শীতেও ফিট ও ফ্যাশনেবল

করেছে Tania Akter

তানিয়া আক্তার

প্রকৃতি বদলায়। বদলে যায় পোশাকের ধরন। এই হিম হাওয়ায়ও গায়ে জড়িয়ে নিতে হচ্ছে ভারী ও আরামদায়ক পোশাক। তবে সেই পোশাকে নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য শরীরের সুন্দর গড়ন প্রয়োজন। কারণ, সুন্দর স্বাস্থ্যেই মানাবে ফ্যাশনেবল পোশাক। তাই এই শীতে ফিট ও ফ্যাশনেবল থাকা নিয়ে এবারের আয়োজন।

ফ্যাশনেবল উষ্ণ পোশাক

গায়ে জড়ানোর শীতপোশাকে তরুণদের এবার ব্লেজারের ফরমাল ব্যবহারের বাইরে ক্যাজুয়াল ব্যবহারও বেড়েছে। পাশাপাশি ওয়েস্ট কোট বা প্রিন্স কোটের জনপ্রিয়তা রয়েছে। কারণ, যেকোনো উৎসবে বা পার্টিতে প্রিন্স কোট কিংবা  ব্লেজার সব বয়সীদের জন্যই বেশ মানানসই একটা পোশাক। পাশাপাশি উল, খাদি কিংবা ডেনিমের তৈরি হালকা পোশাকের বহুল প্রচলিত ব্যবহার তো রয়েছেই। আর চাঁদও তো চিরকালীন ট্রেন্ড। জিনসের সঙ্গে মোটা টি-শার্ট কিংবা শর্ট পাঞ্জাবি আর তার ওপর আটপৌরে চাদর জড়িয়ে নেওয়া তরুণদের দীর্ঘদিনের ট্রেন্ড। তবে হালকা পোশাক থেকে ধীরে ধীরে ভারী পোশাকের দিকে যাওয়ার স্টাইলকে বলা হয় লেয়ারিং বা একটি পোশাকের ওপর কয়েকটি পোশাকের আস্তর। সকাল, দুপুর আর সন্ধ্যার তাপমাত্রা মিলিয়ে পোশাকের এই লেয়ারিং স্টাইল নজর কাড়ছে এবারের ট্রেন্ডে।

 

এই শীতে তরুণীদের জন্য একরঙা লেদারের পাশাপাশি নজর কাড়ছে চেক, স্ট্রাইপসহ ব্লেজার। পাশাপাশি পশ্চিমা লুক  পেতে এবারও লং কোট, ট্রেঞ্চ কোটের কদর রয়েছে। কারণ, ওগুলো বেশ লম্বা এবং অধিকাংশ সময়েই সামনে থাকছে বেল্ট। এ ছাড়া ক্রপ টপ, টার্টেল নেকের প্রাধান্যও রয়েছে এই শীতে। এগুলোর সঙ্গে পড়ার জন্য বেছে নেওয়া যায় ডেনিম জিনস, গ্যাবার্ডিং প্যান্ট, লেগিংস ইত্যাদি।

দেশীয় লুক পেতে বাঙালি তরুণীর চিরকালীন শীতপোশাকের ঐতিহ্যবাহী চাদর তো রয়েছেই। যেকোনো পরিবেশে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ বা জিনসের সঙ্গে অনায়াসেই মানিয়ে যায় রংবাহারি চাদর। সম্প্রতি ফিউশন ধাঁচের পোশাকই বেশ চলছে। ডেনিমের জ্যাকেটে কাঁথাফোঁড়। কিংবা ব্লেজারে ফুলেল আর অ্যানিমেল নকশা। মখমলের কাপড়ে চুমকির ব্যবহার। কখনো বর্ণমালা, কবিতার লাইন কিংবা গল্পের পছন্দেও চরিত্রের ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে পোশাকের গায়ে। এই পোশাকগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে রং, মোটিফ ও প্যাটার্নের।

রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, শীত কম সময়ের মধ্যে থাকলেও এর আলাদা ধরন আছে। তাই শীত নিয়ে প্রত্যেক সিজনে আলাদা আয়োজন থাকেই। রঙ বাংলাদেশ যেহেতু শুরু থেকেই থিমভিত্তিক কাজ করে থাকে, এই শীতেও থিমের আশ্রয় নিয়েছি। এবার ট্্ির ব্রাঞ্চ অর্থাৎ গাছের শাখা, এটাকে এবারের থিমে নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ফুলহাতা টি-শার্ট হোক বা লং কটি হোক সবকিছুতেই আমরা গাছের শাখার মোটিফটা রেখেছি। লেডিস লং কটি, শর্ট কটি, জাম্প স্যুট, শ্রাগ আর শীতের শাল তো সব সময়ই হয়। এ ছাড়া শীত উপলক্ষে কিছু ব্লাউজ এনেছি। বড় এবং ভারী ব্লাউজগুলোর লুক বেশ ট্রেন্ডি। এগুলো অনেকটা টপসের মতো। ছেলেদের শীতের জন্য ফুলহাতা শার্ট, টি-শার্ট, এনেছি।  এ ছাড়া হুডিতেও বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছি। এখনকার তরুণেরা হুডি বা কটি বেশ পছন্দ করছে। আর তরুণীরা বরাবরই আমাদের শাল পছন্দ করেছে। এ ছাড়া শ্রাগ, লং কটি, শর্ট কটিও বেশ পছন্দ করছে।

ক্যাটস আইয়ের চিফ ডিজাইনার ও পরিচালক সাদিক কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের দেশে শীত পড়ে কম। তবু আরামদায়ক, স্টাইলিশ, অভিজাত পোশাক হিসেবে শীতে ব্লেজার বা কাপড়ের জ্যাকেট এখন বেশ জনপ্রিয়। এ কারণেই ফরমাল পোশাকের বলয় ভেঙে ক্যাজুয়াল ধাঁচেও ব্যবহার বেড়েছে ব্লেজারের। ক্যাজুয়াল স্ট্রিটওয়ার হিসেবে ট্র্যাকস্যুটও ট্রেন্ডে ফিরেছে, জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে হুডি ও সোয়েটারও। ক্যাটস আই এসব ট্রেন্ডি আউটফিটের বাইরেও ইভিনিং পার্টি ও বিয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে মেন্ডারিন ভেস্ট ও শেরোয়ানিও এনেছে নতুনত্ব নিয়ে। এবারের ফ্যাশনে যা চলছে তাতে মনে রাখতে হবে “সিম্পল ইজ বেটার, লেস ইজ মোর।’

 

শরীরের পাশাপাশি পায়ের সাজে বরাবরই বুট কিংবা হাইটপ স্নিকারস বা কনভার্স হলো শীতের আইকনিক স্টাইল। এসব বুটের মধ্যে রয়েছে মিলিটারি বুট, অক্সফোর্ড বুট, চেলসি বুট, ডাবল হাইটপ বুট, হাইকিং বুট ইত্যাদি। কোন বুটটি কখন পরবে, নির্ভর করে পোশাক এবং উপলক্ষের ওপর।

শীতে শরীরচর্চা

শীতের শীতল হাওয়ায় আলস্য ঝেড়ে জীবনে আনতে হবে শৃঙ্খলা। মনোযোগী হতে হবে নিয়মিত শরীরচর্চায়। খেতে হবে সুষম খাবার। যতটা সময় থাকুক না কেন, সপ্তাহে অন্তত দুদিন সাঁতার কাটতে হবে। হাঁটতে হবে সপ্তাহে অন্তত ২০০ মিনিট। বাইরে একেবারে না গেলেও ঘরেই ট্রেডমিল ব্যবহার কিংবা খালি হাতেই ব্যায়াম করে নেওয়া ভালো। প্রতিদিন মিনিট দশেক যোগব্যায়াম করে নেওয়া যায়। কারণ যোগব্যায়াম সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপযোগী। কর্মজীবী হলে কর্মক্ষেত্রেই চালিয়ে যেতে হবে শরীরচর্চা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে চেয়ারে বসে বা ল্যাপটপের পাশে টেবিলে রাখার উপযোগী ব্যায়ামের অনুষঙ্গ রেখে দিলে সহজেই চোখে পড়বে এবং আগ্রহও তৈরি হবে। কাজের সময় মিনিট পাঁচেকের শারীরিক কসরত অনেক উপকারে আসবে। এ ছাড়া খালি হাতের কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে। যেমন আর্ম সার্কেল অর্থাৎ সোজা দাঁড়িয়ে হাত দুটো সামনে রেখে বৃত্তাকারে ওপর-নিচ সাত থেকে আটবার ঘোরাতে হবে। নেক রোলস অর্থাৎ সোজা হয়ে বসে মাথা ডান থেকে বাম আবার বাম থেকে ডানে ঘুরিয়ে ব্যায়াম করো। এভাবে তিনবার করো। এরপর বিপরীত দিকে একই পদ্ধতি তিনবার পুনরাবৃত্তি করো। শোল্ডার স্ট্রেচ অর্থাৎ দুই হাত একসঙ্গে করে ওপরের দিকে ধরে জোরে শ্বাস নাও ও ছাড়ো। চাইলে কয়েকবার ওয়াল পুশআপ দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সোজা দাঁড়িয়ে বাম পাশের পেটে চাপ দিয়ে হেলে গিয়ে আবার ডান দিকে হেলে যেতে হবে। এভাবে বার কয়েক চালিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া অফিসেই এক জোড়া অ্যাথলেটিক জুতা আর মোজা রেখে দিলে সুবিধামতো সময়ে একটু হাঁটা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা সবকিছুই কাজে দেবে।

 

শরীরচর্চার পাশাপাশি খাদ্যতালিকা তৈরি করে নিতে হবে নিজের ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী। শীতে প্রচুর শাক ও সবজি পাওয়া যায়। তাই খাদ্যতালিকায় চর্বিজাতীয় খাবার কমিয়ে নিলে ভালো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরল আর পেটে চর্বি জমতে না দিয়ে খাদ্যাভাসের দিকে নজর দিতে হবে শৈশব থেকেই। ফিটনেস ঠিক রাখতে পরিমিত পানি আর পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। এগুলো শুধু ফিটনেস ঠিক রাখতেই কার্যকর এমন নয়। জোগাবে বাড়তি শক্তি। কাটাবে বিষণ্নতা। ত্বকে বাড়াবে উজ্জ্বলতা।

ছবি: সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

1 × one =