হাঁটুর ব্যথা নিয়ে হাঁটা কি ঠিক?

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

 

হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষ প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই রয়েছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের জোড় ক্ষয় হতে শুরু করে। আবার আকস্মিক দূর্ঘটনা, যেকোন আঘাত ও অন্যান্য রোগের কারণেও যেকোন বয়সীদের মাঝেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ যাই হোক না কেন এই হাঁটু ব্যথা নিয়ে কি হাঁটা অথবা অন্যান্য এক্সারসাইজ করা কি ঠিক? হ্যাঁ কি না? কনফিউশড? এইসব কিছু জানতেই আজকের এই আয়োজন।

অন্যান্য শারীরিক এক্সারসাইজের মধ্যে হাঁটা হল সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজসাধ্য। যেকোন জায়গায় যেকোন পরিবেশেই এটা করা যায়। হাঁটা একজনের শরীরকে আকৃতিতে রাখতে পারে, পেটের পেশীগুলোর দৃঢ়তা বাড়াতে পারে, হাঁটুতে শক্তি তৈরি করতে পারে, নমনীয়তা এবং ভারসাম্য উন্নত করতে পারে, অঙ্গবিন্যাস উন্নত করতে পারে এবং এমনকি উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিক অবস্থা এবং তাদের প্রভাব হ্রাস করতে পারে। হাঁটা কিছু হাঁটুর ব্যথায় সাহায্য করতে পারে ঠিকই কিন্তু কিছু কিছু আঘাতকে আরও খারাপ করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তুমি যদি পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পেয়ে থাকো তাহলে বিছানায় সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেয়া ভালো, না হয় ফোলা আরও বেড়ে যায়। আবার হাঁটু মচকে গেলে বা স্থানচ্যুত হয়ে গেলে, ৪৮ ঘন্টার জন্য আরআইসিই ( রেস্ট, আইস, কম্প্রেস, ইলিভেট) এর পরামর্শ দেয়া হয়। যাইহোক, যাদের দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক আর্থ্রাইটিস আছে, তাদের জন্য হাঁটা অনেক উপকারে আসে।

হাঁটা হাঁটুর ব্যথায় কিভাবে সাহায্য করে?

-হাঁটা হাঁটু জয়েন্টের চারপাশে থাকা পেশীগুলোকে প্রসারিত করে। প্রথম প্রথম হাঁটতে গেলে জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হবে কিন্তু এটা চালিয়ে গেলে, ধীরে ধীরে তা ভালোর দিকেই যাবে।

-ওজন কমানো নিজেই হাঁটু ব্যথার একটি প্রতিকার। প্রতি পাউন্ড হারানোর জন্য হাঁটুতে প্রায় চারগুন কম চাপ কমে যায়।

-হাঁটুর ব্যথা যদি অস্টিওআর্থারাইটিস বা বয়স সম্পর্কিত কারনে হয়ে থাকে, তাহলে জয়েন্টের উপরিভাগে থাকা তরুণাস্থি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যেকোন ধরনের ওজন বহনকারী ব্যায়াম জয়েন্টের তরুণাস্থি পুননির্মানে সাহায্য করে। হাঁটা বা ওজন বহন করা হাঁটুর জয়েন্ট গঠনকারী  হাড়কে শক্তিশালী করে।

-সঠিক ধরনের জুতা পরে সঠিক পৃষ্ঠে হাঁটা উরুর এবং কাফ মাসলকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এই পেশীগুলো জয়েন্টের থেকে চাপ সরিয়ে দেয় এবং নিজেরাই আরও বেশি ওজন পরিচালনা করতে পারে।

কতটুকু হাঁটা জরুরী?

প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য মাঝারি গতিতে হাঁটা হাঁটু ব্যথার জন্য কার্যকর। যে সারফেসে হাঁটা শুরু করা হবে সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। শক্ত মার্বেল মেঝে, নুড়িপাথর রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা একদমই উচিৎ না। এই অসম পৃষ্ঠের কারনে হাঁটুর জয়েন্টগুলোতে চাপ বাড়তে পারে। এটি পিছলে যাওয়া এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শক্ত পৃষ্ঠ হাঁটু জয়েন্টের গঠনগুলোকে প্রতিকুল্ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মসৃণ এবং সমতল পৃষ্ঠ অথবা ট্রেডমিলের উপর হাঁটার চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বাত বা লাঠির ব্যবহার করা যেতে পারে। হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য সঠিক জুতাআছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে। জুতা খুব টাইট বা খুব ঢিলেঢালা বা খুব শক্ত হওয়া উচিৎ নয়।

মনে রাখতে হবে, যাদের হাঁটুতে ব্যথা আছে তাদের অবশ্যই ভারী ব্যায়ামগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। যেমন, স্কিপিং, বাস্কেটবল, ফুটবল, টেনিস, স্কোয়াশ, সকার ইত্যাদি। তবে যাই কিছু করা শুরু করতে হোক না কেন আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে সবচেয়ে ভালো ওয়ে খুঁজে বার করা উচিৎ।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

two × 2 =