সময়টা ফ্লুর

করেছে Sabiha Zaman

একদম সুস্থ, বেশ কাজ চলছে, কিন্তু হুট করে জ্বর-ঠান্ডায় এখন বেশ ভয় হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ জ্বরেও ভয় আমাদের বেশ কাবু করে দেয়। অথচ আবহাওয়ার পরিবর্তনে জ্বর-ঠান্ডা কিন্তু স্বাভাবিক বিষয়। সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রোদসীর সঙ্গে কথা বলেন ডাক্তার শেখ নওশীন ইসলাম। লিখেছেন সাবিহা জামান।

এখন অনেকেই ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে, বিশেষ করে শিশুরা। এর কারণ জানতে চাইলে ডাক্তার নওশীন বলেন, ‘আমি গ্রামীণফোন ডিজিটাল হেলথ সার্ভিসের সাথে যুক্ত রয়েছি। বছরের এ সময়টাই ফ্লু-সংক্রান্ত নানান বিষয়ে রোগীরা আমাদের জানিয়ে থাকে। এখনকার তাপমাত্রা স্থির নয়। কখনো ঠান্ডা, তো কখনো গরম। আবহাওয়ার এ পরিবর্তনের সাথে আমাদের শরীরের মানিয়ে নিতে সময় লাগে। যার ফলস্বরূপ ফ্লু। অনেক সময় সাধারণ জ্বর আমাদের কাবু করে এ সময়। শিশুরা অনেক বেশি অ্যাকটিভ থাকে। তাই তারা বেশি ঘেমে যায় আর এ ঘাম বসেও ঠান্ডা লেগে ফ্লু হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমাদের শরীরে যেন ঘাম বসে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষ করে বাইরে থেকে এসেই ঠান্ডা পানি খাওয়া ঠিক নয়।’

ডাক্তার শেখ নওশীন ইসলাম।

ফ্লু চলাকালে খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। কী খাওয়া উচিত এ সময়ে, এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নওশীন বলেন, ‘আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফ্লু চলাকালে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি খেতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সংযুক্ত করতে হবে খাদ্যতালিকায়। সবজি ও ফলমূল খেতে হবে নিয়মিত। ফলের চাহিদা পূরণে মৌসুমি ফল খেতে পারি। শুধু খাবার খেলেই হবে না, অসুস্থ হলে বিশ্রাম নিতে হবে।’

একে তো করোনা, তার সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ। তাই সাধারণ জ্বরেও আমরা ভয়ে কাবু হয়ে যাচ্ছি। একটু হাঁচি-কাশিতে মনে হয় এই বুঝি কিছু হয়ে গেল। তুমি ফ্লুতে আক্রান্ত, নাকি অন্য কিছু এটা জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর জানার একমাত্র উপায় হচ্ছে টেস্ট করা। কিন্তু আমরা কখন টেস্ট করব, এ নিয়ে অনেকেই জানি না। তবে রোদসীকে এর উত্তর দেন ডাক্তার নওশীন। তিনি বলেন, ‘তিন থেকে পাঁচ দিনে ফ্লু সেরে যায়। তাই অপেক্ষা করুন যদি পাঁচ দিনেও প্রতিকার না মেলে, তবে টেস্ট করুন। করোনাভাইরাস অথবা ডেঙ্গু টেস্ট করতে হবে। ডেঙ্গু টেস্টের সবচেয়ে ভালো ফল আসে তিন থেকে পাঁচ দিনের ভেতরে টেস্ট করলে।’

যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলেই দরকার সতর্ক থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আমরা অনেকেই সাধারণ রোগ ভেবে অপেক্ষা করে পরিস্থিতি জটিল করে ফেলি। ফ্লু-সংক্রান্ত সতর্কতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নওশীন বলেন, ‘যেহেতু শুরুতেই টেস্ট করা হয়নি, তাই রোগী জানে না সে ফ্লুতে আক্রান্ত, নাকি করোনায়। তাই শুরু থেকেই রোগীকে হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। এতে করে যদি পরে সে করোনায় আক্রান্ত হয়েও থাকে, পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্তের ঝুঁকি কমে যাবে। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন যার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, সে যেকোনো রোগে সহজেই আক্রান্ত হয়। এ ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণ জ্বর, ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারাও যেতে পারে। তাই আমাদের ইমিউনিটি বুস্ট করে এমন খাবার খেতে হবে। পরিবারের যে সদস্যের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল, তার প্রতি বেশি সচেতন থাকতে হবে। আপনার সাধারণ ফ্লু হোক কিংবা করোনা যেকোনো রোগেই শুরু থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

যেকোনো রোগ থেকেই একজন কম ইমিউনিটির ব্যক্তি বিপজ্জনক অবস্থায় পড়তে পারে এমনকি ফ্লু থেকে রোগী মারা যেতেও পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ভালো থাকার জন্য আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখতে হবে। যারা অসুস্থ, তাদের প্রতি আমাদের আরও যত্ন নিতে হবে।

ছবি: ইন্টারনেট

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × four =