স্নিগ্ধ সাজে প্রেয়সী

করেছে Tania Akter

সবুজ ঘাসে মৃদু হাওয়ায় প্রিয়জনের হাত ধরে হেঁটে যাওয়া। চোখে চোখে কথা হবে। সেই চোখে মিষ্টতা ফুটে উঠবে কাজলের আভায়। চুলেরা হাওয়া হাওয়ায় ভালোবাসার কথা বলবে। সাজটা এমনই হওয়া চাই ভালোবাসা দিবসে। এ সময় দিনের শুরুটা রোদ গরম আর বিকেলে হিমেল হাওয়া। প্রকৃতির অদ্ভুত খেলা বুঝে সাজটা সেভাবেই করতে হবে। রূপ বিশেষজ্ঞরাও এসব বিষয় মাথায় রেখে পরামর্শ দেন। তবে এবার করোনার বিষয়টা মাথায় রেখে সাজগোজের ধরন হওয়া উচিত।

 

 

সাজের শুরুতে মুখটা ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশন এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো হয়। লাগাতে চাইলে ঘরের জানালা খুলে দিয়ে দিনের আলোতে খুব হালকা করে লাগাতে হবে। এরপর লাগাতে পারো আই লাইনার এবং কাজল। দিনের বেলায় লিকুইড আই লাইনার না লাগিয়ে পেনসিল আই লাইনার লাগানো উচিত বলে জানালেন হারমনি স্পার রূপ বিশেষজ্ঞ ও কর্ণধার রাহিমা সুলতানা।

 

রাহিমা সুলতানা আরও বলেন, ‘যাদের ছোট চোখ, তাদের চোখের নিচের কাজল একটু মোটা করে দিতে হবে এবং অবশ্যই চোখের ওপরে আই লাইনার দিবে একদম চিকন করে। এতে করে চোখটা বড় দেখাবে। যারা একটু ডার্ক, তারা কালো লাইনার ব্যবহার না করে গাঢ় নীল রং ও ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলা চোখে আর কিছু না সাজানোটাই ভালো হবে। তবে রাতে চোখের ওপরে শেড ব্যবহার করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্মোকি আইটা বেশ ভালো লাগবে। এ ছাড়া নীল, ব্রোঞ্জ, অ্যান্টিক টাইপের কালার ব্যবহার করতে পারো। একটু লক্ষ রাখতে হবে, যাদের গায়ের রং ডার্ক, তারা কখনোই হালকা রঙের কোনো শেড ব্যবহার না করাই ভালো।’

লিপস্টিকের কালারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে লাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে নিয়ে তারপর লিপস্টিক লাগাতে পারো। অথবা লিপস্টিক লাগিয়ে একটি ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে চেপে আবার ব্যবহার করতে হবে। এতে করে আরও বেশি ন্যাচারাল লুক আসবে। তবে যাদের বয়স কম, তাদের লিপস্টিকের বদলে ন্যাচারাল শেডের লিপ গ্লস লাগালে বেশি ভালো লাগবে। তবে চোখের সাজ যদি গাঢ় হয়, তবে ঠোঁটে অবশ্যই হালকা শেডের লিপস্টিক লাগালে ভালো লাগবে বললেন রাহিমা সুলতানা।

 

চুলের সাজ নিয়ে রেডের রূপ বিশেষজ্ঞ ও কর্ণধার আফরোজা পারভীন বলেন, ‘হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ায় ব্লো ডাই বা আয়রন করে চুল ছেড়ে রাখা যেতে পারে। আর চুলের এক পাশে দিতে পারো তাজা কোনো ফুল। আবার খোলা চুলে করতে পারো ওয়েভ কার্ল, স্পাইরাল। চাইলে কপাল ঘেঁষে চিকন বেণি করে নেওয়া যায়। পনিটেইল, ফ্রে বেণিও ভালো লাগবে। যারা শাড়ি পরবে, তারা হাতখোঁপা করে নিলে ভালো লাগবে। হরেক রকম চুলের কাঁটা গুঁজে খোঁপায় করে তুলতে পারো নতুন ছন্দ। খেয়াল রাখবে, চুল যেন সব সময় পরিষ্কার ও টিপটপ দেখায়। থ্রি পিস পরলে ভারী গয়না না পরাই ভালো। হালকা কিছু পরলেই ভালো লাগবে। আর কানের দুল বড় হলে গলায় কোনো তেমন হালকা কিছু পরলে ভালো লাগবে।’

ভ্যালেন্টাইনস দিবসের আগের পরামর্শ

রূপ বিশেষজ্ঞ ফারজানা আলম ভ্যালেন্টাইনস দিবসের আগের পরামর্শ দিয়েছেন। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য আগের দিন মাস্ক ব্যবহার করো। মধুর সঙ্গে লেবু ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো।
পাকা পেঁপে, লেবুর রস এবং ডিমের সাদা অংশ দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করো। ২০ মিনিট মুখে রেখে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো। লেবু ত্বক পরিষ্কার করবে, পেঁপে নরম করবে, ডিমের সাদা অংশ ত্বককে টানটান করবে। মুখ যদি চুলকায় তাহলে ভয় পাবে না। মিশ্রণটি ব্যবহারে এই আবহাওয়াতেও তোমার ত্বক থাকবে নরম ও কোমল।

সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনিং করো। একটি ডিম ও দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগাও ৩০ মিনিট অপেক্ষা করো। এরপর উষ্ণ গরম পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলো। দেখবে ভালোবাসা দিবসে তোমার চুল ঝলমলে হয়ে উঠেছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে যদি চুল না কেটে চুলের স্টাইলে কিছুটা ভিন্নতা আনতে চাও, তবে হেয়ার কালার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। মুখের পাশের চুলে অল্প কিছু হালকা রঙের হাইলাইট করে নিলে তোমাকে আরও অনেক বেশি উজ্জ্বল ও ফরসা দেখাবে।

হৃদয় দোলে প্রেয়সীর চুলে

এলো চুলে যদি ভালোবাসা দিবসের সারা দিন কাটাতে হয় তাহলে আগে থেকেই চুলের বিশেষ যত্ন-আত্তি করতে হবে।
সোজাসাপটা খোলা চুলে দেওয়া যায় নানা বৈচিত্র্য। এ ছাড়া নানা রকম বেণি, এলোমেলো স্টাইল, কার্ল, সোজা সবই এখন চলছে। তাই চুল বাঁধতে পারেও ইচ্ছেমতো। তবে নিজের সঙ্গে যা মানানসই, সেই স্টাইলকেই প্রাধান্য দাও। মাঝারি চুলে ইচ্ছেমতো স্টাইল করা যায়। এখন ছোট চুলের স্টাইলেও এসেছে অনেক বৈচিত্র্য। বিভিন্ন ধরনের স্টাইলিশ ব্যান্ড দিয়েও সাজে ভিন্নতা আনা যেতে পারে। কার্ল করলেও ভালো দেখাবে। চুল খোলা রাখলে একদম সোজাসাপটা ছেড়ে না রেখে ব্লো ড্রাই করে নাও। কিংবা রোলার স্টাইলার দিয়ে হালকা কুঁকড়ে নাও। পুরো চুল স্পাইরালও করতে পারো। ওপরের দিকে সোজা রেখে নিচের দিকে কোঁকড়া করে রাখতে পারো। লম্বা চুলে বেণির শোভা দেখতে দারুণ লাগে।সবার চেহারার গড়ন এক নয়। এ জন্য চুলের সাজও একেক জনের একেক রকম করতে হয়। তাই চুলের সাজের বেলায় কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে আগে নিজেকে বোঝো, নিজের চেহারার গড়নকে বোঝো, তারপর তোমার কাছে যেটা ভালো লাগে, সেভাবেই চুলের সাজ করো।

লম্বাটে শেপের মুখে ফ্ল্যাট আয়রন ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকবে। কারণ, এতে তোমাদের মুখটা আরও লম্বা দেখাবে। ফ্রন্ট লেয়ার করে পেছনে স্টেপ কাট করতে পারো অথবা পার্টিতে যাওয়ার সময় কার্ল করতে পারো। চুল টেনে বাঁধবে না। লম্বাটে মুখের গড়ন যাদের, তারা এমন হেয়ার স্টাইল করো, যাতে চুল ঘন লাগে। শর্ট লেয়ারসও ভালো লাগবে। বব ফ্রিঞ্জ কাট বা কার্লি ববও ভালো মানাবে। এ শেপের মুখে ছোট চুলের কাটই ভালো মানাবে। লম্বা চুল বা ওয়ান লেংথ হেয়ার মানাবে না।

স্কয়ার শেপে চিবুকের অংশটা বেশি প্রশস্ত হয়। যদি তোমার চুল ছোট হয়ে থাকে তাহলে চুল পেছন থেকে গোল করে কাটো, পারলে কার্ল করো। আর লম্বা চুলে ব্যাংস কেটে নাটকীয় লুক দিতে পারো, যাতে করে সবার নজর শুধু তোমার কপালের অংশে থাকবে। লেয়ার হেয়ার কাটিং আয়ত কারও মুখের জন্য সবচেয়ে ভালো।
গোলাকার শেপ এ গড়নের মেয়েরা ব্যাককম্ব করে সাজ করলে চেহারা কিছুটা ওভাল শেপ দেখাবে। এতে করে তাদের দেখতে সুন্দর লাগবে। যদি ব্যাংস করতে চাও, তবে চোখের নিচ পর্যন্ত লম্বা করে কাটবে। যদি তোমার চুল ছোট হয়, তাহলে লেয়ারস করতে পারো। এর ফলে তোমার চেহারা কিছুটা লম্বা দেখাবে। আর চুল কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন কানের দুই পাশের অংশ একটু চাপা দেখায়। মাথার ওপরের ও সামনের অংশের চুল অপেক্ষাকৃত বড় ও খাড়া রাখতে হবে। গোলাকার মুখের জন্য এমন চুলের কাট করো, যা তোমার গাল ঢেকে দেয়।

লেখা:সুরাইয়া নাজনীন

ছবি: সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 + seven =