শীতের সাজকথন

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

শীত আসা মানেই চারপাশে উৎসবের ধুম পড়ে যাওয়া। বিয়ে, জন্মদিন বা হোক গেট টুগেদার পার্টি; এইসময় মনের মতো সাজ আর উৎসব দুটোর মজাটাই যেন জমে উঠে। আর এই লক্ষ্যে শীতকালীন সাজের কিছু টিপস নিয়ে হাজির হয়েছি যা তোমাকে এই কঠোর আবহাওয়াতেও উজ্জ্বল, চকচকে এবং প্রফুল্ল দেখাতে সাহায্য করবে। 

সাজের জন্য আমদের সবারই শীত ঋতু পছন্দের। এই মৌসুমে ঘাম বা অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের ভয় থাকেনা তাই মেকআপের স্থায়িত্ব অনেকক্ষণ বজায় থাকে। তবে বাস্তব সত্য হলো যে শুধু মেকআপ দিলেই তো হবেনা ত্বক যদি ভেতর থেকে সুস্থ না থাকে তবে চেহারায় সেই গ্লোয়িং ও শাইনি ভাব কিছুতেই ধরা দিবেনা। আমাদের চারপাশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যের এক্সপোজার ইত্যাদির পরিবর্তনগুলো ত্বককে প্রভাবিত করে। শীতল মাসগুলোতে আর্দ্রতা কম থাকে বিধায় ত্বক শুষ্ক এবং ফ্লেকি হয়ে যেতে পারে। মুখের উপর মৃত চামড়া তৈরি করতে পারে। এটি সেই শুষ্ক ফ্লেকি মৃত ত্বকের গঠন যা অনিবার্যভাবে দুঃস্বপ্নের কেকি মেকআপ ভাইবের দিকে নিয়ে যায়। ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবে মেকআপ বসতে চায়না এবং দীর্ঘস্থায়ীও হয়না। এছাড়াও শীতে সাজে কেকি ভাব আসার আরও কিছু কারনের মধ্যে রয়েছেঃ

-অনুপযুক্ত লেয়ারিং

-হেভি ফাউন্ডেশন / পাউডারি পণ্যের ব্যবহার

-স্কিন টাইপের সাথে খারাপ পেয়ারিং এর ফাউন্ডেশন নির্বাচন

সাজের জন্য সঠিক মেকআপ নির্বাচনের পাশাপাশি ত্বকের যত্নের রুটিন অনুসরণ করাও জরুরী। বছরের এই সময়ে ত্বকের যত্নের রুটিন ও মেকআপের কৌশলগুলো অবশ্যই প্রকৃতির রুটিন চক্রের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, যা তোমার চেহারাকে পরিবর্তন করবে এবং আক্ষরিক অর্থেই জীবনকে বদলে দেবে। আসো এই ব্যাপারে কিছু টিপস জেনে নিইঃ

ত্বক প্রস্তুতকরণ

তীব্র বাতাস, প্রচন্ড ঠান্ডা সবই ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে। শীতকালে ত্বকের জন্য চাই বাড়তি যত্নের। তাই তোমার বয়স যতই হোক না কেন একটি সকাল এবং রাতের ত্বকের যত্নের রুটিন থাকা মাস্ট। সি-টি-এম (ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং) এই ধারাবাহিকতা  রেগুলার বেসিসে অনুসরণ করলে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ক্লিনজারের ক্ষেত্রে যদি হার্শ কোন কিছু ব্যবহার করো তা কিন্তু ত্বকে জ্বালা, লাল বা টানটান হয়ে যেতে পারে। সঠিক ক্লিনজার ত্বকের স্বাস্থ্যকর কোষ বা প্রাকৃতিক তেলের বেশি অংশ ছিনিয়ে নিবেনা। এবং এটি মেকআপ, অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা সম্পূর্ণরুপে পারিত্রান দিবে। ত্বক যদি শুষ্ক থেকে স্বাভাবিক হয় সেক্ষেত্রে ক্রিমি বা হাইড্রেটিং ক্লিনজিং লোশন নাও। আর ত্বকের ধরণ যদি তৈলাক্ত হয় তবে সেক্ষেত্রে বেছে নিতে পারো জেল বা ফোমিং ক্লিনজার।

ফেসমাস্কের ব্যবহার

ভালো ময়েশ্চারাইজড ত্বকে খুব সহজেই ফাউন্ডেশন বসে যায়। ফ্লেক্সের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, পুষ্টিকর উপাদানে তৈরি একটি শক্তিশালী ক্রিমি হাইড্রেটিং মাস্ক প্রয়োগ করো যা তীব্র এবং গভীর থেকে হাইড্রেশন প্রদান করে। সপ্তাহে একবার রাতে ৫-১০ মিনিটের জন্য ব্যবহার করা শুরু করতে পারো।

এক্সফোলিয়েট করা

শীতের সময় ত্বকে মরা চামড়া ভেসে থাকা একেবারেই কমন ব্যাপার। এই সমস্যাএ একটাই সমাধান তা হলো নিয়ম করে এক্সফোলিয়েট করা। এক্সফোলিয়েশনের ফলে ত্বক মসৃণ হয়। সপ্তাহে ১/২ বার এটি করা যেতে পারে।

ময়েশ্চারাইজের ব্যবহার

ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা নেই। যে কোন ঋতুতে, যে কোন ত্বকে ময়েশ্চারাইজার দরকার। মেকআপ স্মুথলি বসার জন্য আগেই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। প্রদাহ বিরোধী উপাদানের সমন্বয়ে একটি সন্ধান করে নাও যা জ্বালা এবং অস্বস্তি প্রতিরোধ করে। ত্বক ধোয়ার সময় যে আর্দ্রতা পেয়েছো তা লক করতে সাহায্য করার জন্য পরিষ্কার করার সাথে সাথে ময়েশ্চারাইজার লাগাও। মেকআপের আগে এপ্ল্যাই করলে তা ভালোভাবে শোষিত হয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

শুকনো ঠোঁটকে জানাও বিদায়

তেল গ্রন্থির অভাবের কারণে আমাদের ঠোঁট সহজেই শুকিয়ে যায় এবং ফেটে যায়। পরবর্তীতে সাজের সময় তাতে লিপস্টিক দিলে খুবই বাজে দেখায়। তাই মৃত, শুষ্ক ত্বক অপসারণ করতে এবং তাদের টোন এবং টেক্সচার উন্নত করতে ঠোঁট এক্সফোলিয়েট করা জরুরী। এক্সফলিয়েশনের পরে ক্রিম লিপস্টিকগুলো প্রয়োগ করো যা ম্যাট বা দীর্ঘস্থায়ী ফর্মূলার চেয়ে বেশি হাইড্রেটিং।

সঠিক ফাউন্ডেশনের ব্যবহার

ত্বক প্রস্তুত হয়ে গেলে সাজের প্রথম ধাপে যা আসে তা হল মুখের বেস তৈরি করা। শীতে ত্বকে শুষ্কতার প্রভাব পড়ে, তাই ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে মেকআপ হালকাভাবে লাগানো এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখার দিকে মনোযোগ দেয়া উচিৎ। ফাইউন্ডেশনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে হাইড্রেটিং ফর্মূলা চেষ্টা করো যাতে গ্লিসারিনের মতো ময়েশ্চারাইজিং উপাদান থাকে। মনে রাখবে, ফাউন্ডেশন মুখের শুষ্ক অংশগুলোকে হাইলাইট করে বেশি।

ব্লাশ দাও মনের মতো করে

ব্লাশার এমন একটি জিনিস যা শীতের ফ্যাকাশে ভাবের মাঝে কিছু রঙ যোগ করতে পারে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের বর্ণকে জাগিয়ে তুলতে পারে এবং মুখকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। খুব বেশি মেকআপ না করে শুধুমাত্র গালে একটি গোলাপী ছায়া যোগ করা স্বাস্থ্যকর এবং প্রাকৃতিক আভা অর্জন করতে সাহায্য করবে।

ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা

ঠান্ডা বাতাসে আমাদের চোখ থেকে পানি পড়তে পারে। চোখের সাজের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করো যে তোমার চোখের মেকআপটি টিয়ার প্রুফ। এতে বাইরে বের হওয়ার সময় চোখের সাজ লেপ্টে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবেনা।

পাউডার এড়িয়ে চলো

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাউডার যেমন ফেস পাউডার, পাউডার ব্লাশ এমনকি পাউদার আইশ্যাডো শুষ্কতাকে হাইলাইট করে। ক্রিম এবং তরল সংস্করণের সাথে তোমার পাউডার পণ্য অদল বদল করো, যাতে তারা তোমার মুখকে নরম, নমনীয় এবং ময়েসচারাইজ রাখে। চেষ্টা করবে ক্রিম বা লিকুইড ফাউন্ডেশন, লিকুইড হাইলাইটার, ক্রিম ব্লাশ, ক্রেয়ন বা জেল আই কালার ব্যবহার করতে।

এই শীতকালীন মেকআপ টিপসগুলো তোমার নিয়মিত বিউটি রুটিনে অন্তর্ভূক্ত করো এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় মোকাবেলা করতে ত্বককে প্রস্তুত রাখো। তবেই যেকোন অনুষ্ঠানে তোমার সাজ হবে প্রাকৃতিক, নিশ্ছিদ্র এবং চমৎকার।

-ছবি সংগৃহীত

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

18 − 2 =