স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার হতে চাইলে!

করেছে Wazedur Rahman

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং হচ্ছে ব্যবসায়ের কৌশল প্রণয়ন এবং সাংগঠনিক উদ্দেশ্যগুলোর ভিত্তিতে তাদের প্রভাবগুলো মূল্যায়ন করার এক নিখুঁত শিল্প। মূল ধারণাটা সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের বিভিন্ন বিভাগকে (অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, গবেষণা এবং উন্নয়ন, উৎপাদন, বিপণন, তথ্য পরিষেবা এবং পরিচালনা) একত্রীকরণের কাজ করে।

বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের শতকে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার শব্দটির প্রচলন হয় এবং ষাট-সত্তরের দশকে শব্দটি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। আমাদের দেশে কিছুদিন আগেও শব্দটি অনেকটাই দুর্লভ ছিল। তবে ইদানীংকালে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার শব্দটি বহুল প্রচলিত এবং অন্যতম সেরা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। খুব সহজেই যেমন একজন স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার হিসেবে কোথাও যোগদান করা সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একজন সফল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার হিসেবে টিকে থাকাটাও মোটেই সহজ কিছু না। ইতিমধ্যেই হয়তো তুমি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানারের নামটা শুনেছ অথচ এ-সম্পর্কিত তেমন কিছুই জানো না।

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং হচ্ছে ব্যবসায়ের কৌশল প্রণয়ন এবং সাংগঠনিক উদ্দেশ্যগুলোর ভিত্তিতে তাদের প্রভাবগুলো মূল্যায়ন করার এক নিখুঁত শিল্প। মূল ধারণাটা সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের বিভিন্ন বিভাগকে (অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স, গবেষণা এবং উন্নয়ন, উৎপাদন, বিপণন, তথ্য পরিষেবা এবং পরিচালনা) একত্রীকরণের কাজ করে।

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং শব্দটি আবার স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্টেরই প্রতিরূপ; তবে ভিন্নতা হচ্ছে একটি করপোরেট দুনিয়ায় পরিচিত আর অন্যটি একাডেমিক। আর যে ব্যক্তি এই কৌশলসমূহের সূক্ষ্ম আর বিশ্লেষণী রিপোর্ট করে, তাকেই স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার বলে। ব্যবসায়-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) আর ভিন্ন ধারার চিন্তাশক্তিও (আউট অব দ্য বক্স) চাই এই পেশার জন্য।

কাজটা কী?

এখন হয়তো তোমার মনে এমন প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে যে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান কীভাবে করে? হ্যাঁ, এমন প্রশ্ন মনে আসাটা মোটেও খারাপ কিছু নয়। আগে তো তোমাকে জানতে হবে। আর সেই জানার সুবিধার্থেই স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানের কিছু প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরলাম :

১. বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন : শুরুর এই ধাপটিতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক পরিবেশসমূহ নিয়ে কাজ করা হয়। এগুলো বিশ্লেষণ বা মূল্যায়নের মাধ্যমে উন্নত করা হয়। আর একই সঙ্গে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও জ্ঞান অর্জিত হয়।

২. কৌশল গ্রহণ : প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা জানার সময়ই কিন্তু অতীত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আর তাই এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে থাকে ভবিষ্যতের জন্য কৌশল গ্রহণ প্রক্রিয়া। অতীত আর বর্তমানের ভিত্তিতে এবং ভবিষ্যতের আলোকে সংগঠনের স্তরসমূহের কৌশলগত পরিকল্পনাসমূহ নথিভুক্ত করা হয়।

৩. কৌশল প্রয়োগ : বিশ্লেষণ আর কৌশল গ্রহণের পর আসে কৌশল প্রয়োগের পর্বটি। এই পর্বে কৌশল কীভাবে প্রয়োগ করা হলে পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করবে এবং তা কার্যক্ষম হবে তাই নিয়ে আলোচনা হয়। ধরো, তোমার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে মার্কেট শেয়ার প্রতিবছর বাড়ছে ৫ পারসেন্ট। এখন এই ৫ পারসেন্টকে মুখ্য রেখে কীভাবে কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে মার্কেট শেয়ার ১০ পারসেন্ট বা ততোধিক বাড়বে, তাই পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে এটাও মাথায় রাখতে হবে যেন কোনো কারণে যদি কৌশল প্রয়োগ সফল না হয়, তাহলে যেন ওই মুখ্য ৫ পারসেন্টই ভরসা হিসেবে থাকে।

প্রাগুক্ত তিনটি ধাপ মুখ্য হলেও এর বাইরে থাকে আরও অসংখ্য কর্মপরিচালনা এবং পরিকল্পনার ধাপ। আর স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যখন এই প্ল্যানটা একটা কোম্পানিতে এক্সিকিউট করা হয় তখন এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই প্ল্যানের আওতায় চলে আসে। তখন তারাই ভাবতে বা চিন্তা করতে পারে যে আজকের দিনের ব্যবসায়ের জন্য কোনটা দরকারি এবং কোনটা আগামী দিনের জন্য। এ ছাড়া কোম্পানির শক্তিমত্তা এবং দুর্বল দিকগুলো উন্মোচিত হয় এবং একই সঙ্গে কোম্পানি বর্তমানে কোন পথে হাঁটছে কিংবা আগামী দিনে কোন পথে হাঁটবে, তা-ও সরাসরি একদম নিম্নতম কর্মকর্তারাও বুঝে উঠতে পারে।

ক্যারিয়ার হিসেবে কেমন

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে কিনা গবেষণা করতে ভালোবাসে, ভালোবাসে তথ্যসমষ্টির পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করতে কিংবা অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে অঙ্ক কষে সমাধান বের করতে অথবা সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করতে। যদি তুমি এই ব্যাপারগুলোতে দক্ষ হয়ে থাকো, তাহলে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার তোমার জন্য সেরা অপশন। বর্তমানে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার বেশ রিচ একটা প্রফেশন। যে কেউ চাইলেই এই পেশায় আসতে পারে না। প্রথম অবস্থায় করপোরেট জব করলেও পরবর্তী সময়ে কনসালট্যান্ট হিসেবে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ থাকে। এ ছাড়া ছোটখাটো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ সাধারণত ফুল টাইম কাউকে নিয়োগ না দিয়ে পার্ট টাইম বা কনসালট্যান্ট হিসেবেই নিয়োগ দিয়ে থাকে।

দক্ষতা ও পড়াশোনা

স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ের জন্য আলাদা কোনো সাবজেক্ট নেই। কেননা, এটা একই সঙ্গে অনেকগুলো সাবজেক্টের আওতাধীন। বিজনেস, ফিন্যান্স, কমিউনিকেশন এবং পাবলিক ম্যানেজমেন্টÑ এই সাবজেক্টগুলো আবার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার হিসেবে বেশ সুবিধার। এরপর আসে বিভিন্ন কোর্সের কথা। সেটা অনলাইনেও হতে পারে কিংবা কোনো শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের আওতায়ও হতে পারে অথবা সেটা কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় শিক্ষানবিশ হিসেবেও হতে পারে।

আয়রোজগার

শিক্ষানবিশ অবস্থায় হয়তো খুব কম বেতনের সুযোগ থাকলেও দক্ষতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বেতনেরও পরিমাণ। শিক্ষানবিশ হিসেবে অনেক সংস্থাই নিয়োগ দিয়ে থাকে। প্রথম অবস্থায় ২০-২৫ থেকে শুরু করলেও পরে তা দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আবার উচ্চপদস্থ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানারের বেতন লাখের সীমা ছাড়িয়ে যায় তা বলাই বাহুল্য।

 

লেখা: রোদসী ডেস্ক 
ছবি: সংগ্রহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

20 − 11 =