সঙ্গীর প্রতারণার শিকার?

করেছে Sabiha Zaman

প্রতারিত হয়েছ মনে হলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে খুব ঠান্ডা মাথায়। সঙ্গীর বিশ্বাস ভাঙলে ক্ষত মেরামতের দায়িত্ব নাও নিজেই। ‘সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না’ ঠিক এই কায়দায়। তুমি নিশ্চয়ই ভাবছ, ঠগ ধরা তোমার ‘বাঁয় হাত কা খেল’। হয়তো এমনটাও ভাবো যে তোমার সঙ্গীকে তুমি খুব ভালো চেনো। কিন্তু দেশ-বিদেশের নানা সমীক্ষা ঠিক এর উল্টো কথা বলছে। সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই প্রতারিত হওয়াই মূল কারণ।

আমেরিকান স্কুল অব প্রফেশনাল সাইকোলজির একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ একই সঙ্গে দুটি সম্পর্ক বজায় রাখছে। শুধু তা-ই নয়, তার মধ্যে অন্তত যৌনসংসর্গের ক্ষেত্রে ভালো ভারসাম্য বজায় রাখতেও পারে।

এমন কোনো ঘটনা বা অন্য কোনো কারণেও কিন্তু ঠকে যেতে পারো তুমি। কিন্তু তারপর কী? সঙ্গীর বিশ্বাসভঙ্গের সাজা কী? বিশ্বাসঘাতকতা ঠিক কত দূর গেলে আর একবার সুযোগ দেওয়া যায়?

মনোবিদ সাইফুল তালুকদারের মতে, ‘প্রতিদিনই এই রকম মানুষের মুখোমুখি হতে হয়, যারা প্রিয়জনের বিশ্বাসঘাতকতায় পায়ের তলায় মাটি হারিয়ে ফেলেছে, কীভাবে ফের শুরু করা যায়, সেটুকুও ভেবে উঠতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে। অ্যাংজাইটিতে ভুগতে শুরু করে বিশ্বাসঘাতকতায় স্তম্ভিত মানুষটি। আমরা জানি বিষয়টা কঠিন, তবু আমরা এই ধরনের অসুবিধায় যারা আছে, তাদের সমস্যাটিকে বাইরে থেকে দেখতে বলি। নিস্পৃহ দৃষ্টিতে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন পথে এগোবে। অনেকেই পুরোনো সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে যায়। অনেকে আবার ক্ষত মেরামত করে নেয়।’

কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে
দেখতে হবে, প্রতারণাটি সম্পর্কে প্রতারকের স্পষ্ট ধারণা আছে কি না। অনেক সময় তোমার ধারণায় যা প্রতারণা, তা নিয়ে তার অন্য মত ও ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। একগাদা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে জেনেও সে যদি প্রস্তুত থাকে সততার সঙ্গে তার মোকাবিলা করার, তাকে একটি সুযোগ দিতেই পারো। খুঁজে দেখো ভুলের মূলটা ঠিক কোথায়। যদি ধরতে পারো, তবে দেখো, সেই জায়গাটায় শুশ্রুষা সম্ভব কিনা। যদি সম্ভব হয়, দুজনেই ক্ষত মেরামতের দায়িত্ব নাও।

যদি মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় আসো, তবে জীবনটা শুরু করো একটা নতুন সাদা বোর্ডের মতো। অর্থাৎ ভুলের মাশুল লম্বা সময় ধরে পার্টনারকে দিতে হবে, তেমনটা হলে তোমাদের রসায়নটা কিন্তু মাঠে মারা যাবে। কাজেই পুরোনো ভুল আর ধরে থাকবে না। অকারণ সন্দেহও করবে না, তবে সচেতন থাকো।

একটা পরিষ্কার সীমারেখা টানো। দুজনেই খোলামেলা আলোচনা করে স্পষ্ট করে বুঝে নাও পরস্পরের থেকে কী চাও, আর কী চাও না। মনে রাখবে, সম্পর্কে থাকা মানে সঙ্গীর সমস্তটায় নাক গলানোর অধিকার জন্মায় না। অনধিকার চর্চা থেকেই জন্ম নেয় গোপন করার অসুখ। একে অপরকে স্পেস দিলে বরং আকর্ষণ বাড়ে।

লেখা: রোদসী ডেস্ক

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nineteen − 15 =