স্কিন কেয়ারে গ্রীন টি’র উপকারিতা

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহান

 

গ্রীন টি’র কথা মাথায় আসলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে ধোঁয়া উঠা কাপে গরম গরম চা’য়ে চুমুক দেয়ার কথা। প্রাকৃতিক এই চা পানে যেমন আছে অসংখ্য হেলথ বেনেফিট, তেমনি এটি আমাদের স্কিন কেয়ার রুটিনের সাথে যোগ করে নিলে পাওয়া যাবে নানান সমস্যা থেকে মুক্তি।

সকালে এক কাপ সবুজ চা সামনের দিনের জন্য যেমন শক্তি যোগাতে সাহায্য করতে পারে, তেমনি এটি ত্বকের জন্য একই রকম সুবিধা প্রদান করে। শুধু ওজন ঝরাতেই নয়, রুপচর্চাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এই কারনে ক্লিনজার থেকে ময়েশ্চারাইজার অথবা সিরাম পর্যন্ত স্কিনকেয়ার পন্যগুলোতে তালিকাভূক্ত উপাদান হিসেবে গ্রীন টি’র উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এতে পাওয়া পলিফেনলিক যৌগগুলো ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রভাব ফেলতে পারে যা এটিকে মুক্ত র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে পারে এবং লালভাব ও প্রদাহ জনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ত্বকের জন্য কোমল, শুদ্ধ কোনও উপাদান যাদি আমরা খুঁজতে যাই, তাহলে যে উপাদানগুলো পাব তার মধ্যে গ্রীন টি’র বহুবিধ উপকারিতার জন্য প্রথম দশের মধ্যে থাকবেই। এই মাল্টি টাস্কিং উপাদানটি ইউভি ক্ষতি কমানো সহ ত্বকের যত্নের অনেক উদ্বেগের সমাধান করতে পারে। এতে ট্যানিন এবং ক্যাফিনও রয়েছে যা রক্তনালীগুলোকে সঙ্কুচিত করে এবং মুখের পাফিনেস কমায়। অনেক ডার্মাটোলজি এই বলে মত দিয়েছেন যে, এটি ডিএনএ ক্ষতি মেরামত করতে এবং টিউমার গঠন রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও পলিফেনল যৌগগুলো ফাইন লাইনস ও বলিরেখা কমাতে পারে।

কারা ব্যবহার করতে পারবে?

গ্রীন টি শুধুমাত্র একটি জাদুকরী মাল্টি টাস্কিং উপাদান নয়, এটি সব ধরনের ত্বকে চমৎকারভাবে কাজ করতে পারে। এর সাধারনত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই যদি না ব্যবহারকারীর কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা না থেকে থাকে। এই জন্য গ্রীন টি ত্বকে ব্যবহার করার আগে বা এই উপাদান উপস্থিত আছে এমন প্রোডাক্ট এপ্লাই করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নেয়া ভাল। অধিকাংশ ডার্মাটোলজির মতে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সীরা তাদের ত্বকের যত্নের রুটিনে গ্রীন টি অন্তর্ভূক্ত করলে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে।

গ্রীন টি পান করলেও কি ত্বকের একই সুবিধা পাওয়া যাবে?

গ্রীন টি পান করা অনেকগুলো প্রমানিত স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়। যেমন, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি এটি ত্বকের ক্ষেত্রেও একই রকম সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এটিকে সিরাম হিসেবে ত্বকে রাখলে ফাইন লাইনস ও বলিরেখা কমানোর ক্ষেত্রে ভালো কাজে দিবে। এছাড়াও ত্বককে কার্সিনোজেনিকপ্রভাব থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি হওয়ার চেয়ে আরোও ভালোভাবে রক্ষা করতে পারে।

কিভাবে ত্বকের যত্নে গ্রীন টি যুক্ত করবো?

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে গ্রীন টি একটি মূল্যবান উপাদান কারন এতে আছে ইজিসিজিঃ এটি এমন এক যৌগ যা দূষণ, সূর্যের ক্ষতি এবং রাসায়নিকের প্রভাব মোকাবেলা করে। বাজারে এমন অনেক স্কিনকেয়ার পন্য রয়েছে যাতে গ্রীন টি’র উপাদান যোগ করা থাকে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সেই পন্য নির্বাচন করা যেগুলোতে গ্রীন টি সহ আরো অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত থাকে, কারন এতে উপাদানগুলো সিনারজিস্টিকভাবে কাজ করবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরা সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজারগুলো ত্বকের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল আনে। এছাড়াও বাসায় বসেও স্কিনকেয়ার রুটিনে সরাসরি গ্রীন টি প্রয়োগ করা যেতে পারে। যেমন-

ক্লিনজার হিসেবে

বাজারে রাসায়নিক বেসড ক্লিনজার ব্যবহার করতে না চাইলে বাসায় বসেও এর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা যায়। ক্লিনজিং হিসেবে এর লিকার এবং মধু মিশিয়ে মিশ্রনটি সারা মুখে লাগিয়ে রাখা যায়। ২ মিনিট হাল্কা হাতে পুরো মুখে ম্যাসেজ করতে হবে। কিছু সময় রেখে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

স্ক্রাব হিসেবে

স্ক্রাব ত্বকের মরা কোষ, ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করে। ফেসওয়াশের সাথে ১ চামচ এর শুকনো পাতা গুড়া নিয়ে হাল্কা হাতে মুখে ম্যাসেজ করতে হবে।

টোনার হিসেবে

ফেসওয়াশ ও স্ক্রাবিং এর পরে আমরা অনেকেই টোনার উপক্ষা করি। কিন্তু ত্বক পরিচর্যার রুটিনে এর অবদান অনস্বিকার্য। গ্রীন টি টোনার হিসেবে দারুন কাজ করে। শুধু মাত্র গ্রীন টি বানিয়ে কোন স্প্রে বোতলে ভরে রাখলেই হল। প্রয়োজনের সময় কটন প্যাড দিয়ে অথবা সরাসরি পুরো মুখে খানিকটা স্প্রে করে নিলেই হয়ে যাবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে

যে কোন ফেসপ্যাকের সাথে একে মিশিয়ে অথবা এর পাতা গুঁড়ো করে সাথে মধু, অ্যালোভেরা জেল, এসেনশিয়াল ওয়েল মিশিয়ে তা সারা মুখে দিয়ে রাখতে হবে। ১০-১৫ মিনিট পর তা হালকা গরম পানিতে ধুয়ে মুছে নিলেই হবে।

আই মাস্ক হিসেবে

ব্যবহার করা গ্রীন টি ব্যাগ ফেলে না দিয়ে সেগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। এখন এটি ফোলা চোখ, ডার্ক সার্কেল এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যাগুলোর চিকিৎসার স্বরুপ চোখের উপর এপ্লাই করা যায়।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

three × five =