হাই হিল  জুতা হোক আরো আরামদায়ক

করেছে Shaila Hasan

শায়লা জাহানঃ

বলা হয়, ‘গুড শুজ টেক ইউ গুড প্লেসেস’। যদি তোমার চুল সঠিকভাবে করা হয় এবং ভালো জুতা পরে থাকো তবে তুমি যে কোথাও যাওয়ার জন্যই প্রস্তুত। চলাচল এবং সারাদিনের জন্য কম্ফোর্টেবল থাকতে সু বা স্লিপার হলো আদর্শ। কিন্তু আজকাল ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে সমাদৃত পাচ্ছে হাই হিলের জুতা। যদিও অধিকাংশ হাই হিল অস্বস্তিকর। এমনকি হোক সেটা তোমার বেস্ট, সবচেয়ে বিলাসবহুল জোড়া; কয়েক ঘন্টা হাঁটার পরে এটি পায়ে ব্যথার সৃষ্টি করবেই। অবশ্যই বিউটি ইজ পেইন এবং আমরা ফ্যাশনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করি কিন্তু প্রতিদিন হাই হিল পরলে তোমার পায়ের কিছু গুরুতর সমস্যা হতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও  বড় কোন ইভেন্ট হোক, কিংবা যেকোন প্রোগ্রাম; আমাদের সাজ পোশাকের সাথে একজোড়া হাই হিল চাইই চাই। এই হাই হিল জুতাই কিভাবে আরো আরামদায়কভাবে আমরা পড়তে পারি সে ব্যাপারে কিছু টিপস শেয়ার করছি।

সঠিক আকারের জুতা নির্বাচন

তুমি যদি তোমার হিলগুলোকে আরো আরামদায়ক করার উপায় খুঁজো, তবে প্রথম পদক্ষেপ হবে সঠিক আকারের জুতা নির্বাচন করা। সঠিক মাপের জুতা পরা তোমার পা কে খুশি রাখার চাবিকাঠি। পায়ের আঙুলের সামনে তোমার হিলের এক চতুর্থাংশ থেকে দেড় ইঞ্চি জায়গা থাকা উচিৎ। আমাদের অনেকের একটি পা অন্যটির চেয়ে সামান্য বড়, তাই জুতা বড় পায়ের সাথে মানাসই করা গুরুত্বপূর্ন। জুতা ট্রায়াল দেয়ার সময় যদি দেখো যে, তোমার পায়ের আঙুলগুলো কয়েক মিনিট পরে কুঁচকে যাচ্ছে, তাহলে অর্ধেক সাইজ উপরে যেতে দ্বিধা করোনা।

উচ্চতা কমানো

তুমি যদি হাই হিল লাভার হয়ে থাকো, তবে জেনে রেখো ৫ ইঞ্চি উচ্চতার জুতা তোমার পায়ের সাথে সর্বনাশ খেলতে চলছে। জুতার হাইট ৩ ইঞ্চির উপরে যায়, তা তোমার হাঁটার বায়োমেকানিক্স এবং ভারসাম্য পরিবর্তন করে দিবে। যদি তোমার শখের প্রিয় হিল জোড়া ৩ ইঞ্চির উপরে হয়, চিন্তার কোন কারণ নেই। জুতা মেরামতের দোকানগুলো থেকে জুতার প্রকারের উপর নির্ভর করে হিলের উচ্চতা কমিয়ে নিতে পারো।

প্ল্যাটফর্ম জুতা নির্বাচন

কীভাবে হিল আরো আরামদায়ক করা যায় তার আরেকটি পদক্ষেপ হলো প্ল্যাটফর্ম জুতার নির্বাচন। জুতার আকৃতি আরামের স্তরকে কতটা প্রভাবিত করে তার পারফেক্ট উদাহরণ হল এই জুতা কারণ, তারা একই উচ্চতা অফার করে। এতে তোমার হিল ও তোমার পায়ের বলের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে দেয় এবং পায়ের আঙুলগুলোকে সমতল্ভাবে শুয়ে থাকতে দেয়, যার দরুণ হিল পরার সাথে যুক্ত অনেক ব্যথার উপশম করে।

হাঁটার দিকে মনোনিবেশ করা

এটা অদ্ভুতুড়ে শোনালেও, হিল পরে হাঁটা সত্যিই একটি বিজ্ঞান। পায়ের সাথে মানাসই জুতা কিনলেই হলোনা, তা পরে তুমি কিভাবে হাঁটছো সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সর্বাধিক আরাম এবং ব্যথা কমানোর জন্য হিল পরে হাঁটার জন্য এখানে ৩টি পদক্ষেপ রয়েছেঃ

-হিল-টু-টো এই ধারাবাহিকতায় স্টেপ ফেলতে হবে। সঠিকভাবে হিল পরে হাঁটার গতি হলো তোমার গোড়ালিকে প্রথমে নিচে রাখা এবং তারপরে পায়ের আঙুলগুলো নিচে রাখার জন্য এগিয়ে যাওয়া। এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, হাই হিল পরে হাঁটার গতি ফ্ল্যাট পরা থেকে আলাদা। ফ্ল্যাট পরিধান করে হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানোর ভয় থাকেনা।

-হিল দিয়ে হাঁটার একটি কৌশল হল ছোট ছোট পদক্ষেপ নেয়া। কেন? কারণ হিল পরা তোমার চলার পথকে ছোট করে। এই ছোট পদক্ষেপের মাদ্যমে, তুমি তোমার ভারসাম্যের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে। এর অর্থ হল নিচে পড়ে যাওয়া, ছিটকে পড়া এবং পায়ে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম হয়।

-হিল পরে হাঁটার ভঙ্গির মাঝেও পরিবর্তন আসে। ঝুঁকে হাঁটা নয় বরং কাঁধ সোজা রেখে মাথা উঁচু করে রাখো। হাঁটার সময় শুধু একটি স্ট্রিং কল্পনা করো যা তোমার মেরুদন্ডের গোড়া থেকে মাথার ডগা পর্যন্ত সংযুক্ত রয়েছে। সেই স্ট্রিংটি সোজা রেখে হাঁটো, দেখবে কিছুক্ষণের মাঝেই তুমি পেশাদারের মতো হাঁটছ।

জেল অথবা প্যাডের ব্যবহার

পায়ের ব্যথার উপশম করতে জুতায় স্টিকি জেল বা প্যাডিং যুক্ত করা আরেকটি ভালো পদক্ষেপ। তবে মনে রাখবে যে, যেকোন জুতার সাথে প্যাড যুক্ত করলে তা জুতাটিকে আরো শক্ত করে তুলবে। তাই তখনও তুমি জুতা পরে আরাম পাচ্ছো তার নিশ্চয়তা করতে হবে। তোমার জুতাগুলো যদি সাইজে একটু বড় হয়ে থাকে তবেই কেবল প্যাডটি পুরো ঢোকাতে হবে, অন্যথায় এটি পায়ের জায়গায় ক্র্যাম্প করবে।

পায়ের আঙ্গুলে টেপ ব্যবহার

ব্যথা উপশম কমানোর নিমিত্তে জুতা পরার আগে পায়ের আঙ্গুলে টেপ পরা যেতে পারে। এটা কিছুটা অদ্ভূত শোনালেও, ২০১৭ সালে পডিয়াট্রিস্ট জোয়ান ওলোফ ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে এই হ্যাক কাজ করে। মেটাটারসাল বা পায়ের পাঁচটি লম্বা হাড়, যেখানে পায়ের বলের সাথে শেষ হয়; হিল জুতা ফ্ল্যাট জুতার তুলনায় হাড়ের প্রান্তে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও, অনেকে এমন অনেক ব্যথা অনুভব করে যা ছোট ছোট ইন্টারমেটাটারসেল স্নায়ু থেকে পায়ের হাড়ের মধ্যে চলে যায়। এবং আমরা যখন হিল পরি তখন এই স্নায়ুগুলো ডিস্টার্ব হয় এবং প্রসারিত হয়ে যায়। এটি একটি বার্সা স্নায়ুকে ঘিরে ফেলে এবং প্রদাহজনক টিস্যু দিয়ে পূর্ণ করে, যার ফলে ব্যথা হয়। সবচেয়ে সাধারণ স্নায়ু যা বিরক্ত হয় তা হল তৃতীয় এবং চতুর্থ পায়ের আঙুল। এই কারণে জুতা পরিধানের আগে তৃতীয় এবং চতুর্থ আঙ্গুলে টেপ দিয়ে রাখলে তা স্নায়ু এবং স্ফীত টিস্যু থেকে কিছুটা চাপ সরাতে পারে।

নতুন জুতা ট্রায়াল দিয়ে রাখা

আসন্ন কোন ইভেন্টের জন্য একদম নতুন এক জোড়া হিল কিনে থাকলে, তা আগে থেকেই ব্যবহার করে রাখতে হবে। সম্ভব না হলে কমপক্ষে এক ঘণ্টা তা পরে চারপাশে হাঁটতে পার। এতে করে কোন সম্ভাব্য ব্যথার পয়েন্ট গুলো সনাক্ত করতে সহায়তা করবে এবং জুতাগুলো পায়ের আকারের সাথে এডজাস্ট হয়ে উঠবে। এছাড়াও আগে থেকেই পায়ে দিয়ে রাখলে জুতার চারপাশের এরিয়া কিছুটা প্রসারিত হবে।

তাদের কম পরিধান

এই টিপসটি সবচেয়ে সহজ এবং যুক্তিযুক্ত। তুমি যখন কোন প্রোগ্রামে যাচ্ছো এবং সেখানে পরার জন্য পারফেক্ট জুতা ম্যাচ করে নিয়েছো, মূল ইভেন্টে না পোঁছানো পর্যন্ত সেগুলো পরবেনা। পায়ের বিরতি দিতে এবং পরবর্তীতে আরামদায়কভাবে চলাচলের জন্য এই কাজটি করতে পারো।

-ছবি সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

4 × 5 =