সন্তানকে ভালো রাখলে ভালো থাকবে দেশ

করেছে Rodoshee

সময়টা এখন বেশ খারাপই বলব। ঘরের সুন্দর-সুবোধ সন্তানগুলো যখন জঙ্গির খাতায় নাম লেখায়, তখন আর কিইবা বলার থাকে? হঠাৎ করেই যেন এলোমেলো করে দিল সবকিছু। পরপর কয়েকটি ভয়ংকর জঙ্গি হামলা এবং এসবের মোটিভ দেখে আমরা সবাই রীতিমতো বিস্মিত। এই হামলাগুলোর ধরন এবং তাতে অংশ নেওয়া হামলাকারীদের সামাজিক অবস্থান জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোকে পাল্টে দিয়েছে। এত দিন আমাদের ধারণা ছিল, জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান বা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাই জড়িত। অথচ হামলাকারী জঙ্গিদের বেশির ভাগই বিত্তবান পরিবারের, ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
কল্যাণপুরে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গি শেহজাদ রউফ অর্ক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। অর্ক ভালো গান গাইত। ছেলের ড্রাম বাজানোর শব্দে অস্থির হয়ে যেত পরিবারের সদস্যরা। সেই ড্রাম আর গিটারের হাত কীভাবে অস্ত্র তুলে নিল তা এক বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে পরিবারের সবার মধ্যে।
গুলশান হামলায় নিহত নিবরাস ছিল ফুটবল-পাগল। বাবা-ছেলে মিলে ফুটবলও খেলতেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দুই বছর পর নিবরাস ২০১২ সালে মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। গত বছরের মাঝামাঝি হঠাৎ দেশে চলে আসে। কিন্তু কেন, কার উদ্দেশে বা কার ডাকে দেশে এলো, তা অজানাই রয়ে গেছে।
কল্যাণপুরের ঘটনায় নিহতদের একজন দিনাজপুরের আবদুল্লাহ। এই পরিবারটি অপেক্ষাকৃত কম অবস্থাপন্ন এবং কম শিক্ষিত। মায়ের শখ ছিল ছেলে বড় হয়ে আলেম হবে। এই ছেলে আলেম না হয়ে জঙ্গি হয়ে ওঠায় মায়ের খেদোক্তি, ‘ওর লাশ দেখতে চাই না।’
ঘটনাগুলো উল্লেখ করলাম এ জন্য যে, এদের কেউ জঙ্গি হয়ে জন্ম নেয়নি, কিংবা কেউ জঙ্গি হয়ে জন্মায়ও না। তাহলে আমাদের ভালো সন্তানগুলো কেন এমন সর্বনাশা পথে হাঁটছে? কারা তাদের কোমল হাতে কঠিন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে? সরস প্রশ্ন এখন এটাই। রাষ্ট্র সে প্রশ্নের সদুত্তর বের করবে নিশ্চয়।
তবে রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবারেরও কিছু দায় থাকে। তোমার সন্তানটি কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, কী করছে ইত্যাদি খবরাখবর রাখার দায়িত্ব কিন্তু তোমারই। মনে রেখো, তোমার সন্তানকে ভালো রাখলে ভালো থাকবে দেশ!

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nineteen + nine =