সেক্স কোনো প্রতিযোগিতা নয়! পার্ট-৩

করেছে Rodoshee Magazine

৩. সামান্তার বিয়ে হয় অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। ভার্সিটিতে উঠলেও জড়তা কাটেনি। মা বেশ কয়েকবার বুঝিয়ে দিয়েছে যেন স্বামীর কথামতো চলে। কখনো স্বামীর কথার অবাধ্য যেন না হয়। সংকোচ আর অপরিচিত পরিবেশের একটা ভয় কাজ করতে থাকে সামান্তার ভেতর। নিজের পরিবার, গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। শহরে একটা অচেনা ছেলের সঙ্গে শুরু করতে হবে আরেকটি নতুন অধ্যায়। কখনো ছেলেবন্ধু ছিল না সামান্তার। বড় ভাইয়ের সঙ্গেও অনেক ব্যবধান। এখনো সামান্তা আদিকে দেখেনি। শুধু জেনেছে ওর স্বামীর নাম আদি। শহরে বড় চাকরি করে।
অন্যদিকে আদি ছিল বরাবরই মেধাবী। হাতে গোনা কিছু বন্ধু আছে ওর। বড় কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে অনেক জায়গায় ওঠা-বসা। বিয়েটা তাই পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। সামান্তার ছবি দেখে ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে ম্যাচিউরড। আদির সঙ্গে কো-অপারেট করবে।
আদির ধারণা কি তবে ভুল ছিল? মাঝে মাঝে আদির মনে হয় ও একটা পুতুলের সঙ্গে সংসার করছে। সামান্তার নিজস্ব কোনো চাওয়া নেই। আদি আশা করে সামান্তার ব্যক্তিগত মতামত। সামান্তা একবাক্যে উত্তর দেয়, ‘আপনার যেটা ভালো মনে হয় সেটা করেন’। এমন কোনো দিন হয়নি সামান্তা নিজে চেয়েছে আদিকে কাছে পেতে। আদি যখন চেয়েছে তখনি সম্মতি পেয়েছে। কোনো না নেই কিংবা বাধা নেই। দুজনের ঘনিষ্ঠ সময়ে আদি পায়নি কোনো সাড়াও। কেমন যেন পুতুলের মতো আচরণ ছিল সামান্তার। রসায়ন-প্রেম সবকিছু যেন একপশলা দায়সারা। আদি যখন বন্ধুমহলে থাকত, একপ্রকার এড়িয়ে যেত ফ্যামিলি গসিপগুলো। আদি চাইত সামান্তাকে অন্যভাবে। শুধু একটা বউ নয়, প্রেমিকা হিসেবেও। সেক্স মানেই কেবল ওর নিজের প্লেজার নয়। দুজনের অংশগ্রহণে হবে এটা নিবিড়। শুধু আদির একা দায়সারা একটা চাওয়ার দায় মিটিয়ে যাচ্ছে যেন সামান্তা।

দুজনের অংশগ্রহণ
সেক্সে নারীর ভূমিকা কেমন থাকা উচিত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সমাজব্যবস্থার দায় নাকি পুরুষতন্ত্রের দায় ঠেকে সেটা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। সেক্সে নারীর সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিকতায় থাকে বিরুদ্ধাচারণ। কিছু ক্ষেত্রে আবার ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায়। কোনো কোনো নারী মনে করে নেগেটিভ থাকাটাই ক্রেডিট। কিন্তু বিষয়টা কি আসলেই তাই! সেক্স কেবল একটি শব্দ যুগল নয়। এখানে নারীর ভূমিকা থাকা উচিত স্বতঃস্ফূর্ত। সেক্স শুধু পুরুষের বিষয় নয়। সেক্স উভয়ের। এই নেগেটিভিটি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।
শরীর আর প্রেম একটি অন্যটির সঙ্গে যেন মিশে আছে। নিথরে শরীরকে শুধু বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই প্রেম প্রকাশ পায় না। মাথা নত করে সব মেনে নেওয়ার মানে ভালোবাসা নয়। ভালোবাসা অন্তরঙ্গ। দুজনের আবেগের আর চাওয়ার জায়গাটা থাকে যেন পরিষ্কার। একজন প্রেমিকা কিংবা স্ত্রী হিসেবে তুমিও ব্যক্ত করো তোমার চাওয়ার ক্ষেত্রগুলো। নিজেকে শুধু সঁপে দিয়েই ভালোবাসার অভিব্যক্তি হয় না। একটু রাগ, অভিমান আর অভিযুক্তি থাকুক। নিজের পছন্দের বিষয়গুলো জানিয়ে দাও। সঙ্গীর চাওয়াগুলোকে বিবেচনায় রাখো। অপ্রকাশিত ভাষাকে শারীরী ভাষায় মেলে ধরো। নিজেকে ভেঙে তুলে ধরো তোমাকে। সহযোগিতা আর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সঙ্গীর কাছে নিজেকে প্রেজেন্ট করাটা ভালোবাসা প্রকাশের একটি অংশ। সুখী দাম্পত্যের খুঁটিনাটিতে এর থেকে হয়তো বেশি কিছু লাগে না।

 সেক্স কোনো প্রতিযোগিতা নয় পার্ট- ১ পড়তে ক্লিক করুন- 

সেক্স কোন প্রতিযোগিতা নয় পার্ট -২ পড়তে ক্লিক করুন- 

রোদসী/ডি আর।

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

ten + one =