সম্পাদকীয়

করেছে Suraiya Naznin

দুই বছর পর আবারও হয়তো ঈদের সত্যিকারের বাঁধভাঙা আনন্দ পেতে যাচ্ছি আমরা। গত দুটো বছর আমাদের কেটেছে আপন গৃহে, প্রিয়জনের দূরত্বে। তবে করোনার এবারের হিসাবটা আমাদের জন্য স্বস্তিকর। মৃত্যুর হাহাকার নেই। দূরত্ব মানার অতটা কড়াকড়ি নেই। অন্তরে-বাহিরে যেখানেই তাকানো যাক না কেন, কেমন যেন একটা শান্তি-শ্রান্তির ভাব। ঈদের সত্যিকার অর্থ তো এটাই!
ঈদ আসে খুশির খবর নিয়ে। এই খুশিতে আমরা সাধ্যমতো কেনাকাটা করি। নিজেকে সাজাই। প্রিয়জন আর প্রয়োজনের এই আয়োজনে বাণিজ্যে রমরমা হাওয়া লাগে। ঈদের এই ব্যাপকতাকে আমরা স্বাগত জানাই।

তবে ঈদ মানে নজরুলের সেই, ‘ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ’Ñএই গান নয়। জীবনের মানে মানুষভেদে ভিন্ন। করোনা আমাদের জীবনের সঙ্গে জীবিকা নিয়েছে। এর সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে অস্থির করে দিয়েছে। তিনবেলা ঠিকমতো খাবার জোটানো এখন কারও কারও কাছে জীবনের প্রধান সংগ্রাম। এই ঈদে আমরা যদি তাদের পাশে ভালোবাসার হাত বাড়াতে পারি, তাহলেই না ঈদ সত্যিকার আনন্দ নিয়ে আসবে সবার মাঝে! নজরুল তার সেই বিখ্যাত গানেই কিন্তু বলে গেছেন সে কথা

‘যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ।’

নগরবাসীর এই জীবনে ঈদ মানেই বাড়ি ফেরা। এতগুলো মানুষ একসঙ্গে বাড়ির পথ মাড়ানো মানেই পদে পদে বিরাট ঝক্কি। অনেক দিন পর প্রিয় মুখ দেখার আনন্দ আছে। উচ্ছাস আছে। আমরা কখনোই যেন না ভুলি, বাড়ি ফেরার প্রতি পদে সতর্ক পদক্ষেপই কেবল সেই উচ্ছাসকে ধরতে পারে।

আমরা এবারের ঈদসংখ্যায় ঈদের সালামি নিয়ে প্রচ্ছদ রচনা করেছি। সালামি ঈদের আনন্দের পূর্ণতা দেয়। জানান দেয় ছোটদের প্রতি বড়দের ভালোবাসা। এই সালামি আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশও বটে। টিম রোদসীর চেষ্টা ছিল ঈদসংখ্যাকে সুন্দর করে গুছিয়ে তোমার হাতে তুলে দেওয়ার। সে প্রচেষ্টার সফলতা-ব্যর্থতার ভার পাঠকের হাতে। আমরা শুধু চেয়েছি তোমার আনন্দের ভাগী হতে, এতটুকুই।

মঙ্গল হোক সকলের। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

seventeen + eighteen =