সেক্স কোনো প্রতিযোগিতা নয়! পার্ট- ১

করেছে Rodoshee Magazine

সঙ্গীকে ঘায়েল করার অসুস্থ চিন্তা পেয়ে বসে অনেক সময়ই। প্রতিযোগী নয়, হতে হবে সহযোগী। ব্যস এটুকুই। জমে উঠতে পারে জমজমাট রোমান্স।
উপভোগ আর ভোগের মাঝে বিষম পার্থক্য। দাম্পত্য জীবন, পরিধি আবেগ, সেক্স কমপ্লেক্সিটি এসব ছন্দপতন নিয়েই পথচলা। কোথাও কিছুটা খাপছাড়া। কিছু বলতে না পারা অভিব্যক্তি। অনিয়মের নিয়মে চলছে জীবন। প্রেম তো শরীরেই আসবে। বেখাপ্পা যৌনজীবনে পৌঁছানোর আগেই ভালোবাসাগুলো অদৃশ্য হচ্ছে।

১. রাকেশের বিয়ের চারটা বছর হয়ে গেল। রাকেশের স্ত্রীর নাম তনু। তনুর ইতিমধ্যে তিনবার মিসক্যারেজ হয়ে গেছে। তনুর ভেতরে অদৃশ্য একটা ভয় কাজ করে। তবে কি ও কোনো দিন মা হতে পারবে না! সবকিছু অন্ধকার হয়ে আসে নিমেষেই। এগুলো ভাবতেই পারে না তনু। ইদানীং রাত এলে ভয় লাগে ওর। আর ভালো লাগা কাজ করে না। রাকেশের স্পর্শ ওর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। কেমন যেন পশুর মতো আচরণ করে রাকেশ ওর সঙ্গে। সারা গায়ে ব্যথা আর জমাটবাঁধা রক্ত। মনের দাগ লুকোতে পারলেও শরীরের দাগ লুকোতে পারে না। মাঝে মাঝে ভাবে এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। রাকেশের কাছে এটা হয়তো উন্মাদনা। তনুর কাছে শুধুই পাশবিকতা। তনু যখন চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে তখন রাকেশের মাঝে একটা পুরুষত্ব নাড়া দিয়ে ওঠে।
তনু অনেকবার রাকেশকে বোঝাতে চেয়েছে মিসক্যারেজের কারণ। রাকেশ কোনো পাত্তাই দেয়নি। রাকেশের কাছে ব্যাপারটা একেবারেই অন্য রকম। সন্তানের বাবা হতে না পারার জন্য কোনো হতাশা কাজ করে না। রাকেশের কাছে যেন হারজিতের খেলা শুধুমাত্র। তনুকে কাঁদিয়ে প্রতিযোগিতায় জিতে যাওয়া। অসহায় কান্নার মাঝে অদ্ভুত আনন্দ কাজ করে।

প্রতিযোগিতা নয়
সময়গুলো ছিল অপেক্ষার। হয়েছে আক্ষেপের। সঙ্গীর ভালোবাসায় থাকবে সম্মান। থাকবে প্রাপ্তির ভালো লাগা। ভালোবাসায় শরীরের প্রেম যেন থাকে। সেই প্রেমে তুমি খুঁজে নেবে হৃৎপিন্ডের শব্দ। একটা রাত শরীরী ভালোবাসা থেকে দূরে থাকো। হাতটা ধরে বসে থাকো তার ঘুমানোর অপেক্ষায়। এক গোছা ফুল, কাজল কিংবা চুলের ফিতা নিয়ে সামনে দাঁড়াও। শুধু সেক্সে সীমাবদ্ধ না রেখে দাম্পত্য জীবনে প্রেমের খেয়া ভাসিয়ে দাও। জড়িয়ে ধরে বলে দাও, ভালোবাসি তোমাকে। সঙ্গীর কাছে থেকে বেশি কিছু চাওয়ার থাকে না। ছোট কিছু মুহূর্ত, কিছুটা শেয়ারিং হতে পারে সুখের নীড়। দুজনের সহযোগী মনোভাব আর মনোমালিন্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত উভয়ের।
লক্ষ করলে দেখা যায়, পুরুষের ভীষণ রকমের প্রভাব থাকে সেক্স চলাকালে। এখানে পুরুষের একটা আধিপত্য বিরাজ করে। সঙ্গীর ভালো লাগা, মন্দ লাগাকে প্রায়োরিটি দেওয়া হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেক্স শব্দটি কেবল পুরুষের উপভোগ্য বলে মনে করা হয়। পুরুষের এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসাটাও জরুরি এখানে। একপাক্ষিক সেক্স মিসক্যারেজের কারণ হতে পারে। সেটা প্রমাণিতও বটে। এখানে সঙ্গীর মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে। সেক্সে যেন উভয়ের সম্মতি থাকে। একদিন তোমার সঙ্গী যদি চায় গল্প করে কাটিয়ে দিতে তবে সেটা শোনো। মোটকথা তার কথার মূল্যায়ন করা। দুজনের শ্রদ্ধার জায়গাটা দেখিয়ে দেওয়া। সময়গুলোকে মধুর করে তোলা। দাম্পত্য তবেই মধুময়।

রোদসী/ ডি আর।

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

17 + sixteen =