সম্পাদকীয়

করেছে Sabiha Zaman

আমরা কেউই পারফেক্ট নই। ইম্পারফেকশনের মধ্যেই আমাদের পারফেকশন। কথাটি মাথায় গেঁথে রাখো, অন্তত জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে। অনেক সময়ই দেখা যায় অতি রূপবান ছেলেদের হয়তো চরিত্রের দোষ আছে। অতি সুন্দরী নারীর জিহ্বায় সমস্যা আছে। মুখ দিয়ে যা বেরোয়, কলিজা খানখান করে দেয়! অন্যদিকে, ঘরোয়া পরিবেশে বেড়ে ওঠা অতি সহজ সরল ও সাধারণ দর্শন মেয়েটি হয়তো যার জীবনে যাবে, তাকে ধন্য করে দেওয়ার যোগ্যতা রাখে। লেখাপড়ায় অতি সাধারণ, চেহারায় অতি সাধারণ, স্কুল-কলেজের বন্ধুবান্ধবের টিটকারির শিকার, গরিব মধ্যবিত্ত পুরুষটি হয়তো তাঁর জীবনসঙ্গিনীর জন্য প্রাণ উজাড় করা ভালোবাসা জমা করে রেখেছেন।
কথা হচ্ছে, আমরা কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেব? একথা সত্যি পারফেক্ট ছেলে বা মেয়ে এই পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। আমাকে কোথাও না কোথাও ছাড় দিতেই হবে। আমাকেই ঠিক করতে হবে আমি কোন গুণটা বেশি করে চাই। কোন দোষটা সামান্য পরিমাণে থাকলেও আমি ইগনোর করতে পারব। সেই অনুযায়ী আমাকে জীবনসঙ্গিনী বেছে নিতে হবে।
টিভিতে মডেলিং করে এমন একজনের রূপ-ফিগারে মুগ্ধ হয়ে উ-লা-লা বলতে বলতে আমি বিয়ে করলাম এবং তারপর আবিষ্কার করলাম তাঁর মডেলিং ক্যারিয়ারটা আমার পছন্দ না। বরং আমি চাই গৃহিণী টাইপ বধূ। তাহলে আমার গালে কষে একটা চড় আমি ডিজার্ভ করি। দেশে হাজার হাজার, কোটি কোটি গৃহিণী মেয়ে ফেলে রেখে কেন একটা মডেলকে আমি বেছে নিলাম। তারপর জোর জবরদস্তি করে তাঁর মতের বিরুদ্ধে তাঁর ক্যারিয়ারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে গেলাম?

অনেক মেয়েই সচ্ছল স্বামী চান। চান অফিসে উচ্চপদে কাজ করনেওয়ালা পতি। আবার একই সঙ্গে চান সেই স্বামী তাঁর সঙ্গে ম্যাক্সিমাম সময় কাটান। ঠিক ছয়টায় বাড়ি ফিরে আসবেন, রাতে ডিনারে যাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তাঁকে বলতে চাই, যে ছেলে অফিসে উচ্চপদে কাজ করেন, কিংবা ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন, তাঁর বাড়িতে ফিরতে প্রায়ই মধ্যরাত হয়ে যাবে। ভালোবেসে টাইম কাটানেওয়ালা স্বামী চাইলে সাধারণ চাকরিজীবীকে বিয়ে করো। কোনটা প্রায়োরিটি?
দুজন পারফেক্ট চরিত্রের অধিকারী স্বামী-স্ত্রীরও কিন্তু ডিভোর্স হওয়ার ঘটনা ঘটে। চরিত্র অবশ্যই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি পারস্পরিক সংগতি। একজন আরেকজনের জন্য উপযুক্ত কি না। ফ্যামিলি সমপর্যায়ের কি না- বিয়ের আগে এসব বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। বিয়েশাদিতে একটু আপ-ডাউন হবেই। কিন্তু দুজনের সংগতি যতটা কাছাকাছি হবে, তত ভালো।
যে আপা ও ভাই কথায় কথায় নিজের স্বামী/স্ত্রীকে ছেড়ে চলে আসেন, বার্ধক্যে গিয়ে আবিষ্কার করেন কতটা একা তাঁরা। আফসোস করে ভাবেন, হয়তো সামান্য আলোচনাতেই সমস্যার সমাধান হওয়াটা সম্ভব ছিল। এইটা ফ্যাক্ট, বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি, আশপাশে খুঁজলেই দেখতে পাবে।

বিয়ে কোনো কমপিটিশন না। বিয়ে কম্পেনিয়নশিপ। আমি আমার জীবনসঙ্গিনীকে সাহায্য করব, তিনিও আমাকে সাহায্য করবেন। দুজন মিলে একটা সংসার গড়ে তুলব। প্রচুর ঝড়-তুফান আসবে। কিন্তু বুড়ো-বুড়ি হওয়ার পরে যখন পেছন ফিরে তাকাব, তখন নিজেদের মজবুত ইমারত দেখে নিজেরাই মুগ্ধ হব।
সবার জন্য শুভকামনা।

 

 

 

১ মন্তব্য করো
1

You may also like

১ মন্তব্য করো

Moshiur Rahman ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২২ - ৯:৩৬ অপরাহ্ন

বিয়ে বা সাংসারিক বন্ধন সম্মন্ধে খুবই চমৎকার বিশ্লেষণ। সম্মানিত সম্পাদিকা সাবিনা আপার প্রতি শ্রদ্ধা এবং শুভাশিস।

Reply

তোমার মন্তব্য লেখো

two × two =