হবু মায়ের উপযোগী ঘর

করেছে Tania Akter

রোদসী ডেস্ক

মা হওয়ার আনন্দ অতুলনীয়। কোল আলো করে আসা সন্তানের জন্য আনন্দ ও উত্তেজনার কমতি নেই। তবে গর্ভাবস্থায় শুধু আনন্দই নয় পার হতে হয় শারীরিক ও মানসিক নানা জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে। তাই হবু মায়ের জন্যও দরকার বিশেষ যত্ন। বিশেষ করে অন্দর মহলের জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ।

 

পরিচ্ছন্ন অন্দর
চার দেওয়ালে আবদ্ধ জীবনে ব্যবহৃত সমস্ত সামগ্রী পরিচ্ছন্ন থাকা চাই। তা না হলে জীবাণুর আক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়। আর গর্ভাবস্থায় জীবাণুমুক্ত অন্দর জরুরী। নিয়মিত কাপড় ধুয়ে নিতে হবে। অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহারেও জীবাণুর ভয় থাকে। কার্পেট থাকলে নিয়মিত ধুয়ে নিতে হবে। রান্নায় ব্যবহৃত শাক-সবজিসহ তরকারির জিনিস ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। খাবার শেষে প্লেট পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়াও ঘরে ইঁদুর, তেলাপোকা, পিঁপড়া এসব থেকেও মুক্ত রাখতে হবে। কারণ এগুলো রোগ জীবাণু ছড়ানোর অন্যতম বাহক। তাই আলমারি, খাট ও সোফার নিচে যেখানে আলো কম পৌঁছায় এসব জায়গা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে যাতে বাসা না বাঁধতে পারে। মেঝে, দেওয়াল, বারান্দা, বাথরুম, আসবাব, আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন পুরো ঘর পরিষ্কার করতে হবে। তবে পরিষ্কারের সময় ভালো ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে।

গোছানো অন্দর
হবু মায়ের স্বাচ্ছ্যন্দে চলাফেরার জন্য অবশ্যই ঘর গুছিয়ে রাখতে হবে। ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখতে হবে। ঘর যতটা ফাঁকা রাখা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। আর আসবাবপত্র যতটাই থাকুক না কেন তা গুছিয়ে রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় ঝুঁকে কাজ করাটা বিপজ্জনক। তাই দাঁড়িয়ে যেন সহজে নাগাল পাওয়া যায় এমন আলমারি বা ওয়ার্ডরোব রাখতে হবে। আর ড্রয়ারে কাপড়গুলো ছোট ছোট বাক্সে এমনভাবে গুছিয়ে রাখতে হবে যাতে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। ড্রয়ারগুলো খুলতে এবং বন্ধ করতে কষ্ট না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

 

এসময় খাবারের পরিবর্তন আসায় ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে ভালো পাত্রে গুছিয়ে রাখতে হবে যাতে খেতে চাইলেই পাওয়া যায়। এসময় ঘুম সবচেয়ে জরুরি। তাই আরামদায়ক বিছানা দরকার। এক্ষেত্রে নরম বিছানার পাশাপাশি একাধিক বালিশের প্রয়োজন।

 

ঘুমানোর একটি বেডসাইড টেবিলের উপর প্রয়োজনীয় সবকিছু রেখে দিতে হবে। চাইলেই যেন হাতের কাছে দরকারি জিনিস পাওয়া যায়। এছাড়াও টেবিলের ড্রয়ারেও প্রয়োজনীয় জিনিস সাজিয়ে রাখা যেতে পারে।

আরামদায়ক অন্দর
হবু মায়ের আরাম দরকার। পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের জন্য অন্দরকে আরামদায়ক করে তুলতে হবে। সারাদিনের ক্লান্তি মিলিয়ে দিবে বেলকনি বা বারান্দায় রাখা ঝুলন্ত দোলনা। এছাড়া গর্ভাবস্থায় মন ভালো থাকা জরুরী। এসময় পছন্দের বই পড়লে জ্ঞানবৃদ্ধির পাশাপাশি মস্তিস্কের বিশ্রামও হয়।

 

 

তাই ঘরের কোণে বুকশেলফের পাশে রাখা যেতে পারে একটি আরামকেদারা। চাইলে বিছানার পাশে ছোট্ট একটি টেবিলে গোটা কয়েক পছন্দসই বই কিংবা ম্যাগাজিন রেখে দিলে ঘুম না এলে আধশোয়া হয়ে পড়ে নেয়া যেতে পারে। এর জন্য একটি নরম আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে কড়া আলো ঘুম ভাঙিয়ে দেবে।

 

সতর্কতা
গর্ভবতী নারীর ঘরের মেঝের দিকে নজড় দিতে হবে। কারণ অসমতল ও অমসৃণ মেঝে বিপদ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ফাটল কিংবা ভাঙা মেঝেও বিপদজ্জনক।

হবু মায়ের ঘর রঙ করানো ঠিক না। কারণ রঙের মধ্যে থাকা নানা জৈব রাসায়নিক ও গন্ধ গর্ভাবস্থায় শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
বাথরুম যেন পিচ্ছিল না থাকে সেদিকে নজড় দিতে হবে। গোসলের সুবিধায় একটি টুলের ব্যবস্থা রাখা ভালো। টুল কিংবা কমোড এর পাশে একটি হাতল লাগিয়ে নিলে উঠতে এবং বসতে বেশ সুবিধা হয়।

চেয়ার, সোফা, খাট এসব বসার বা শোয়ার জন্য যে আসবাবপত্র এগুলোতে ফাটল বা ভাঙা থাকলে দ্রুত মেরামত করতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

2 + nine =