সঞ্চয় করার কৌশল

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

জীবনে চলার পথে অর্থের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। আয়-ব্যয়ের মাঝে আরেকটু ভালোভাবে চলতে পারার জন্য, থাকার জন্য সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয়। কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই আমরা খুব সহজেই টাকা জমাতে পারি। আর এসব কিছু নিয়েই আমাদের আয়োজন।

প্রত্যেকেরই চলার জন্য অর্থ আয় করে থাকে। আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ের খাতও সমান গতিতে চলতে থাকে। বিভিন্ন রকমের সাংসারিক চাপের কারনে হোক বা অন্য কোন কারন, আমাদের হাত থেকে অপ্রয়োজনীয় টাকার খরচ হয়েই থাকে। এর ফলে টাকা জমানোর বিষয়টি শুধুমাত্র আমাদের ধারনাতেই থেকে যায়। সঞ্চয় এবং বাজেট করা প্রথমে চাপমুক্ত মনে হলেও, একটি নির্দিষ্ট সময়ে যখন নিজ লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে তখন মনে অনেক আত্মতৃপ্তি পাওয়া যাবে। এটি তোমাকে একটি উত্তেজনাপূর্ন ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে এবং আর্থিকভাবে চিন্তামুক্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে। এতে জীবন হয়ে উঠবে আরো সুন্দর ও অর্থবহ। এখন এমন কিছু কৌশল জেনে নিই-

বাজেট সম্পর্কে জানতে হবে

দ্রুত অর্থ সঞ্চয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন টিপস হলো বাজেট করা শেখা। নিজেকে যদি বাজেটের নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় তবে আর্থিক নিয়ন্ত্রন হয়ে যাবে। কিভাবে শুরু করতে হবে? প্রতি মাসে অর্থ সঞ্চয়ের আগে মোট আয় এবং ব্যয়ের খাতগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। বর্তমানে কতটা সঞ্চয় হচ্ছে বা কতটা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে তা মুল্যায়ন করতে মাসিক আয়ের সাথে মাসিক ব্যয়ের তুলনা করতে হবে। ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে কিছু আছে  ফিক্সড, যা সামঞ্জস্য করা কঠিন। এমন ফিক্সড এবং পরিবর্তনশীল খরচ আলাদা করতে হবে। প্রতি মাসে সঞ্চয় লক্ষ্যে কতটা রাখা যাবে তা বাড়ানোর জন্য পরিবর্তনশীল খরচগুলো কমানো যেতে পারে। নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে এবং প্রয়োজনে সামঞ্জস্য করতে হবে।

ঋণ থেকে মুক্ত

যেকোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঋণের কবলে থাকলে অর্থ জমানোর আগে তা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ঋণ পরিশোধ করতে যত দেরি হবে, তা তত বড় হবে। এর কারন হল সুদ। টাকা ধার করার জন্য যে মূল্য প্রদান করা হয় সময়ের সাথে সাথে তা যোগ হতে থাকে। সেজন্য ঋণ পরিশোধ করা বন্ধ করে দিয়ে যদি টাকা জমানো হয় তবে দেখা যাবে যে চড়া সুদ জমা হবে তা পরিশোধ করতে সঞ্চয় করা অর্থও চলে যাবে।

সাপ্তাহিক কেনাকাটা একসাথে করা

সাংসারিক ও নিজ প্রয়োজনের জিনিস খুচরা ভাবে না কিনে সাপ্তাহিক বাজার হিসেবে একসাথে কেনা যায়। আজকাল দোকানে অনেক কিছুরই অফার চলে। এভাবে একসাথে কিনে নিলে টাকার সেভিংস হয়।

সেভিংস একাউন্ট করা

সেভিংস একাউন্ট থাকলে এটি অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে সঞ্চয়কে নিরাপদে রাখবে এবং নিজেকে বাজেটের মধ্যে থাকতে উৎসাহিত করবে।

ব্যাংক কার্ড ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা

বহন ও নিরাপত্তার সুবিধার জন্য আজকাল আমরা নগদ অর্থের তুলনায় ব্যাংক কার্ড নিয়ে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু এতে আমরা অনেক সময় প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা করে ফেলি। তাই যতটুকু সম্ভব এই কার্ড ব্যবহার পরিহার করতে হবে নতুবা কার্ডে একটা নির্দিষ্ট লিমিটেশন রাখতে হবে।

এনভেলাপ বাজেটিং সিস্টেম

দ্রুত অর্থ সাশ্রয় করার আরেকটি চমৎকার উপায় হল এটি। প্রতি মাসের শুরুতে মাসিক আয় নগদে তুলে তা আলাদা আলাদা খামে রাখতে হবে। এই খামগুলোর প্রত্যেকটি বাজেটের লক্ষ্যগুলোর এক একটিকে প্রতিনিধিত্ব করবে। এতে যে খাতে যতটুকু ব্যয় করার প্ল্যান করা হয়েছে তাই রেখে দিতে হবে। এবং দেখা যাবে মাস শেষে অটোভাবেই সবকিছু নিজের করা বাজেটের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে।

টাকা খরচের রেকর্ড রাখা

প্রত্যেক সপ্তাহ শেষে হিসাব করে দেখতে হবে যে কত খরচ হয়েছে। এতে সাপ্তাহিক খরচের হিসাব সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় কোন খরচ হলেও তা চিহ্নিত করতে পারা যাবে।

ঝোঁকের মাথায় কেনা বন্ধ করতে হবে

বাজারে কেনাকাটার সময় আমরা অনেক সময় ঝোঁকের মাথায় এমন কিছু কিনে থাকি যেটার কোন প্রয়োজনই হয়না আমাদের। টাকা জমানোর চিন্তা যখন আমরা স্থির করবো তখন এই দখরনের অপ্রয়োজনীয় কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বীমা বা ডিপোজিট

বছরের শুরুতে একটি বীমা বা ডিপোজিট স্কিম শুরু করা যেতে পারে। ছোট বা বড় সেটা নিজ সাধ্যমত হতে হবে। এতে করে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠবে। এতে দেখা যাবে আস্তে আস্তে এটি অনেক বড় অংক হয়ে দাঁড়াবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হবে।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

fifteen − twelve =