরাসরি ত্বকে লাগলে স্কিন টোনে প্রভাব পড়ে, অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি হতে পারে স্কিন ক্যানসারের মতো বিভিন্ন ডিজিজ। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত রোদ তোমার চুলকে করে তোলে নির্জীব ও রুক্ষ। তবে বেশি ঘাবড়ে না। কারণ, কিছু সহজ উপায়ে রেহাই পাবে সূর্যের অতি বেগুনি আলোকরশ্মি থেকে।

সানস্কিন
বাইরে গেলে তোমার ত্বকের বন্ধু হচ্ছে সানস্কিন। রোদের সময় বাইরে গেলে সানস্কিন নিতে ভুলবে না। কারণ, সানস্কিন রোদ থেকে তোমার ত্বক রক্ষা করবে। ভালো মান ও ব্র্যান্ড দেখে বেছে নাও তোমার সানস্কিনটি। কেনার সময় এসপিএফ ৩০ থেকে ৫০ দেখে কিনবে। এসপিএফ দিয়ে বোঝানো হয় কত সময় সানস্কিনটি তোমার শরীরের সঙ্গে থাকবে। ত্বকের ধরন বুঝে সানস্কিন নির্বাচন করবে। তোমার যদি অয়েলি স্কিন হয়, তবে লাইট ওয়েট বা হালকা সানস্কিন নিতে হবে। কারণ, সানস্কিন সাধারণত একটু ভারী হয় রোদ থেকে রক্ষা করার জন্য।

 

ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করে বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে সানস্কিন লাগিয়ে নাও তোমার ত্বকে। ব্যাগের ভেতরে রেখে দিতে পারো।

সঙ্গী ছাতা
শুধু বৃষ্টিতেই নয়, রোদ থেকে বাঁচতে বাইরে গেলে ছাতা নিতে ভুলবে না। ছাতা তোমাকে রোদ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে বেশ কাজের। এখন বাজারে ফ্যাশনেবল বাহারি ছাতা থেকে বাছাই করে নাও তোমার জন্য একটি। যেহেতু সব সময় ছাতা রাখতে হবে, তাই ভালো হয় হালকা ওজনের ছাতা ব্যবহার করলে। বর্তমান সময়ে ট্রান্সপারেন্ট ছাতা বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এই ছাতা বৃষ্টির সময় কাজে এলেও রোদ ঠেকাতে অনুপযোগী।

সানগ্লাস
রোদ ত্বকের পাশাপাশি চোখের জন্য ক্ষতিকর। এ জন্যই রোদের সময় বাইরে গেলে সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে সানগ্লাস। এতে সূর্যের বেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষা পাবে। অনেকেই আছে, যাদের অতিরিক্ত রোদে মাথা ব্যথা করে তাদের জন্যও সানগ্লাস খুব কাজের। গাঢ় রঙের সানগ্লাস ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। কারণ, হালকা রঙের সানগ্লাস রোদ চোখে লাগে। তাই বেছে নিতে পারো কালো, বেগুনি, চকলেট কিংবা ডিপ ব্রাউন কালারের সানগ্লাস।

আর্দ্রতা ধরে রাখতে
অতিরিক্ত গরমে শরীর অতিরিক্ত ঘামতে থাকে। তাই তখন শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। এ কারণে এ সময় বাইরে গেলে সঙ্গে পানি রাখো, বারবার পানি খাও। পানির সঙ্গে বাড়তি শক্তি নিতে রাখতে পারো স্যালাইন। বাসা থেকে ফ্রেশ ফলের জুস নিয়ে যেতে পারো। সঙ্গে তাহলে বাইরেও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে না তোমাকে।

 

ড্রেসের সঙ্গে যুক্ত করো হ্যাট
সামার ফ্রেন্ডলি ড্রেসের সঙ্গে রোদ থেকে বাঁচতে চাইলে বেছে নিতে পারো বিভিন্ন ডিজাইনের হ্যাট। বিভিন্ন নকশার হ্যাট তোমাকে অন্যদের থেকে আরও সহনীয় আর আলাদা করে তুলবে। তবে যদি রেগুলার বাইরে যাওয়ার জন্য হ্যাট পরতে চাও, তবে এড়িয়ে চলো ফুল বা পালক দেওয়া হ্যাটগুলো। কারণ, এ-জাতীয় হ্যাট ভ্যাকেশনের জন্য পারফেক্ট হলেও প্রতিদিন বাইরে যাওয়ার জন্য নয়।

নজর দাও পোশাকের দিকে
গরমে আমরা আরামদায়ক কাপড় পরতেই বেশি পছন্দ করি। গরমের জন্য সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক কাপড় হচ্ছে সুতি কাপড়। রোদ আর গরমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তোমার পোশাকেও আনতে পারো পরিবর্তন। রোদ গায়ে লাগলে ত্বকের ক্ষতি হয়। তাই যেটা অনেক সময় আর দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে সানস্কিন অনেক সময় খুব বেশি উপকারে আসে না। সে ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারো ফুলহাতার ফ্যাশনেবল ড্রেস। বিভিন্ন ডিজাইনের কমফোর্টেবল ড্রেস নির্বাচন করো, যা রোদ থেকে তোমার ত্বক রক্ষার পাশাপাশি আরামদায়ক হবে।
চেষ্টা করবে হালকা রঙের পোশাক পরতে। কারণ, হালকা জাতীয় গরম কম লাগে। বেছে নিতে পারো ফুল হাতা কামিজ, কুর্তি, গাউন, টি-শার্ট বা শার্ট।

সময়
কিছু সময় মেনে চললে রোদ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের তাপ অনেক বেশি থাকে। তাই ভালো হয় এ সময়টা এড়িয়ে গেলে। চেষ্টা করো এই সময়টা বাদ দিয়ে বাইরে যেতে। এতে করে তীব্র রোদ থেকে রক্ষা পাবে। তুমি যদি চাকরি করো তাহলে কিন্তু কাজটা বেশ সহজ হয়ে যাবে। কারণ, সাধারণত সব অফিস তো ৯টা থেকে ৫টা। আর শিপিং, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কিংবা বাইরে খেতে যাওয়ার জন্য বেছে নাও বিকেল চারটার পরের সময়টা।
আমাদের ত্বক অনেক বেশি সেনসেটিভ। তাই ত্বকের যত্ন নেওয়াটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরাসরি রোদ থেকে রক্ষা করো তোমার ত্বক। যদি অতিরিক্ত রোদে ত্বকের পরিবর্তন আসতে শুরু করে, তবে যত্ন নাও এখনই।
লেখা : সাবিহা জামান
ছবি : সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × three =