শিশুদের হ্যান্ড-ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

ইদানীং প্রায়শই বাচ্চাদের একধরনের অসুখের খবর শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। দেখতে অনেকটা চিকেন পক্স বা গুটি বসন্তের মত মনে হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই রোগের নাম হ্যান্ড-ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ (এইচএফএমডি)। এটি ছোঁয়াচে এবং মূলত শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

শিশুদের এই হ্যান্ড-ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাসজনিত একটি জটিল সংক্রামক রোগ। এই রোগটি সাধারণত কক্সস্যাকি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। এই রোগ বড়দেরও হয়ে থাকে তবে বাচ্চাদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হয়। কারন ছোট বাচ্চাদের অনেকসময় সঠিকভাবে পরিষ্কার হওয়ার নিয়ম মানা হয়না। আর তাছাড়াও তাদের মুখে হাত দেয়ার প্রবণতাও রয়েছে। এই রোগ হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই শিশু সবচেয়ে বেশি সংক্রামক হয়। কিন্তু লক্ষন গুলো চলে যাওয়ার পরেও ভাইরাসটি কয়েক সপ্তাহ শরীরে থেকে যেতে পারে।

লক্ষন

-জ্বর

-গলা ব্যথা

-জিহ্বা, মাড়ি এবং গালের ভেতরে বেদনাদায়ক, ফোস্কা-সদৃশ ক্ষত

-হাতের তালুতে, তলপেটে এবং কখনো কখনো নিতম্বে ফুসকুড়ি। ত্বকের রঙের উপর নির্ভর করে ফুসকুড়িগুলো লাল, সাদা, ধূসর বা শুধুমাত্র ছোট ছোট দাগ হিসেবে দেখা যেতে পারে

-শিশুদের মধ্যে অস্থিরতা

-ক্ষুধামন্দা

প্রাথমিক সংক্রমণ থেকে উপসর্গ দেখা দেয়ার স্বাভাবিক সময়কাল ৩ থেকে ৬ দিন। বাচ্চাদের জ্বর হতে পারে, গলা ব্যথাও হতে পারে। জ্বর শুরু হওয়ার ১ বা ২ দিন পরে, মুখে বা গলার সামনে ঘা হতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাতে হবে

এই রোগের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। সধারনত কয়েকদিনের জ্বর এবং হালকা উপসর্গ সৃষ্টি করে। যদি বাচ্চার বয়স ছয় মাসের কম হয়, তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে পড়ে অথবা, মুখে ঘা বা গলা ব্যথা থাকে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগের জটিল দিক হল ডিহাইড্রেশন। মুখ  ও গলায় ঘা হওয়ার দরুন এটা কোন কিছু গিলতে সমস্যা করে তোলে। পানিশুন্যতা দেখা দিলে হাসপাতালে নিয়ে শিরায় স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করাতে হতে পারে।

কারনসমূহ

এই রোগ ছোঁয়াচে। একজন সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমে এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। যেমন-

-আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা গলা থেকে নিঃসৃত স্রাবের মাধ্যমে

-মুখের লালা

-ফোস্কা থেকে নিঃসরিত তরল পদার্থ

-কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে

প্রতিরোধ

অনেক উপায়ে এই সন্তানকে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে-

-বারবার করে হাত ক্লিন করতে হবে। টয়লেট থেকে বের হয়ে অথবা বাচ্চার ডায়াপার চেঞ্জের পর ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। খাবার তৈরি করার সময় বা খাওয়ানোর আগে, হাঁচি- কাশি দেয়ার পর হাত পরিষ্কার করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে। যখন সাবান এবং পানি হাতের কাছে পাওয়া না গেলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

-বাচ্চাদের শেখাতে হবে কিভাবে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে এবং তাদের তা করতে উৎসাহ করতে হবে। এবং সম্ভব হলে তাদের বুঝাতে হবে কেন আঙুল, হাত বা অন্য কিছু মুখে না রাখাই ভালো

-বাচ্চারা যেসব জায়গায় ফ্রিকুয়েন্টলি চলাচল করে সেসব স্থান সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়াও তাদের খেলনা, খাবারের পাত্র ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে রাখতে হবে।

-যেহেতু এই রোগটি সংক্রামক, তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ চলাকালীন অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। জ্বর চলে না যাওয়া পর্যন্ত হাত-পা ও মুখের রোগে আক্রান্ত শিশুকে স্কুল বা জনসমাগম থেকে দূরে রাখতে হবে

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

8 − six =