শীতের নজরকাড়া ফুলের সমাহার

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

সময়ের পালাবদলে এক একটি ঋতু তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয়। চারদিকের হিম হিম ভাব নিয়ে শীত ঋতুর আগমন ঘটে। হিমেল হাওয়া সাথে খেজুরের রস, ফ্রেশ সবজী সবকিছুর জন্যই এই ঋতু অনেকের কাছেই প্রিয়। তবে এ সময়ে সবচেয়ে আবেদনময় হয়ে উঠে যা তা হোল রুক্ষ পরিবেশে জেগে উঠা শীতের সব নজরকাড়া ফুলগুলো। শিশির ভেদ করে জানান দেয় তাদের রুপের বাহার। ঘরের এক চিলতে বারান্দায় বা আঙিনায় যারা বাগান করতে ভালোবাসে তাদের জন্য শীতকাল হাজির হয় নানা রঙবেরঙের ফুলের ডালি নিয়ে। অল্প জায়গায় লাগানো যায় এমন কিছু শীতের ফুল নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের লেখাটি।

গাঁদা

বাগান আলোকিত করার জন্য যে  বাহারি ফুলের উপস্থিতি বেশি দেখতে পাওয়া যায় তা হলো গাঁদা। এটি মূলত বিদেশি ফুল। এর আদি নিবাস মেক্সিকোতে। ভারত ও বাংলাদেশে গাঁদার পাঁচটি জাত রয়েছে। বড় ইনকা গাঁদা, ছোট চায়না গাঁদা, রক্ত গাঁদা, দেশি গাঁদা এবং জাম্বো গাঁদা। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এর বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয় এবং প্রায় ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফুল ফোটে। এজন্য নতুন বাগানীদের জন্য বাগান প্রকল্প করার ক্ষেত্রে এই গাছ হতে পারে আদর্শ।

ডালিয়া

শীত মৌসুমের আরেকটি জনপ্রিয় ফুল হচ্ছে ডালিয়া। এদের চমৎকার বিন্যাস ও সৌন্দর্য সহজেই সকলকে মুগ্ধ করে। সুদূর মেক্সিকো থেকে আগত এটি একক ও যুগ্ম উভয় ধরনের ফুল রয়েছে। কোনটা একরঙা আবার কোনটায় একাধিক রঙের মিশেল থাকে। ডালিয়া মূলত কিছুটা বড় আকারের হলেও ছোট সাইজের ডালিয়াও পাওয়া যায়।

চন্দ্রমল্লিকা

চন্দ্রমল্লিকার ইংরেজি প্রতিশব্দ ক্রিস্যানথিমাম, ক্রিসস অর্থ ‘সোনা’ এবং এনথিমাম অর্থ ‘ফুল’। এর আদি নিবাস চীন হলেও এটি জাপানের জাতীয় ফুল। নানা রঙবেরঙের এবং শতাধিক প্রজাতির দেখতে পাওয়া যায় এই ফুলের। বিভিন্ন রঙের এই ফুলগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমূল্য রয়েছে প্রথম সারিতে। একদম ছোট সাইজ থেকে শুরু করে মাঝারি সাইজ পর্যন্ত হয়।

কসমস

এই ফুলকে মেক্সিকান এষ্টার বলেও ডাকা হয়। ভিক্টোরিয়ান সময়ে শ্লীলতার প্রতীক ছিল কসমস। ৯০ থেকে ১২০ সেমি লম্বা ও চিকন ডাঁটার উপর স্বল্প পাপড়ি বিশিষ্ট এই ফুলটি গোলাপির বিভিন্ন শেড, বেগুনি, ও সাদা রঙের হয়ে থাকে। এর বিভিন্ন জাত এবং রঙের জন্য এটি শীতকালীন আবহাওয়ায় উদ্যানগুলোতে আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবে জনপ্রিয়।

পিটুনিয়া

শীতকালীন শখের বাগান যার অনুপস্থিতিতে পূর্নতা পায়না তা হল শীত বাগানের রানী পিটুনিয়া। আফ্রিকা ও আর্জেন্টিনার ফুল হলেও আমাদের দেশে শীত মৌসুমে এটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ডবল পিটুনিয়া, যেটা থোকায় থোকায় ফুল দেয়; যদিও এই প্রজাতি কিছুটা কমই ফোটে। আরেকটি হল অনেকটা চোঙ আকৃতির, যা মোটামোটি পুরো মরসুম জুড়ে ভরে থাকে। এই ফুল গাছের যত্নের উপর ভিত্তি করে গাছে ফুলের সংখ্যা এবং আকৃতি স্থির হয়।

এসব ফুল গাছ ছাড়াও জিনিয়া, কৃষ্ণকলি, গ্যাজানিয়া এমন আরও অনেক গাছ বাগানে শোভা বর্ধনের জন্য ব্যবহার করা যায়। ওয়েল ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহকারে মাটি প্রস্তুত এবং সঠিক নিয়মে পানি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলা যায়।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 + 4 =