রোমাঞ্চকর মাউন্টেন ফ্লাইট

করেছে Tania Akter

আল আমিন রনি

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিমালয়। মন্ত্রমুগ্ধকর হিমালয় পর্বতমালা নিজ চোখে দেখার স্বপ্ন পৃথিবীর সকল প্রকৃতিপ্রেমীর। তবে হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া জয় করতে পেরেছেন হাতে গোনা কয়েকজন এভারেস্টজয়ী। যারা পর্বতে আরোহণ করতে পারবেন না, তাদের জন্য হিমালয় দেখার আদর্শ উপায় ‘মাউন্টেন ফ্লাইট’।

মাউন্টেন ফ্লাইট কাঠমান্ডু থেকে উড্ডয়ন করা একটি বিশেষ ধরনের পর্বত ফ্লাইট, যা ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় হিমালয় এবং সংলগ্ন পর্বতচূড়াসমূহ প্রদক্ষিণ করে। এক ঘণ্টার এই যাত্রায় মাউন্টেন ফ্লাইট দেবে তুষার ঢাকা পর্বত চূড়াসমূহ উপভোগের রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি।

বিশেষ এই ট্রিপ হিমালয় অঞ্চলের পর্বতমালা, হিমবাহ এবং উপত্যকাগুলোর ওপর দিয়ে নিয়ে যাবে। হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং অন্নপূর্ণা পর্বতসমূহ দর্শনের বিরল সাক্ষী।

কখন যেতে হবে
পর্বতমালার দর্শনীয় চূড়াসমূহ পর্যবেক্ষণের সেরা সময় হলো শীতকালÑ সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। কারণ বছরের এই সময়ে হিমালয়ের চূড়াগুলো চমৎকার তুষার পরিধান করে। পাশাপাশি হ্রদ এবং হিমবাহগুলো হিমালয় থেকে স্বচ্ছ জলে সমানভাবে আলোকিত হয়।

এয়ারলাইনস
মাউন্টেন ফ্লাইটের জন্য বেশ কিছু বিশেষায়িত এয়ারলাইনস রয়েছে। এর মধ্যে সিমরিক, ইয়েতি, বুদ্ধা এবং শ্রী এয়ারলাইনস অন্যতম। আমরা সিমরিক এয়ারে ভ্রমণ করেছিলাম।

উড্ডয়নের সময়
হিমালয়ের অপার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভোর থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কাঠমান্ডুতে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে হোটেল পিকআপের সময় সকাল ৫টা এবং বিমান ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যায়।

তবে বিশেষ এই ফ্লাইট দিনের আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। যদি আবহাওয়া বিমান উড্ডয়নের জন্য উপযোগী না হয়, তাহলে পরবর্তী দিনের জন্য ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ হতে পারে।

খরচ
পর্যটকদের জন্য মাউন্টেন ফ্লাইটে জনপ্রতি খরচ ১৮৯ মার্কিন ডলার। তবে স্থানীয় এবং ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এর মূল্য ৯৯ মার্কিন ডলার।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পাসপোর্ট বা আইডি কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে ভুলবে না। গরম কাপড় এখানকার জন্য আদর্শ। আর হিমালয়ের অভূতপূর্ব দৃশ্য ধারণ করতে সঙ্গে রাখো ভালো রেজল্যুশনের ক্যামেরা বা ভিডিও ডিভাইস। তবে এখানে ধূমপান এবং বড় ব্যাগ বা লাগেজ রাখার অনুমতি নেই।

এভারেস্ট অভিজ্ঞতা

মাউন্টেন ফ্লাইট শুধু হিমালয় শৃঙ্গ উপভোগের রোমাঞ্চকর অনুভূতিই প্রদান করে না বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নেপালের ভূগোল সম্পর্কে ও স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে।

মাউন্টেন ফ্লাইটে সফল আরোহণকারী প্রত্যেকের জন্য এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় বিশেষ সার্টিফিকেট : অ খওঋঊঞওগঊ অডঅজউ ঞঙ ঝঊঊ গঙটঘঞ অঠঊজঊঝঞ!

আরও কিছু জেনে রাখি
হিমালয় কোনো একক শ্রেণি বা মালা নয়, বরঞ্চ একটি ধারাবাহিক শ্রেণি, একে অন্যের প্রায় সমান্তরাল ধারায় লম্বা দূরত্ব স্থাপন করেছে। আবার কোথাও দুটি ধারা একসঙ্গে মিশে গেছে। এরই মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য উপত্যকা, অধিত্যকা আর বালিয়াড়ি।

সমভূমি থেকে সারিবদ্ধ অনুচ্চ পাহাড়ের ভিত ধরে উচ্চ থেকে আরও উচ্চে উঠে গেছে হিমালয়ের শ্রেণি আর তার অভ্রভেদী চূড়াশৃঙ্গ, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে সুবিখ্যাত মাউন্ট এভারেস্ট, মাউন্ট ক২, কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়া আরও অনেক পর্বত।

এর মধ্যে কিছু পর্বতমালার গতি প্রধান হিমালয় বলয়ের অনুপ্রস্থ বা আড়াআড়ি। এগুলো হচ্ছে আসাম রেঞ্জ, মণিপুর রেঞ্জ, আরাকান ইয়োমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, পেগু ইয়োমা ইত্যাদি। হিমালয় ও অন্যান্য মধ্য এশীয় পর্বত পৃথিবীর ছাদ অর্থাৎ পামির মালভূমি থেকে উত্থিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেছে। পামির মালভূমি থেকে হিমালয় ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব দিক বেষ্টন করে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত হয়েছে।

 

এই পর্বতশ্রেণির পূর্বাঞ্চল পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় সংকুচিত এবং পরস্পরের খুব কাছাকাছি। এর ফলে আচমকা এগুলো সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে গেছে। এ কারণেই এগুলোর তুষার আবৃত শৃঙ্গগুলো, যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দৃশ্যমান। হিমালয়ের প্রধান প্রধান শ্রেণিমালা আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের সীমান্ত মধ্যবর্তী প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার স্থানজুড়ে বিরাজমান।

ছবি: লেখক

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

15 − ten =