শাড়ি পরার ভিন্ন ধরণ

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

শাড়ি নারীর এমন এক ভূষণ যা গায়ে জড়াতেই এক অন্যরকম লুক সংযোজন করে। যে কোন উপলক্ষেই নারীর পছন্দের তালিকায় থাকে শাড়ি। কালের বিবর্তনে বদলেছে  শাড়ির পাড়-আঁচল, বুনন এবং পরিধান কৌশল। শাড়ি এখন আর নিছক ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই, এর নিখুঁত এবং অনন্য চেহারা পেতে এর সাথে চলে নানা এক্সপেরিমেন্টের; যা এই ক্লাসিক পোশাকের চেহারাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। আজ আমরা এই শাড়ি পরার বিভিন্ন স্টাইল সম্পর্কে জানবো।

শাড়ির ভিন্ন ভিন্ন পরার কৌশল

কোমরের চারপাশে শাড়ি জড়ানোর সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে প্যাঁচিয়ে পড়া যেতে পারে, যদিও ক্ষেত্রবিশেষ কিছু শৈলীর জন্য নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য বা আকারের শাড়ি প্রয়োজন। শাড়ির ইতিহাসবিদ এবং স্বীকৃত বস্ত্রশিল্প পণ্ডিত রতা কাপুর চিশতি তার ‘শাড়িসঃ ট্র্যাডিশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ গ্রন্থে শাড়ি পরিধানের ১০৮টি পদ্ধতি নথিভুক্ত করেছেন। বর্তমানে ট্রেন্ডি কিছু শাড়ি পরার বিভিন্ন স্টাইলের ঝলক দেখানো হল-

বেল্ট স্টাইল

বেল্টের শাড়ি আজকাল বেশ জনপ্রিয়। সাধারণভাবেই শাড়িটি পরতে হবে এবং সাথে একটি বেল্ট যোগ করতে হবে, যা আঁচলকে নিয়ে কোমরে জড়িয়ে থাকবে। যদি আরেকটু ঐতিহ্যবাহী চেহারা পেতে চাও তবে কোমরে কোমরবান্ধও ব্যবহার করতে পারো। এই ধরনের স্টাইল শিফন, সিল্ক কিংবা শাটিন শাড়ির সাথে অনায়াসে করা যাবে। শাড়ি সুন্দরভাবে সেট হয়ে থাকার পাশাপাশি স্টাইলিশও দেখাবে।

ধুতি স্টাইল

এর স্বতন্ত্র চেহারার জন্য এটিও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নিচের দিকে ধুতি-স্টাইলের বুননের জন্য এটি ঐতিহ্যবাহী শাড়ি থেকে আলাদা। ভালো ড্র্যাপিংয়ের উদ্দেশ্যে এই স্টাইলে শাড়ির নিচে পেটিকোটের পরিবর্তে একটি লেগিংস পরতে হবে। শাড়ি কোমরে না পেঁচিয়ে পায়ের মাঝে ভরে ধুতির মতো করে পরতে হবে। প্রয়োজনে এর সাথে বেল্টও যোগ করা যেতে পারে।

মারমেইড স্টাইল

ড্র্যাপিংয়ের এই স্টাইলটি প্লিটের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘুরেফিরে মারমেইডের লেজের মতো দেখায়। ড্রেপটি দেখতে অনেক কঠিন মনে হলেও এটির জন্য শুধুমাত্র কয়েকটি অতিরিক্ত টাক এবং প্লিট প্রয়োজন।

নেক স্টাইল

এই স্টাইলে শাড়ির আঁচল স্কার্ফের মতো করে গলায় পেঁচাতে হবে। এই ধরন করতে হলে নরমালি  আঁচলের জন্য যতটুকু কাপড় রাখা হয় তার থেকে দৈর্ঘ্য আরও লম্বা রাখতে হবে। প্রথমে শাড়ি যেমনভাবে পরে সেভাবে পরার পর আঁচল মাথার পেছন থেকে ঘুরিয়ে গলায় আটকাতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এই পেঁচানো যাতে খুব বেশি টাইট না হয়ে যায়।

প্যান্ট স্টাইল

এই স্টাইলটি সহজ, কার্যকরী এবং সুপার চিক। এর চটকদার চেহারা ছাড়াও, এটি অবিশ্বাস্যভাবে আরামদায়ক। এর জন্য ভেতরে প্যান্ট পরে নিতে হবে। তার উপর কুঁচির প্লিট বানিয়ে আটকাতে হবে এবং বাকি অংশ ঘুরিয়ে আঁচলে আটকাতে হবে। সুপার কম্ফি এই লুক ওয়াস্টার্ন একটা ভাইব দিবে।

লেহেঙ্গা স্টাইল

যখন একটি শাড়ি দিয়েই আস্ত লেহেঙ্গা স্টাইল করা যায় তাহলে আর দামি লেহেঙ্গা কিনবে কেন? এর দূর্দান্ত লুক আনার জন্য শাড়ির সাথে স্কার্ট বা লেহেঙ্গা স্টাইল পেটিকোট পরতে পারো। এতে শাড়ির পরার ধরনে আরও ফ্লাফি দেখাবে। আঁচলের অংশটুকু সুন্দর ভাবে কাঁধে সেট করে, কুঁচির প্লিট সামনে না দিয়ে পেছনের দিকে আটকে দিতে হবে। শেষ অংশটি কোমরে আটকে দিলেই হয়ে যাবে লেহেঙ্গা স্টাইল শাড়ি।

সামনে আঁচল দিয়ে স্টাইল

এটি সবচেয়ে সিম্পল একটি স্টাইল। এতে শাড়ির আঁচলটি বাম কাঁধে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, পিছন থেকে ঘুরিয়ে ডান কাঁধে নিয়ে যেতে হবে। গুজরাটি শৈলীতেও এইভাবে শাড়ি পরা হয় এবং আঁচলের প্লীটগুলো সামনে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রি-স্টিচড গাউন স্টাইল

এই স্টাইলটি ফলো করতে চাইলে, তার জন্য আকর্ষনীয় ব্লাউজ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সিকুইন, নেট, জ্যাকেট-স্টাইল বা পেপ্লাম বডিসের মতো অলঙ্করণগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

four × four =