সবাইকে স্বাগত এই বাঙালিয়ানায়।

করেছে Rodoshee

 

‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অমীয় বাণীটি ঋতুরাজকে আলিঙ্গনের আহ্বান জানায়। ফুল ফোটার পুলকিত এই দিনে বন-বনান্তে কাননে-কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠবে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগবে দোলা। হৃদয় হবে উচাটন। পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহু কুহু ডাক আকুল-ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরহী অন্তর! নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমন বার্তা নিয়ে আসে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি ও একুশের বইমেলা। বসন্ত আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির ওপর রং ছড়ায়। ১৯৫২ সালের ৮ ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

বসন্তে পুরো দেশেই চলে উৎসবের আমেজ। এ পূর্ণতার বসন্তের দোলা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সবখানে। সারা পৃথিবীর বাঙালির ঘরে ঘরে। মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। সবাইকে স্বাগত এই বাঙালিয়ানায়।
আজকাল বন্ধ্যাত্বের সমস্যাটি বেশ প্রকট। খুঁজে দেখো, তোমার-আমার পরিচিত কেউ হয়তো সমস্যাটি নিয়ে মুখ গুঁজে বসে আছে। কিংবা সন্তান না হলেই নারীকে দোষারোপ করার মানসিকতা এখনো আমাদের মজ্জাগত। যদিও সময় এখন অনেক বদলেছে। এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, লেখালেখি হচ্ছে, সভা-আলোচনা হচ্ছে। চিকিৎসা পদ্ধতিও আগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। ধৈর্য ধরে সঠিক চিকিৎসা করালে বন্ধ্যাত্ব জয় করা সম্ভব। এসব আমার কথা নয়, ডাক্তারের কথা।
‘মাতৃত্বে নারী জীবন পূর্ণতা পায়’ বলে সমাজে কথাটা বেশ প্রচলিত। মানলাম, মাতৃত্বে পূর্ণতা পায়। কিন্তু মাতৃত্ব না থাকলেই কি জীবন অপূর্ণ হয়ে যাবে? সন্তানপ্রাপ্তি, লালনপালন জীবনের একটা বড় আনন্দবহ ঘটনা সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধু এর সঙ্গে নারী জীবনের পূর্ণতার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না। জীবন অনেকভাবেই পূর্ণতা পেতে পারে। একটা জীবনকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে অনেকগুলো অনুষঙ্গ থাকতে হয়। মাতৃত্ব তার মধ্যে একটা। ভ্রান্তি আর নয়। বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হও। আশা করি সমাধান আসবে।
সবাইকে বাসন্তী শুভেচ্ছা।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

13 − 4 =