সারপ্রাইজ পার্টি

করেছে Rodoshee Magazine

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী? ভালোবাসা কিংবা ভালোলাগার সময়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততায়! কখনো তোমার হাজব্যান্ডকে অবাক করে কিছু করেছ। কিংবা তার কাছের ফ্রেন্ডদের ডেকে কোনো সারপ্রাইজ পার্টির অ্যারেঞ্জমেন্ট?

শহুরে কর্মব্যস্ততা একঘেয়েমি করে তুলেছে নিত্যদিন। সারা দিন অফিস। তারপর বাসা। দৈনন্দিন কাজ। দুজনের সময় যেন ভাগ হয়ে গেছে। দুজনের মত মানিয়ে নিয়েছে একে-অপরকে। হাত ধরে বসে কথা বলা হয় না। শহর থেকে একটু দূরে গিয়ে ছুটি কাটানো হয় না।
অফিস শেষে প্রতিদিনের একঘেয়েমি জীবন। বিয়ের মাত্র দুটি বছর হলো। রীতি এর মাঝে খুব দূরত্ব লক্ষ করে। সোহামের পছন্দই ছিল কর্মজীবী মেয়ে। তাই বিয়ের পরও দুজনের বিশেষ সময় কাটানো হয়নি। হাতে গোনা শিডিউল ধরে চলছে সংসার। মাঝে মাঝে সোহামের পছন্দের রান্না করে রীতি। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে সময় করে ওঠা হয় না রীতির। শুধু দুজনের মাঝে সময় না কাটিয়ে সোহামকে একটা সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয় ভাবছে রীতি। মোটামুটি সব গুছিয়ে ফেলেছে। গানের পাগল সোহাম তাই ওর বন্ধুদের ইনভাইটেশন করে ফেলেছে রীতি। রাতের ডিনার আর তারপর খোলা ছাদে বসে গানের আসর। সোহাম কি অবাক হবে? যদি প্ল্যানমাফিক সব হয় তবে অনেক অবাক হবে সোহাম। ভাবতেই ভালো লাগছে রীতির। গায়ে কাঁটা দিচ্ছে রীতির। গতকাল যখন হুট করে মাথায় এই প্ল্যান এল, তখনো সব অসম্ভব মনে হচ্ছিল। সোহামের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে কনফিডেন্স আরও বেড়ে গেল। ওরা দারুণভাবে সাড়া দিল। পার্টির অর্ধেক দায়িত্ব ওরাই কাঁধে নিয়ে নিল। দুই দিনের মাঝে এত কিছুর আয়োজন হয়ে যাবে ভাবতে পারছে না রীতি।

সারপ্রাইজ পার্টি হতে পারে কেবল দুজনের

সঙ্গীর পছন্দ কোলাহল নাকি নির্জনতা? সেকি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে, নাকি শুধু তোমার সঙ্গে এটি বুঝে অ্যারেঞ্জ করো সারপ্রাইজ পার্টির। কোনো বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া শুধু দুজনের জন্য ক্যান্ডেল লাইট ডিনার হতে পারে।
যখন সারপ্রাইজটা তুমি তোমার হাজব্যান্ডকে দেবে তখন তোমার মাথায় রাখতে হবে তার পছন্দমাফিক সব প্ল্যান। সে তোমার হাতের রান্না যদি বেশি পছন্দ করে তবে সেটার অ্যারেঞ্জমেন্ট রাখবে। অনেক সময় দেখা যায় সে বাইরের খাবার পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে তার

পছন্দের রেস্টুরেন্টের খাবারের ব্যবস্থা রাখতে পারো তুমি।

কিছু তাজা ফুল, হালকা আলো, সুগন্ধের আভায় সাজিয়ে তাকে অবাক করে দাও। দুজনার একান্ত কিছু সময়ে ভালোবাসা বিনিময় সম্পর্ককে করে তোলে আরও সুন্দর। তাই ছোট একটা সারপ্রাইজ পার্টি করে তুলতে পারে সম্পর্ককে আরও স্মুথ।
অবশ্যই মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখতে ভুলবে না। নিজেদের একান্ত কিছু সময়ে অন্য কোনো ফোনকল তোমার চনমনে মুডকে নষ্ট করে দিতে পারে। কিংবা ঘনঘন ফোন বেজে ওঠা সুন্দর সময়কে বিষিয়ে তুলতে পারে। এ জন্য জরুরি ফোনকল সেরে নাও আগেভাগেই।
জামদানি শাড়ি, হাতভর্তি চুড়ি আর কালো টিপ দিয়ে তাকে সারপ্রাইজ দিতে পারাটা কিন্তু কম নয়। তাই কোনো বিশেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে যেকোনো দিন তুমি সারপ্রাইজ দিতে পারো। সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠতে এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা সব সময় ধরেই নিই সারপ্রাইজ মানে ছেলেদের কাজ। ব্যাপারটা একদম তেমন নয় কিন্তু। তোমারও দায়িত্ব থেকে যায় কিছু। ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য বিশেষভাবে ছেলে কিংবা মেয়ে বলে কথা নেই। এখানে দুজন একে অপরকে জানিয়ে দেওয়া তাদের অভিব্যক্তি।

সারপ্রাইজ দেওয়ার আগে অবশ্যই যা কিছু করণীয়

১. আগে থেকে ভালো করে জেনে নাও ওই দিন তোমার পার্টনারের কী কী কাজ আছে। কথার ছলে জেনে নাও। সে যেন কোনোভাবেই বুঝতে না পারে তোমার প্ল্যান। কাজের ফাঁকে জেনে নাও তার সারা দিনের কাজ। ঠিক সময়ে এসে যদি তাকে না পাও তাহলে সব ভেস্তে যাবে। এ জন্য মাথায় রেখে বুঝেশুনে এগোতে হবে তোমাকে। কিছুতেই যেন গরমিল না হয়।
২. তুমি অবশ্যই সেদিন ফ্রি থাকবে। আগে থেকে সব কাজ গুছিয়ে রাখো। অফিসের কোনো ফোনকল তোমার প্ল্যানের যেন বিঘœ না ঘটায় খেয়াল রাখবে।
৩. তোমার সঙ্গীর পছন্দ-অপছন্দ মাথায় রেখে সব গুছিয়ে ফেলো। যদি সম্পর্ক নতুন হয় তাহলে ভালো করে খুঁটিনাটি বুঝে নাও। সে পার্টি অ্যানিমাল নাকি রোমান্টিক জেনে নাও। তোমার সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পছন্দ করে নাকি বন্ধুমহলে বিশদভাবে জেনে রাখো।
৪. যদি আউটিং প্ল্যান করো, তবে রিজার্ভেশনের খুঁটিনাটি বুঝে নাও। পরে গিয়ে না হলে সব ভেস্তে যাবে। আর যদি কোনো বিশেষ দিনে পার্টি অ্যারেঞ্জ করতে চাও তবে কাছের সবাইকে ইনভাইট করবে। সবাইকে অবশ্যই বলে দেবে পার্টি সবটা যেন সিক্রেট থাকে।
৫. সবকিছু যেন তোমার সঙ্গীর পছন্দ অনুযায়ী হয়। গিফট থেকে খাওয়াদাওয়া। তোমার হাতের কোনো রেসিপি যদি তার প্রিয় থাকে তবে সেটাও রাখবে। তোমার হাতের তৈরি কেক তার প্রিয় হলে সেই ফ্লেভারের কেক বেক করে ফেলো। মোটকথা অ্যারেঞ্জমেন্ট, থিম, ফ্লাওয়ার সব যেন তার পছন্দের হয়।
৬. সঙ্গী তোমাকে যেমন দেখতে চাই সেভাবেই সাজো। একদিন না হয় ফর্মাল লুক বাদ দিয়ে আটপৌরে শাড়ি জড়িয়ে নাও।
৭. অনেকেই সারপ্রাইজ দেবে বলে আলাদা করে উইশ করে না। এই ভুল কোনোভাবেই না। তুমি উইশ না করলে বরং মনে করতে পারে আলাদাভাবে সারপ্রাইজের অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছ। আর যখন তুমি উইশ করে দেবে তখন তার মনে সারপ্রাইজের ব্যাপারটা আর থাকবে না।
৮. গিফট কিন্তু হতে হবে তার পছন্দের। সেটা যাই হোক না। অনেক সময় ভেবে থাকি এমন কিছু দেবার যেটা সংসারের প্রয়োজনে লাগে। কিন্তু এমন ভুল হলে চলবে না। সঙ্গীর পছন্দ অনুযায়ী গিফট কিন্তু সারপ্রাইজের একটি প্রধান অংশ।
৯. এই দিন কোনোভাবেই ঝগড়া নয়। মাথায় রাখবে কিছুতেই যেন রাগ না হয়। অন্য দিন না হয় বেশ করে ঝগড়া করে নেবে। এমন দিনে মেজাজ ঠিক না রাখলে কিন্তু পুরোটাই মাটি। তাই সঙ্গীর সঙ্গে সমঝোতা থাকুক।

রোদসী/ডিআর/আরএস

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

18 − 5 =