সুস্বাস্থ্য নিশ্চয়তায় ঘরোয়া টোটকা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়। এই উক্তি কি আসলেই সবক্ষেত্রে খাটে? শরীরের একটু নয়ছয় হলেই নির্ভর করতে হয় পথ্যের উপর। সে জন্যই কিছু ঘরোয়া টোটকা আছে যা অনুসরণ করলে ঘরে বসেই থাকা যাবে সুস্থ। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এমন কিছু প্রতিকার ব্যবস্থা তুলে ধরেছে-

-প্রতিদিন ডালিমের রস খাওয়া হার্টের জন্য ভালো এবং নিম্ন রক্তচাপ আক্রান্তদের জন্য উপকারী

-অ্যাসিডিটির একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা হল খাবারের পর কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া। এটি শুধুমাত্র খাদ্য শোষণ করেই অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে না সাথে রিফ্লাক্স এবং আলসার গঠন রোধ করে

-খাবারের পর এক টুকরো লবঙ্গ চুষে খেলেও অ্যাসিডিটির ঝামেলা কমে

-প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানির সাথে এক টুকরো রসুন গিলে খেলে অনেক পেট ও গ্যাস্ট্রিক সমাধানে সহায়ক হতে পারে

-গ্রীষ্মের অত্যাধিক গরম মাথাব্যথা হওয়ার অন্যতম কারন। দিনে মাত্র এক গ্লাস তরমুজের রস এক্ষেত্রে বিস্ময়কর কাজ করে

-সকালে খালি পেটে একটি আপেল খেলে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে এটি কয়েক সকালের জন্য করা আবশ্যক।

-৬ টি খেজুর নিয়ে তা ১/২ লিটার দুধে ২৫ মিনিট কম আঁচে ফুতিয়ে নাও। দিনে ৩ কাপ পান করলে তা শুষ্ক কাশির জন্য ভালো প্রতিকার স্বরুপ কাজ করে

-সাধারন সর্দি, কাশি, কফ শ্লেষ্মা বের করতে এবং গলা ব্যথার জন্য মধু খুবই উপকারী। সমপরিমান আদা রসের সাথে ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়

-দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজম হলে সকালের নাস্তার আগে আধা কাপ সিদ্ধ বিট খাও

– খোসা ছাড়িয়ে ৬টি মাঝারি পেঁয়াজ কেটে নাও। টুকরোগুলো একটি পাত্রে রেখে তাতে ৪ টেবিল চামচ মধু যগ করতে হবে। ঢেকে তা পানির উপর একদম কম আঁচে ২ ঘন্টার জন্য রেখে দিতে হবে। পরবর্তীতে তা ছেঁকে নিয়ে প্রতি ৩ ঘন্টায় এক টেবিল চামচ নিতে হবে। কাশির জন্য এটি ঘরে আয়ুর্বেদ সিরাপের ন্যায় কাজ করবে

-রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি দূর করতে একতি সহজ উপায় হল কিছু নরম খেজুর দুধের সাথে মিশাতে হবে। তাতে দিতে হবে সামান্য ঘি। এই মিশ্রণ খেলে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করবে

-টমেটো পেস্ট ডার্ক সার্কেলের জন্য অন্যতম কার্যকরি প্রতিকার। এটি বাসায় সহজেই তৈরি করা যায়। এক বা দুটি তাজা টমেটো, এক টেবিল চামচ লেবুর রস, এক চিমটি বেসন এবং হলুদের গুঁড়া নাও। সুন্দর ভাবে ব্লেন্ড করতে হবে যতক্ষন পর্যন্ত না একটা ঘন পেস্ট হয়। চোখের চারপাশে রেখে ১০-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতি সপ্তাহে দুই বা তিনবার এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে

-গলা ব্যথার সর্বোত্তম প্রাকৃতিক প্রতিকার হল হলুদ এবং লবন দিয়ে গার্গল করা। ১/২ কাপ উষ্ণ পানি , ১/২ চা চামচ লবন এবং ১/৪ চা চামচ গুঁড়ো হলুদ মিশিয়ে তা দিয়ে গার্গল করতে পারো। লবন এবং হলুদ ব্যাকটেরিয়া মারার কাজ করার জন্য কমপক্ষে ১/২ ঘন্টা কিছু খাওয়া বা পান করা যাবেনা। সারাদিনে যতবার প্রয়োজন এর পুনরাবৃত্তি করা যাবে।

-একটি পাত্রে কয়েকটি মৌরি নিয়ে তাতে কিছু পানি দিয়ে কম তাপমাত্রায় ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। দ্রবণটি ছেঁকে নিয়ে তা পান করো। স্বাদ সহ্য করতে পারলে তাজা মৌরি পাতার রস চিবিয়ে খাওয়া যায়। অন্যথায় মৌরি, এলাচ এবং পুদিনা পাতা পানিতে সিদ্ধ করে তা খাওয়া যেতে পারে যা পেটে গ্যাসের সময় সাহায্য করতে পারে। এটি গ্যাস এবং পেট ফোলা রোগের জন্য খুবই কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার

-লেবু ভিটামিন সি-এর অন্যতম প্রধান উৎস। এতে ভিটামিন বি, রিবোফ্লাভিন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মত পুষ্টি উপাদানও আছে। উষ্ণ পানির সাথে লেবুর রস সিস্টেমের বর্জ্য দূর করতে এবং লিভার টনিক হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন লেবু পানি খাওয়ার বেশ উপকারিতা আছে। এটি পেটকে সুস্থ রাখে, বমি ভাব, অম্বল, বদহজম,উচ্চ রক্তচাপ,স্ট্রেস এবং হতাশার নিরাময় হিসেবে কাজ করে।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

nine − 8 =