শীতের আগাম প্রস্তুতি

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

শীতের আমেজ এখনো পুরোপুরিভাবে শুরু না হলেও চারদিকে হাল্কা ঠান্ডাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লেপ কম্বল মুড়ি দেয়ার সময়ও হয়ে আসছে। তাই ভালোভাবে শীত আসার আগেই সেরে নিতে হবে শীতের সবরকমের প্রস্তুতি।

ইট-কাঠ-পাথরের এই শহরে ঠান্ডার আভাস কিছুটা কম বুঝা গেলেও ভোরে এবং রাতের শেষে কিন্তু টের পাওয়া যায়। শীতে খেজুরের রস সাথে ধোঁয়া ছড়ানো নিত্য নতুন পিঠার সমারোহ উপভোগ করার দিন যেমন সাথে ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা ধরনের অসুখ হওয়ার সময়েরও শুরু। তাই তো শীতের জন্য চাই অগ্রিম সব প্রস্তুতি। প্রস্তুতি ঠিকঠাকভাবে নিতে পারলেই শীত হবে সুস্থ, সুন্দর ও উপভোগ্যময়

শীত পোশাকের যত্ন

শীত আসলেই আমাদের মধ্যে সবচেয়ে যে বেশি পরিবর্তন আসে তা হল পোশাক-পরিচ্ছদের। শীতের পোশাক যেমন সোয়েটার, জ্যাকেট, কার্ডিগান, স্যুট, মাফলার, মোজা, কানটুপি ইত্যাদি যেহেতু বছরের অল্প কয়েকটা মাস ব্যবহৃত হয়, তাই শীত আসার আগেই এগুলো কাবার্ড থেকে নামিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে রাখতে হবে। যেহেতু বেশিরভাগ সময়ই এগুলো আবদ্ধ অবস্থায় থাকে তাই এতে গন্ধ বা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব আসার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে শীতের পোশাকের কাপড়ের ধরন অনুযায়ি এর যত্নেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন-

-উলের কাপড়ের সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার কমবেশি আমরা সবাই ব্যবহার করি। আর জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগে এই রোদে উলের কাপড়ের পোশাকগুলো ভালভাবে দিয়ে রাখতে হবে। এতে যদি কন গন্ধ থেকে থাকে তা দূর হয়ে যাবে। দুই-তিন দিন রদে দেয়ার পর তা ধোয়ার প্রয়োজন হলে হালকা গরম পানিতে মাইল্ড ডিটারজেন্ট বা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। হার্শ কোন ডিটারজেন্ট এবং বেশি গরম পানি এড়িয়ে চলতে হবে। ধোয়ার সময় বেশি জোরে ঘষাঘষি করা যাবেনা এতে সুতা ফেঁসে যেতে পারে।

-ফ্লানেল কাপড়ের অতবেশি যত্নের প্রয়োজন হয়না। পরিমান মত লিকুইড সাবানে কাপড় ভিজিয়ে রেখে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হয়ে যাবে।

-লেদারের পোশাক একটু স্পর্শকাতর হয়। পোশাকের সাথে যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দেয়া থাকে সেভাবে এর যত্ন নিলে ভালো। মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য এটি রোদে দেয়া যেতে পারে। এগুলো মুড়ে না রেখে হ্যাংগারে ঝুলিয়ে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে।

লেপ-কম্বল-কাঁথার যত্ন

-হাল্কা ঠান্ডায় আমরা গায়ে কাঁথা ব্যবহার করে থাকি। এইসব কাঁথা পরিষ্কার করা তেমন কষ্টসাধ্য নয়। হাল্কা গরম পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে তাতে কাঁথা ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিলেই হবে।

-ঠান্ডার পরিমান যখন বেড়ে যায় তখন লেপ বা কম্বল নামাতে হয়। নতুন করে যদি লেপ, কম্বল বানাতে হয় তবে তা এখনই বানাতে দিলে ভালো হয়। আর যদি আগেই থেকে থাকে তবে নামিয়ে নিতে হবে। লেপ যেহেতু তুলা থাকায় বিধায় ধোঁয়া যায়না তাই তা কড়া রোদে ভালোভাবে উলটে পালটে শুকিয়ে রাখতে হবে। ভালো হয় যদি এর উপর কভার ব্যবহার করা হয়। তাহলে কভার ভালভাবে ধুয়ে এতে লাগিয়ে রাখলে অতিরিক্ত ময়লা বা ধুলাবালি থেকে রক্ষা করা যাবে। কম্বল বাসায় ধুয়ে ফেলা যায়। তবে এর অতিরিক্ত ওজনের কারনে পারা না গেলে সেক্ষেত্রে লন্ড্রিতে দেয়া যেতে পারে।

ত্বকের যত্ন

-শীত আসার আগেই এর প্রভাব পরা শুরু করে আমাদের ত্বকের উপর। ত্বকের যত্নে আমরা যেসব প্রসাধনী ব্যবহার করি, শীতে তার প্যাটার্ন কিছুটা চেঞ্জ হয়ে যায়। এইসময় সব সময়ই যেটা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক তা হল ময়েশ্চারাইজার। শুষ্ক হোক কিংবা তৈলাক্ত, সবধরনের ত্বকে ময়েশ্চারাইজার দেয়া উচিৎ। এসময় জেল বা ক্রিম বেইজড ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এতে ত্বক হাইড্রেট থাকবে এবং রুক্ষতা দূর করবে।

-ত্বকের পাশাপাশি এইসময় ঠোঁটও শুষ্ক হয়ে চামড়া ফেটে যায়। তাই নিয়মিত এক্সফোলিয়েট করলে মরা চামড়া দূর হয়। এই জন্য আগে থেকে লিপ স্ক্রাব কিনে রাখতে হবে। সাথে লিপবাম লাগাতে হবে, এতে ঠোঁট থাকবে কোমল।

-শীতের আগে হোক কিংবা শীতের সময়, সবসময়ই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। শীতের সময় রোদের তেজ কম থাকে বলে অনেকেই এই বিষয়টি স্কিপ করে দেয়। কিন্তু এটা খুবই ভূল ধারনা। এই সময়েও তো রোদের ইউভি রে থাকে। তাই সবসময়ের জন্যই সানস্ক্রিন প্রস্তুত রাখতে হবে।

হ্যান্ড ও ফুটক্রিম ব্যবহার

হাত ও পায়ের চামড়া ফেটে যায় এইসময়। ভালোমানের হ্যান্ড ও ফুটক্রিম আগে থেকে কিনে রাখলে এই সমসযার থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে।

অসুখ-বিসুখের হাত থেকে রক্ষা

শীতের হাত ধরে আসে অনেক অসুখ। এইসময় ঠান্ডাজনিত জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি খুবই কমন সমস্যা। এইসব থেকে রক্ষা পেতে নিতে হবে প্রস্তুতি। আগে থেকেই তরল ও গরম জাতীয় পানীয় বেশি করে খেতে হবে। চা,আদা, লেবু, হালকা গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। গোসলের সময় ঠান্ডা এড়ানোর জন্য হাল্কা গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনে ওয়াটার হিটার, ফ্লাক্স, ইলেক্ট্রিক কেটলি কিনে নেয়া যেতে পারে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

19 − ten =