শীতে সানস্ক্রিন কেন ব্যবহার করবো?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

ভোরের হালকা কুয়াশা এবং ঠান্ডা হিমেল বাতাস আগমনী শীতের বার্তা নিয়ে আসছে। যদিও সেইভাবে শীত পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসেনি, কিন্তু ত্বকের কিছুটা টানটান ভাব ঠিকই চলে আসছে। এই সময়ে ত্বকের কেয়ারে প্রসাধনী ব্যবহারে আমরা যতটুকু সচেতন, সানস্ক্রিনের ব্যবহার ঠিক ততটুকুই উপেক্ষিত। শীতেও কি সানস্ক্রিনের প্রয়োজন? কেনইবা ব্যবহার করতে হবে? এই সব কিছুই আজ  জানবো আমরা।

গরমের সময়টুকুতে প্রতিদিন সানস্ক্রিন পরা সহজ কারন তখন তাপ এবং সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু শীতকালে, যখন দিন ছোট হয় এবং সূর্য প্রায়শই মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তখনও কি সানস্ক্রিন পরা অত্যাবশ্যক? উত্তরটি হলো হ্যাঁ, বছরের প্রতিটি দিন সানস্ক্রিন পরা অত্যাবশ্যক, এমনকি সেই ঠান্ডা, অত রৌদ্রহীন শীতের মাসগুলোতেও। শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার কারণগুলো হল-

ইউভি রশ্মি এড়ানো সম্ভব নয়

দুই ধরনের ইউভি রশ্মি বিদ্যমানঃ ইউভিএ এবং ইউভিবি রশ্মি। অতিবেগুনী এ রশ্মিকে ‘দীর্ঘ তরঙ্গ’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয় এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানো ইউভি রশ্মির ৯৫% তৈরি করে। এই রস্মিগুলো মেঘ, কাঁচ ভেদ করতে পারে এবং ত্বকের অনেক গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এই রশ্মিগুলো বার্ধক্যের লক্ষণ যেমন কালো দাগ এবং বলিরেখার জন্যও দায়ী। আল্ট্রাভায়োলেট বি রশ্মি লালভাব এবং রোদে পোড়ার কারণ হয় তবে তারা ইউভিএ রশ্মির মতো গভীরভাবে ত্বকেপ্রবেশ করেনা। এই রশ্মিগুলো বসন্তের শুরু দিকে এবং শরৎকালের প্রথম দিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়। তবে, যদিও তারা শীতকালে হ্রাস পায়; তবুও তারা পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। ইউভিএ এবং ইউভিবি রশ্মি সারা বছরই থাকে, তাই বাইরের আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন প্রতিদিন সানস্ক্রিন পরা অপরিহার্য।

অনেক সানস্ক্রিনে ত্বকের যত্নে উপকারী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান

আমরা সেই গ্রেসি, স্মেলি সানস্ক্রিনের কথা বলছিনা। সানস্ক্রিন ফর্মুলায় এখন অনেক আপডেট হয়েছে এবং এটি এখন ত্বককে শুধুমাত্র সূর্য থেকেই রক্ষা করেনা পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাও প্রদান করে। কঠোর শীতের আবহাওয়া ত্বকের জন্য অত্যন্ত শুষ্ক এবং ট্যাক্সিং হতে পারে। সানস্ক্রিন পণ্য এই শুষ্কতা এবং সংবেদনশীল ধরণের ত্বক শান্ত ও রক্ষা করতে সাহায্য করে। অন্যান্য সানস্ক্রিন পণ্যগুলো ভিটামিন সি দিয়ে তৈরি করা হয় যাতে ত্বকে বার্ধক্য বিরোধী সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি সুস্থ ত্বকের উপস্থিতি করে। চাইলে টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার বা বিবি ক্রিমের মত পণ্য কিনতে পারা যায় যাতে এসপিএফ অন্তর্ভূক্ত থাকে। এতে একটিতে দুটি পণ্যের সুবিধা পাওয়া যায় এবং ত্বকের যত্নের রুটিনে একটি অতিরিক্ত পদক্ষেপ দূর হয়।

শীতকালীন অবস্থা দ্রুত সানস্ক্রিন অপসারণ করতে পারে

গ্রীষ্মের গরমে ঘামের মাধ্যমে সানস্ক্রিন গলে যায়। শীতকালে তাপ এবং ঘামের স্বল্পতার কারণে সানস্ক্রিন গলে যায়না, তার মানে এই নয় যে শীতের কঠোর অবস্থা সানস্ক্রিনকে নষ্ট করেনা। তুষার এবং শক্তিশালী বাতাস সানস্ক্রিন এবং এর কার্যকারিতা দূর করতে পারে। অতএব, সকালে এক স্তর সানস্ক্রিন প্রয়োগ কখনোই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে, যখন বাইরে থাকা হবে এবং ঘাম ঝরানোর পরপরই প্রতি দুই ঘন্টা পরে সানস্ক্রিন পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে।

অকাল বার্ধক্য রোধ

কেউই মুখে বয়সের ছাপ ফেলতে চায়না। সানস্ক্রিন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর করতে সাহায্য করে। যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে রোদে দাগযুক্ত, ক্ষতিগ্রস্থ ত্বকে আক্রান্ত হতে পারে। তাই মেঘের আবরণ থাকুক বা আবহাওয়া যাই হোক না কেন সানস্ক্রিন ব্যবহার মাস্ট।

ত্বক হাইড্রেট রাখতে

এটি কোন গোপন বিষয় নয় যে শীতের বাতাস এবং শীতল তাপমাত্রা শুষ্ক ত্বক আনতে পারে। এটি অস্বস্তিকর হতে পারে। সৌভাগ্যবশত শিতকালে সানস্ক্রিন পরা আদ্রর্তা লক করতে এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করতে পারে। ময়েশ্চারাইজারের সাথে যখন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়, তখন তা ত্বকের ফাটা, শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয় এবং শীতে অনেক বেশি আরামদায়ক মনে হবে।

শীতের জন্য সেরা সানস্ক্রীন কী কী?

শীতকালে পরার জন্য সানস্ক্রিন কেনার সময় কিছু গুণাবলী দেখে কিনতে হবেঃ

-এসপিএফ ৩০ বা এর উচ্চতর, যা প্রতিফলিত সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারে।

-ব্রড স্পেকট্রাম, যা ইউভিএ এবং ইউভিবি উভয় রশ্মি থেকে রক্ষা করতে পারে

-ময়েশ্চারাইজিং, ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে

-পানি প্রতিরোধী

এই প্রধান গুণাবলী ছাড়াও কেমিক্যাল সানস্ক্রিনের পরিবর্তে মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করতে পারো। কারন কেমিক্যাল সানস্ক্রিনে এমন কিছু উপাদান থাকতে পারে যা ত্বককে রক্ষার পরিবর্তে আরও ড্যামেজ করে দিতে পারে, যেখানে মিনারেল সানস্ক্রিন ত্বকের জন্য নিরাপদ।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

sixteen + 6 =