শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচাতে করণীয়

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

দেশে বর্তমানে মহামারী আকারে ধারণ করেছে মশাবাহীত রোগ ডেঙ্গু। সময়মতো চিকিৎসা না হলে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এগুলি এড়াতে, এখানে কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্কে বলা হয়েছে যা তোমাকে ডেঙ্গু জ্বরের সূত্রপাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।

সর্বশেষ সূত্রানুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকায় রয়েছে ২৭ হাজার ৯৭১ জন। আর এতে মারা গেছে ১৬২ জনের মত। এত দিন ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ঢাকায় বেশি থাকলেও বর্তমানে ঢাকার বাইরেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এডিস মশাবাহীত এই রোগ প্রাণঘাতী না হলেও কয়েক বছর ধরে এই মৃত্যুর সংখ্যার কারনে, এটি এখন এক আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৩ সালে রেন কিমুরা ও সুসুমু হোত্তা নামক দুই বিজ্ঞানী প্রথম ডেঙ্গু ভাইরাসকে বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে একটি সাধারন ভাইরাল সংক্রমণ। শহরাঞ্চলে এই জ্বর বেশি দেখা যায় কারন মানুষের আনাগোনা বেশি, অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মান, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে মানুষ ও মশার চলমান ভ্রমণের দরুন শহরে এই জ্বর ৩০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিবছরই অনেককে প্রভাবিত করে তবে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের মধ্য দিয়ে একে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায়। এতে যেকোন বয়সী ব্যক্তিই আক্রান্ত হতে পারে এবং শিশুরাও সমান ঝুঁকিতে রয়েছে। যেহেতু বাচ্চাদের ইমিউন সিস্টেম ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তাই তাদের মারাত্মক জ্বর এবং অন্যান্য উপসর্গ হওয়ার চান্স বেশি থাকে। একদিকে মশার কামড় নিয়ন্ত্রন করা যেমন বেশ চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে এমন কোন টিকা নেই যা বাচ্চাদের ডেঙ্গু জ্বর থেকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং, যা করতে হবে তা হল কিছু দরকারী টিপস অনুসরণ করা যা বাচ্চাদের এই জ্বর থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

উপসর্গগুলোর ব্যাপারে জানা

একটি শিশুর মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষনগুলো সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। অন্যান্য সাধারন শৈশবের সংক্রমণের সাথে এটিও গুলিয়ে ফেলার চান্স থাকে। তাই ডেঙ্গুর উপসর্গগুলোর ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান সময়মতো তা নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করতে পারে। এটি  বাচ্চাদের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেতে সাহায্য করবে। উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, চোখের পিছনে ব্যথা, ক্লান্তি, ত্বকে ফুসকুড়ি ডেঙ্গু জ্বরের কিছু লক্ষন। বাচ্চাদের মধ্যে এই ধরনের কিছু লক্ষ্য করলে উপক্ষা করা যাবেনা। অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহন করা

আজকাল বাজারে এমন অনেক ক্রীম ও স্প্রে রয়েছে যা মশার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরে এপ্লাই করলে তা মশাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এই পন্যগুলো বিশেষ করে শিশুদের জন্য এমনভাবে তৈরি যা তাদের ত্বকে কোনধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনা। এগুলো বাচ্চা বিশেষ করে স্কুলগোয়িং বাচ্চাদের দিয়ে রাখলে কিছুটা সেফ থাকা যাবে।

ঘরের ভেতর নিরাপদ রাখা

ঘরের বাহির ছাড়াও ঘরের ভেতরও নিরাপদ রাখতে হবে। ঘরের প্রতিটি কোণ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসার ভেতরে কোথাও যাতে পানি না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে কোন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। আজকাল আমরা ঘরেই এমন অনেক গাছে পানিতে ভিজিয়ে রাখি। এমতাবস্থায় দুদিন পর পর পানি পরিবর্তন করে দিতে হবে। এছাড়াও বারান্দায় করা বাগানে এমন কিছু গাছ লাগানো যেতে পারে যেগুলো মশা নিরোধক হিসেবে কাজ করে।

খাদ্যতালিকায় রোগ প্রতিরোধকারী খাবার যোগ 

শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মানে রোগের বিরুদ্ধে ভালো সুরক্ষা। একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ডেঙ্গু জ্বরের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি নিশ্চিত করে। বাচ্চাদের খাদ্যতালিকায় অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিকারী খাবার যোগ করা যেতে পারে। এর মধ্যে দই, হলুদ,আদা, রসুন, পালং শাক, সাইট্রাস খাবার এবং বাদাম অন্তর্ভূক্ত।

ভালোভাবে ঢেকে রাখা

বাচ্চার আরও ভালো সুরক্ষার জন্য ফুলহাতা, ঢিলেঢালা পোশাক পরিয়ে রাখতে হবে। বাচ্চাদের সবসময় ঘরে ধরে রাখা কঠিন। তাই তাদের উপযুক্ত কাপড় পরেই বাইরে ছাড়া উচিৎ। বেশি ফিটিংস ড্রেস এড়িয়ে যাওয়াই ভালো কারন এতে মশা সহজেই কামড়াতে পারে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × 3 =