শুকনো ঠোঁটের শুশ্রূষা

করেছে Rubayea Binte Masud Bashory

হিম হাওয়ায় ঠোঁট ফাটে। শুকনো ঠোঁটের কারণে সৌন্দর্যে ভাটা পড়ে। দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটা থাকলে স্থায়ী দাগ বসে যেতে পারে। তাই ঠোঁটের যতœ নিতে হবে নিয়মিত।

ঠোঁট ফাটার কারণ

ঠোঁটের কোনো অয়েল গ্ল্যান্ড থাকে না। ফলে শীতে বাতাসের আর্দ্রতা ক্রমশ কমতে থাকায় ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা খসখসে ভাব চলে আসে। আবার ভিটামিনের অভাব বা শরীরে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হলেও ঠোঁট শুকিয়ে যায়।

শুকনো ঠোঁটের ঘরোয়া সমাধান

শীতে ঠোঁট ভালো রাখার জন্য প্রসাধনীর প্রলেপের প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা নিত্য প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়েই শীতে ঠোঁটের যতœ নেয়া যাবে।
পেঁপে প্রাকৃতিক এনজাইম আর হাইড্রক্সি অ্যাসিড সব মৃত কোষ তুলে দেয়। তাই পেঁপে কুরিয়ে ঠোঁটে মাস্কের মতো লাগিয়ে নিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

ঠোঁটের কোমলতায় ১ চা চামচ আতপ চালের গুঁড়া, এক চা চামচ মধু, মসুর ডাল বাটা এক চা চামচ, এক চিমটি হলুদের গুঁড়া ও কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিণের পেস্ট বানিয়ে ঠোঁটে মিনিট পাঁচেক রেখে পানির ঝাপটা দিয়ে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিলে ঠোঁট উজ্জ্বল দেখায় আর দিনভর থাকে কোমল।
শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকায় ঠোঁট আর্দ্র রাখে। ফলে পাতলা করে কেটে ঠোঁটে মিনিটখানে ঘষে নিলে মরা কোষ উঠে যায় আর শুষ্কতা দূর করে।

মধুও ঠোঁটে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখে। তাই দিনের যেকোন সময় ঠোঁটে মধু ম্যাসেজ করে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে নিলে শুষ্কতা কমে। নিয়মিত মধুর ব্যবহারে আর্দ্র থাকায় ঠোঁট নরম করে তোলে।

536,356 Honey Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images - iStock

সুঅভ্যাস গড়ে তোলা

ঠোঁটে সাবান ও ফেসওয়াশ লাগলে আরও খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই এমনভাবে মুখ ধোয়া উচিত যেন ঠোঁটে না লাগে।
মানসম্পন্ন লিপস্টিক ঠোঁটের শুষ্কতা প্রতিরোধ করায় ভিটামিনসমৃদ্ধ ও তেল আছে এমন লিপস্টিক ঠোঁটের জন্য ভালো।
ঘুমানোর আগে প্রতিরাতে ঠোঁটে জলপাই তেল বা দুধের সর মাখিয়ে নিতে হবে। কারণ জলপাই তেলে ভিটামিনসহ নানা রকম খনিজ উপাদান থাকে আর দুধের সর ত্বকের ময়লা দূর করে ও মৃত কোষ ঝরিয়ে দেয়। তাই রাতভর ঠোঁটে রাখলে কালো ভাব দূর হয় আর ঠোঁট থাকে কোমল।


ঠোঁটে তেলগ্রন্থি না থাকায় কিছুক্ষণ পর পর ঠোঁটে নারকেল তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ দিতে হবে।
ঠোঁট জিভ দিয়ে ভেজানো যাবে না। ঠোঁটে থাকা মরা কোষ চিমটি দিয়ে উঠানো অনুচিত।
অনেকে ঠোঁট কামড়ে মরা কোষ তুলতে চায়। ফলে রক্ত ঝরে। ঠোঁটের ক্ষতি হয়। এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

শীতে পানি কম খাওয়ার কারণে শরীর শুষ্ক হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ঠোঁট ফাটার ভয় থাকে না।

লেখা: রোদসী ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twenty + one =