শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ

করেছে Sabiha Zaman

‘পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে, দিগ্বিদিক
এই বাংলায়,
তোমাকে আসতেই হবে স্বাধীনতা।’

শামসুর রাহমানের এই কবিতায় বোঝা যায় কী তীব্র অপেক্ষা ছিল আমাদের স্বাধীনতার জন্য। ২৬ মার্চ ২০২১, স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী। স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে নিজের অস্তিত্ব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে টিকিয়ে রেখেছে।


বাঙালির এই স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস অনেক মর্মান্তিক। অনেক কিছুর বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত কিন্তু ১৯৭০-এর নির্বাচনের পর থেকে। যার পরিপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১-এ। ’৭০-এর নভেম্বর-ডিসেম্বর এ এক গণহত্যার পরিকল্পনা করা হয়, তখন সেটার নাম ছিল ‘অপারেশন ব্লিটজ’। পরে এই নাম পরিবর্তন করা হয়। ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পরও পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আগা খান ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেন। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় যাবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু পাকিস্তানি শাসকেরা ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে বিভিন্ন আলোচোনা, বৈঠকের নামে টালবাহানা করতে থাকে। পাকিস্তানিরা যে ক্ষমতা কোনোভাবেই হস্তান্তর করবে না, এটা সহজেই বাঙালি বুঝে যায়। পাকিস্তানের পিপলস পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানে অস্বীকৃতি জানালে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ আকস্মিকভাবে ৩ তারিখের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। রেডিওতে এই ভাষণের পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আপামর জনতা।

বঙ্গবন্ধু এর জবাবে বলেন, ‘শুধুমাত্র সংখ্যালঘিষ্ঠদের সেন্টিমেন্ট রক্ষার্থে অধিবেশন স্থগিত করা হইয়াছে, এবং ইহা আমরা কোনোভাবেই নীরবে সহ্য করিব না। ইহার দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যর্থ হইয়াছে।’ অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ ও ৩ মার্চ সারা দেশে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন। সর্বস্তরের জনগণ বঙ্গবন্ধু র ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অচল করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়া খান সকাল-সন্ধ্যা কারফিউ জারি করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা কারফিউ ভেঙে বিভিন্ন স্থানে মিছিল, সমাবেশ করে। বিভিন্ন সমাবেশে গুলিবর্ষণও হয়। বঙ্গবন্ধু আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য জনগণকে নির্দেশ দেন। ৩ থেকে ৬ মার্চ প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্রতিটি প্রদেশে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু এক গণসমাবেশের ডাক দেন।


৭ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমগ্র বাঙালি জাতির উদ্দেশে এক যুগান্তকারী ভাষণ দেন। এই সমাবেশে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ যোগদান করে। এই ভাষণে তিনি সবাইকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য নেতাদের ভাষণগুলোর অন্যতম। এই ভাষণে কোনো দলীয় নেতার নির্দেশ ছিল না, এই নির্দেশ ছিল একজন জাতীয় নেতার। তিনি সমগ্র বাঙালি জাতিকে সর্বাত্মক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ৭ মার্চের এ ভাষণ দেশের সর্বস্তরের ছাত্র, জনতা, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক-বেসামরিক সব কর্মচারী-কর্মকর্তাকে সচেতন করে তোলে। ২ মার্চ থেকে দেশের সব কাজকর্ম চলতে থাকে বঙ্গবন্ধু র নির্দেশে।

১০ মার্চ ইয়াহিয়া এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কে আমন্ত্রণ জানান। বঙ্গবন্ধু সেই আমন্ত্রণ উপেক্ষা করে পল্টনে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেন। এই জনসভায় তিনি খাজনা-কর দিতে মানা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষ দেশ চালানোর জন্য কর-খাজনা দেয়, গুলি খাওয়ার জন্য দেয় না।’
দেশের যখন এই পরিস্থিতি, তখন পশ্চিম পাকিস্তানে চলতে থাকে অন্য ধরনের ষড়যন্ত্র। জুলফিকার আলী ভুট্টো সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে নতুন সংকটের সৃষ্টি করেন। ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন এবং তার এই আগমনে বেশ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। ১৬ মার্চ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়, পরের দিনও দুজনের বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে তিনি দাবিদাওয়া না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ১৯ মার্চ তৃতীয় দফা বৈঠক হয় মুজিব-ইয়াহিয়ার। ৯০ মিনিটের এই বৈঠকে আর কেউ উপস্থিত ছিল না। ২২ মার্চ পর্যন্ত আরও কয়েকবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২১ মার্চের বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ২২ মার্চের বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু কিছুটা আশা ব্যক্ত করলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।


২৩ মার্চ পল্টনে এক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজ শেষে সবাই বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করেন। বঙ্গবন্ধুর গাড়িতেও পতাকা লাগানো হয়। বাংলার প্রত্যেক শহরে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের অনুষ্ঠান বর্জিত হয়।
আসলে এই বৈঠকগুলো ছিল সময় নষ্টের মূল অস্ত্র, যাতে করে কিছুদিন বাঙালির দৃষ্টি অন্য কোনো দিকে না পড়ে। বঙ্গবন্ধুকে ব্যস্ত রাখা। বাস্তবে এই আলোচনা-বৈঠক ছিল কালক্ষেপণের মূল উদ্দেশ্য। পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পরিকল্পনা করতে থাকে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের। পূর্ব পাকিস্তানের কারও পক্ষেই এই ষড়যন্ত্রের আঁচ করা সম্ভব ছিল না। মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে দুই ডিভিশন অবাঙালি সামরিক অফিসারকে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়। নানা রকম অস্ত্রশস্ত্র ও আসতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত বেশ কিছু বাঙালি অফিসার মার্চের শুরু থেকেই কিছুটা বিপদের আভাস পাচ্ছিল, কিন্তু এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে এসব কাজ পরিচালিত হচ্ছিল যে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত সব অফিসারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অফিসাররা শুধু একটাই জিনিস বুঝছিল যে খুব জঘন্য কিছু পরিকল্পনা করছে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকেরা।


২৪ মার্চে সামরিক শাসকেরা হেলিকপ্টারযোগে সব সেনানিবাসে এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা হস্তান্তর করে। ‘৭০-এর ‘অপারেশন ব্লিটজ’ পরিবর্তন করে নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’। সংগঠিত হয় ইতিহাসের সব থেকে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। যেটা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত।
২৫ মার্চ ১৯৭১ রাত ১১টায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলার প্রস্তুতি নেয়, দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আক্রমণ শুরু হয়। রাত ১১টা ৩০ থেকে শুরু হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানিদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো। জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হলে পাকিস্তানি সৈন্যরা নারকীয় তাণ্ডব চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। ঢাকার পিলখানা, পুলিশ লাইন, চট্টগ্রামের ইবিআরসিসহ বাংলাদেশের সব সামরিক, আধা সামরিক সৈন্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে আগুন দেওয়া হয়। নারী, পুরুষ, শিশু, নির্বিশেষে সবাইকে রাতের অন্ধকারে হত্যা করে। ইতিহাসে নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে। কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতায় সেই ভয়াল রাতের নৃশংসতা ফুটে ওঠে।
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা একি হবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।


১২.৩০ ঘটিকায় বঙ্গবন্ধুকে তার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পূর্বমুহূর্তে বঙ্গবন্ধু তার দলীয় নেতাদের পরবর্তীতে করণীয় নির্দেশ দিয়ে যান। তিনি বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেন এবং দেশের আপামর জনগণের উদ্দেশে স্বাধীনতার ডাক দেন। সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের খবর যাতে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। অনেককে দ্রুত দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। দেশে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নজরবন্দী করে রাখা হয়। এত সতর্কতার মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে সমগ্র বিশ্ব এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হয়।
২৭ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাকে সমগ্র জাতিকে জানানোর জন্য সর্বপ্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। তিনি মাইকিং করে এই ঘোষণা সবাইকে জানান। পরে ২৭ মার্চ অপরাহ্ণে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার আরেকটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
এভাবেই শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমেআমাদের দেশ স্বাধীন হয়।


দেশ স্বাধীনের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদ্্যাপন করা হয়। এই দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় দিবস। প্রতিবছর খুব আয়োজন করে এই দিনটি পালিত হয়। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল-কলেজ বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে এই দিনে পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়।
’৭০-এর নির্বাচনে যদি ইয়াহিয়া খান বাঙালিকে ক্ষমতা দিয়ে দিতেন, তাহলে হয়তো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্মই হতো না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর প্রায় চার দশক পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের অগ্রগতিকে ‘অনন্যসাধারণ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আর স্বাধীনতার ৫০ বছর একই সঙ্গে উদযাপিত হয়েছে। এটা বাঙালির জন্য অনেক বড় কিছু। কবির ভাষায় বলতে গেলে ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা অনেক কঠিন।’ ৫০ বছর ধরেই বাঙালি জাতি সুষ্ঠুভাবেই এই কঠিন কাজ করে যাচ্ছে। ৫০ বছরের এই যাত্রাপথে বারবার ছোট-বড় অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদের। তারপর এই দেশ, এই জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর বুকে।

লেখা : কানিজ ফাতিমা তুলি

ছবি :  সংগ্রহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three × three =