সহজ কথায় ইন্টারভিউ

করেছে Wazedur Rahman

জীবনের চ্যালেঞ্জ প্রতিটি মানুষকেই নিতে হয়। নিজের প্রয়োজনে, সময়ের প্রয়োজনে। তেমনি একটা অন্তিম সময় হলো চাকরিতে যোগদানের আগের মুহূর্তগুলো।

প্রথমে চলে আসে ইন্টারভিউ বোর্ড ফেস। ইন্টারভিউ বোর্ড ফেস তো অনেকেই করে বা করে চলেছে, কিন্তু সবাই কি টিকতে পারে? না। টিকতে হলে কিছু গুণ থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। এ বিষয়ে কথা হলো স্টেপ ওয়ান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজমা মাসুদের সঙ্গে। তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন যা আজ থাকছে পাঠকদের জন্য।

ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার আগে দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে হবে মাথা থেকে। কোনো প্রশ্ন করলে ইনিয়ে-বিনিয়ে উত্তর কিংবা ‘অ্যা’ ‘উ’ এগুলো করা যাবে না। যতটুকু জানো, স্মার্টলি উত্তর দিতে হবে। আর নির্দিষ্ট কোন পোস্টের জন্য অ্যাপ্লাই করা হচ্ছে তার প্রাথমিক জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। তা ছাড়া নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগে কিছু জেনে যাওয়া ভালো।

নাজমা মাসুদের বলেন,

বাচনভঙ্গি খুব জরুরি বিষয়। চাকরিপ্রার্থীকে ভদ্র, বিনয়ী হতে হবে। কাজ করতে পারার সদিচ্ছা, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির প্রয়োজনীয়তার কথা বোঝাতে হবে। প্রশ্ন করলে উত্তরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হবে। তবে আঞ্চলিকতা পরিহার করাই ভালো। উচ্চারণ সুন্দর হলে কথা বলার ধরনই পাল্টে যায়। উচ্চারণে সমস্যা থাকলে কিছুদিন নিজে চর্চা করলেই এটা ঠিক হয়ে যায়।

ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় পোশাক অনেকাংশেই গুরুত্ব বহন করে। পোশাক রুচিবোধের প্রকাশ ঘটায়। ছেলেদের কোনো রকম জুয়েলারি ব্যবহার এখানে দৃষ্টিকটু দেখায়।

মেয়েদেরও মার্জিত পোশাক পরতে হবে। ঝাঁজালো গন্ধের বডি স্প্রে বা পারফিউম ব্যবহার না করাই ভালো। সব ক্ষেত্রে রুচিশীল হলে ইন্টারভিউ বোর্ডও তা মার্ক করবে। অনেকে আছে যারা ফ্রেশার, তারা অনেক সময় ছাত্রদের মতো পোশাক পরেই ইন্টারভিউ দিতে চলে যায়। এগুলো পরিবর্তন করতে হবে।

সঙ্গে রেখো

ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় অবশ্যই সিভি, কভার লেটারের একটি কপি প্রিন্ট করে নিয়ে যাবে। সঙ্গে কলম রাখতে হবে। সময়জ্ঞান প্রতিটি মানুষের জন্যই জরুরি। আর ইন্টারভিউ বোর্ডে এই ব্যাপারটা আরও খেয়াল রাখতে হবে। ফোন সাইলেন্ট রাখবে। ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে মিথ্যা বলবে না। ইন্টারভিউ দিতে ঢোকার আগে সিগারেট খাওয়া ঠিক নয়।

আত্মবিশ্বাস বাড়াও

ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ইন্টারভিউ বোর্ডের সম্মুখীন হওয়ার আগে একবার নতুন করে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাগুলো যাচাই করে নিতে হবে। তুমি এই পদে কেন প্রার্থিতা করছ এবং এর জন্য তুমি কতটা যোগ্য, সেটা ভালোভাবে বুঝে নিও।

এর ফলে তোমার নিজের ওপর আস্থা বাড়বে। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে যাওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। অনেকেই নার্ভাস হয়ে জানা প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারে না। অনেকে স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে না। তাই এ-জাতীয় সমস্যা এড়াতে তুমি বাসায় বসে ইন্টারভিউর প্র্যাকটিস করে নিতে পারো। তাহলে ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়ে অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আর ম্যানারস ঠিক রাখতে হবে।

ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় তোমাকে হতে হবে ভদ্র, বিনয়ী ও বন্ধুসুলভ। সঙ্গে সঙ্গে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত। তারা যেন তোমার আচরণে সন্তুষ্ট হন তার চেষ্টা করো। তাহলে ইন্টারভিউ দেওয়াটা সহজ হয়ে যাবে।

নো নার্ভাসনেস

নার্ভাস হওয়া যাবে না। তাহলেই সব গুলিয়ে যাবে। বিভিন্নমুখী প্রশ্ন এলে ধৈর্য ধরে শান্তভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিলে সেটা ঠিক না-ও হতে পারে। বোর্ডের মধ্যে পানি খেতে চাওয়া, ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেওয়া নেতিবাচক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বক্তব্য বুঝিয়ে বলার জন্য যে সময়টুকু নেওয়া প্রয়োজন, নেওয়া যেতে পারে। এতে চিন্তাগুলোও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে বেশি সময় নয়।

ভাষার ব্যাপারে

ইন্টারভিউ গ্রহীতা বাংলায় প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়া যাবে না। এটা ওভার স্মার্টনেসের পরিচয়। আবার ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে বলার চেষ্টা করতে হবে। তবে ইংরেজিতে গুছিয়ে বলতে না পারলে তাদের কাছে অনুমতি নিয়ে বাংলায় উত্তর দিতে হবে। আর ভাবা যাবে না এটাই আমার সবচেয়ে ভালো চাকরি কিংবা শেষ সুযোগ, এমনটা ভাবলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যাবে।

ইন্টারভিউ যদি খারাপও হয়, তাহলেও আস্থা রাখতে হবে, সামনে হয়তো এর চেয়েও ভালো সুযোগ আসতে পারে।

লেখা: সুরাইয়া নাজনীন
ছবি: সংগ্রহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × two =