শাড়ি বুঝে শাড়ির যত্ন

করেছে Suraiya Naznin

আফসানা সুমী

শাড়িরা একসময় থাকে শখের সঙ্গী। আমরা মেয়েরা কিশোরী বয়সে একটা-দুইটা শাড়ি কিনি বা মায়ের শাড়িটা পরি এভাবেই সম্পর্কটার শুরু। তারপর এই শাড়িরাই একসময় সবচেয়ে প্রিয় সখী হয়ে যায় আমাদের। আমরা শাড়ি জমাই, কারণে-অকারণে শাড়ি সংগ্রহ করি। নানান রঙের, নানার কারুকাজের শাড়িরা প্রিয় আলমারিতে বসবাস করতে শুরু করে একই ছাদের নিচে আমাদের সঙ্গে।

প্রিয় এই সখীদের যত্ন নিয়েও আমাদের ভাবতে হয়! তাদের কেউ অভিমানী, কেউ রাজকীয় ভাবভঙ্গি নিয়ে থাকে। নানান ঘরানার যত্ন নিয়েই কথা বলি চলো-

 

জামদানি
জামদানিগুলো যেন বড্ড অভিমানী, খুব আদর চাই, মাঝেমধ্যেই তাদের সঙ্গে দেখা করতে হয়, রোদ-ছায়ার লুকোচুরি খেলতে হয়। নইলে দীর্ঘ ব্যবধানের পর শাড়ি বের করলে দেখা যায় ফেঁসে গেছে শাড়ি। তাই যা করবে-

১. জামদানি শাড়ি ভাঁজ করে না রেখে রোল করে রাখবে
২. মাঝেমধ্যে বের করে রোদে দেবে
৩. জামদানি শাড়ি মাঝেমধ্যে পরলে শাড়ির আয়ু বাড়ে, রেখে দিলেই ক্ষতি।
৪. হ্যান্ডওয়াশ বা ড্রাইওয়াশ নয়, জামদানি কাটা ওয়াশ করতে হয়।

 

 

মসলিন
রানিদের পোশাক মসলিন। এর আভিজাত্যে ইংল্যান্ডের রানি এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে নিয়মিত পরিধান করতেন। তো এই শাড়ির মনমর্জিও কিন্তু রাজকীয়। যা করবে-

১. মসলিন শাড়ি ভাঁজ করে না রেখে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখো
২. মাঝেমধ্যে ভাঁজ বদলে দিলে ভালো
৩. শাড়ি চাপাচাপি করে রাখবে না, মসলিনের সুতার ক্ষতি হয় সে ক্ষেত্রে।
৪. মসলিন ড্রাইওয়াশ করতে হয়।

 

সিল্ক
সিল্ক মানেই রেশম রেশম একটা অনুভূতি। সিল্কের শাড়িরা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া একদম পছন্দ করে না। তাই যা করতে হবে-
১. মাঝে রোদে দেবে
২. হ্যাঙ্গারে রাখা যাবে, তবে অনেক শাড়ির সঙ্গে চাপাচাপি করে রাখলে ফেঁসে যাবে।
৩. ড্রাইওয়াশ করাই ভালো। সঙ্গে হালকা তাপে আয়রন করতে হবে। সিল্ক শাড়ি তাপ মোটেই পছন্দ করে না।

 

সুতি
সুতি শাড়িরা তো সবচেয়ে প্রিয় সখী হয় মেয়েদের। একেবারে ছেলেবেলার পুতুল খেলার সাথি যেমন। তাদের সঙ্গে গলায় গলায় ভাব বলে যত্নে অবহেলা করলে কিন্তু হবে না। তাদেরও চাই ভালোবাসা। কী করবে-

১. সুতি শাড়ি পরার পর সঙ্গে সঙ্গে ভাঁজ করে রেখে না দিয়ে মেলে দিতে হবে বাতাসে
২. কড়া রোদে শাড়ি শুকাতে দেওয়া যাবে না, রং জ্বলে যাবে।
৩. সুতি শাড়ি আয়রন করার সময় ওপরে পাতলা কাপড় ব্যবহার করতে হবে।

 

 

হাতে আঁকা শাড়ি
নানান ঘরানার সুতায় বোনা শাড়িকে রাঙিয়ে তোলে শিল্পীরা আপন রঙে। সেই শাড়ি মসলিন হোক বা সুতি, একটু ভিন্ন যত্ন দাবি রাখে বৈকি।

১. হাতে আঁকা শাড়ি ড্রাইওয়াশ করাই শ্রেয়।
২. শাড়ি অবশ্যই উল্টো করে রোদে দিতে হবে।
৩. আয়রন করার সময় উল্টো পিঠে পাতলা কাপড় ব্যবহার করতে হবে।
৪. শাড়ি মেলে রাখতে হবে মাঝেমধ্যে, যাতে বাতাস লাগে।
৫. কখনোই কড়া রোদে দেওয়া যাবে না।

 

মণিপুরি শাড়ি
ক্লজেটে মণিপুরি শাড়িরা হলো সুখের স্মৃতির মতো মায়াবী সখী। তাদের যত্নে যা করবে-

১. কয়েকবার পরার পর মণিপুরি শাড়ির মাড় চলে যায়। জামদানির কাটা ওয়াশ যেমন জামদানি তাঁতিরাই ভালো জানেন, তেমনি মণিপুরি শাড়িতে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এর তাঁতিরাই যথার্থ। দায়িত্বটা তাদেরই দেবে।

২. পানিতে অনেকক্ষণ ভিজিয়ে না ধোয়াই উত্তম। ড্রাইওয়াশ করতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

কাতান বা বেনারসি
কাতান ও বেনারসি হলো শাড়ির রাজ্যে সেই বন্ধু, যারা শুধু বিয়ের দাওয়াত দিলেই আসে। বেশি ভাব-ভালোবাসা তাদের পছন্দ নয়। এই শাড়িগুলো তুলনামূলক ভারী হয়। সব শাড়ির সঙ্গে না রেখে অনায়াসে ভাঁজ করে আলাদা বাস্কেটে সংরক্ষণ করতে হবে। শাড়ি ধোয়া, আয়রনের দায়িত্ব পুরোপুরি লন্ড্রিতে, নিজে করতে যাবে না একদমই।

সব শাড়ির সুরক্ষায় দুটি জরুরি কথা-
১. শাড়ির আলমারি কখনোই স্যাঁতসেঁতে বা ড্যাম্বজ দেয়ালে রাখবে না। এতে শাড়িতে ফাঙ্গাস পড়ে, শাড়ি নষ্ট হয়।
২. শাড়ির ফাঁকে ফাঁকে শুকনো নিমপাতা রাখলে তা শাড়িকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

প্রিয় সখীদের যত্ন আত্তি করলে দেখবে তারা হাসিখুশি থাকবে সব সময়। নতুনের মতো উজ্জ্বলতা ছড়াবে! সখ্য দৃঢ় আর দীর্ঘস্থায়ী হবে। তখন যেকোনো দিন যেকোনো শাড়ি অঙ্গে জড়িয়ে হয়ে উঠবেন প্রজাপতি, থাকবে না কোনো বারণ।

ছবি: আফসানা সুমী
পোশাক: গুটিপোকা

০ মন্তব্য করো
1

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

14 − 11 =