হানিমুনের সেরা দশ গন্তব্য

করেছে Sabiha Zaman

আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশে ভ্রমণের জায়গা অনেক। সাগর, পাহাড়, স্থাপত্য সব রকম পর্যটন আকর্ষণই আছে বাংলাদেশে। বিয়ের পর নবদম্পতির জন্য হানিমুনে ঘুরে আসতে পারো এ রকমই জনপ্রিয় দশটি ভ্রমণ গন্তব্য তুলে ধরা হলো এখানে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। টেকনাফ থেকে ৩৫ কিলোমিটার সমুদ্রগর্ভে এই দ্বীপের অবস্থান। প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ এ দ্বীপের আকর্ষণ সৈকতজুড়ে সারি সারি নারকেলগাছ, বেলাভ‚মিতে প্রবাল পাথর, দিগন্তজুড়ে সমুদ্রের নীল জলরাশির মনমাতানো সৌন্দর্য। ছোট্ট এই দ্বীপে বৈচিত্র্যে ঠাসা। উত্তর থেকে দক্ষিণ আর পূর্ব থেকে পশ্চিম, সব জায়গাতেই সৌন্দর্যের পসরা। যেমন উত্তরের সৈকতে জোয়ার-ভাটায় জেলেদের মাছ ধরা, পশ্চিমের সৈকতে সারি সারি নারকেলবাগান। পূর্ব আর দক্ষিণ পাশের সৈকতজুড়ে মৃত প্রবালের সঙ্গে নীলসমুদ্র। এত নীল পানির সমুদ্র বাংলাদেশের আর কোথাও নেই।

নারিকেল জিঞ্জিরা 
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সমুদ্রগর্ভে এ দ্বীপটির অপর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটারজুড়ে এ দ্বীপের বেলাভ‚মিতে প্রবাল পাথরের মেলা, সারি সারি নারকেলগাছ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি পর্যটক আকর্ষণের মূল উপাদান। সেন্ট মার্টিনের আরেক আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ। মূল দ্বীপের একেবারে দক্ষিণে অবস্থিত। একসময় মূল দ্বীপ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন ছিল, এখন প্রায় মিলে গেছে। তবে জোয়ারের সময় এখনো এর সংযোগস্থল ডুবে যায়। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নিয়ে যাওয়ার জন্য চালু আছে বেশ কিছু সমুদ্রগামী জাহাজ।

কক্সবাজার
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। এর সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভও। ভ্রমণে তাই কক্সবাজার এখন আরও বেশি উপভোগ্য। কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। শহর থেকে শুরু করে মেরিন ড্রাইভ ধরে টেকনাফ পর্যন্ত এখানে বেশ কয়েকটি সুন্দর সুন্দর সৈকত আছে। কক্সবাজার শহরের লাবণী ও সুগন্ধা সৈকত ছাড়াও মেরিন ড্রাইভে আছে হিমছড়ি, ইনানি, শামলাপুর, হাজামপাড়া আর টেকনাফ। এর একেকটি সৈকত যেন বৈচিত্র্যের ভান্ডার।
সমুদ্রসৈকত ছাড়াও কক্সবাজার শহরের পার্শ্ববর্তী থানা রামুতে আছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বেশ কিছু কেয়াং ও প্যাগোডা। আর চকরিয়ার ডুলাহাজারায় আছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। ঢাকা থেকে সড়ক ও আকাশপথে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়।

কুতুবদিয়া চ্যানেল
কুতুবদিয়া দ্বীপের পূর্ব প্রান্তে এই কুতুবদিয়া চ্যানেল দ্বারা মূল  ভূখণ্ড  বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপটি। প্রায় ২১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে যেতে হলে চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে পাড়ি দিতে হয় এই চ্যানেল। শীত মৌসুমে এ চ্যানেল বেশ শান্ত থাকলেও বর্ষা মৌসুমে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। জায়গাটিতে ঘুরতে যাওয়ার আসল সময় তাই শীতকাল।

কুতুবদিয়া
কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। প্রায় ২১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট এই দ্বীপে আছে নানান পর্যটন আকর্ষণ। নির্জন সমুদ্রসৈকত, একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রাচীন বাতিঘর, কুতুব আউলিয়ার মাজারসহ দেখার মতো অনেক কিছুই আছে এ দ্বীপে। চকরিয়ার মাগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়েই পৌঁছাতে হয় দ্বীপে। এখানকার সমুদ্রসৈকত উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। বেশির ভাগ এলাকাই বেশ নির্জন। সৈকতের তীরে অনেক জায়গাতেই আছে ঝাউগাছের বাগান। বাংলাদেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্রটিও কুতুবদিয়ায়। এক হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের আলী আকবরের ডেল এলাকায়।

আর দ্বীপের উত্তর প্রান্তে আছে কুতুবদিয়ার প্রাচীন বাতিঘর। সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নাবিকদের পথ দেখাতে বহুকাল আগে কুতুবদিয়ায় তৈরি করা হয়েছিল একটি বাতিঘর। পুরোনো সেই বাতিঘর সমুদ্রে বিলীন হয়েছে বহু আগে। তবে ভাটার সময় সেই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ কখনো কখনো জেগে উঠতে দেখা যায়।
দ্বীপের মাঝামাঝি ধুরং এলাকায় কুতুব আউলিয়ার দরবার শরিফ। এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবীর জন্মস্থান এটি। জনশ্রুতি আছে, দ্বীপটির নামকরণ হয়েছে কুতুব আউলিয়ার পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই। বর্তমানে কুতুব শরিফ দরবারের দায়িত্বে আছেন তারই পুত্র শাহজাদা শেখ ফরিদ। এ ছাড়া কুতুবদিয়ার সর্বত্রই লবণ চাষ হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ উৎপাদনের নানান কৌশল দেখা যাবে এখানে।


বান্দরবান
তিন পার্বত্য জেলার অন্যতম বান্দরবান। এখানে রয়েছে বেড়ানোর মতো সুন্দর সব জায়গা। বান্দরবান শহরের এক পাশেই আছে বোমাং রাজার বাড়ি। বোমাং রাজার উত্তরসূরিরা এখন বসবাস করেন এ বাড়িতে। আর বান্দরবান শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে সাঙ্গু নদী। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বান্দরবান চন্দ্রঘোনা সড়কের পুল পাড়ায় জাদির পাহাড়ে আছে স্বর্ণমন্দির। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের এ মন্দিরের নাম বুদ্ধধাতু জাদি। শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের পাশে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স। প্রকৃতির কোলে এখানে আছে ঝুলন্ত সেতু, চিড়িয়াখানা আর হ্রদ। শহরের কাছে সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের নাম নীলাচল। শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ায় এ পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় এক হাজার ফুট। এখানে দাঁড়িয়ে বান্দরবান শহরসহ দূরদূরান্তের অনেক জায়গার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
বান্দরবান শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত। এখানে আছে একটি ঝরনা। শৈলপ্রপাতের পাশেই স্থানীয় আদিবাসীদের ভ্রাম্যমাণ বাজারটি দেখার মতো। তাদের তৈরি চাদর আর পাহাড়ি ফলমূল পাওয়া যায় এ বাজারে। এখানে আরও আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বম সম্প্রদায়ের একটি গ্রামও।

শৈলপ্রপাত থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চিম্বুক পাহাড়। এ পথে বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দূরে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এ পর্যটন কেন্দ্র থেকে চারপাশের দৃশ্য ছবির মতো।

রাঙামাটি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আরেকটি জেলা রাঙামাটি। এখানকার জেলা শহরে আছে উপজাতীয় জাদুঘর। জেলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পেতে এ জাদুঘরের জুড়ি নেই। এর কাছেই বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজবনবিহার। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের নানান আচার-অনুষ্ঠান নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় এখানে। রাজবনবিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার বাড়ি।
রাঙামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই হ্রদের তীরে খুব ব্যস্ত দুটি জায়গা রিজার্ভ বাজার আর তবলছড়ি বাজার। দুটি বাজারেই মূলত আদিবাসীদের আনাগোনা বেশি। তবলছড়ি ছাড়িয়ে আরও প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে পর্যটন কমপ্লেক্স। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল ছাড়াও এর ভেতরে আছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু।
রিজার্ভ বাজার থেকে নৌকায় চড়ে যাওয়া যায় শুভলং বাজার। বাজারের আগেই বাঁ দিকের পাহাড়ে আছে শুভলং ঝরনা। তবে শীতে এ ঝরনায় পানি থাকে না। শুভলং যেতে পথে কাপ্তাই হ্রদের মাঝের ছোট দ্বীপজুড়ে আছে টুক টুক ইকো ভিলেজ ও পেদা টিংটিং। এখানকার রেস্তোরাঁয় মেলে হরেক পদের পাহাড়ি খাবার।

রাঙামাটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রটি হলো সাজেক। জায়গাটির অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও যাতায়াত সুবিধা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে। সেখান থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্যগুলোর একটি সাজেক। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় জায়গাটির অবস্থান। সাজেকের পাহাড়চ‚ড়া থেকে পুরো রাঙামাটির চারপাশ দৃষ্টিগোচর হয় বলে একে রাঙামাটির ছাদও বলেন অনেকে।

খাগড়াছড়ি
পার্বত্য চট্টগ্রামের আরেকটি জেলা খাগড়াছড়ি। এখানেও ভ্রমণের অনেক জায়গা রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে এই জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ১২২ কিলোমিটার। চারদিকে পাহাড়ের মাঝে অনেকটা সমতলে এই শহর।
খাগড়াছড়ির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভ্রমণের জায়গা হলো আলুটিলা পাহাড়। জেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিমে মহাসড়কের পাশেই রয়েছে এই পাহাড়। প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের চ‚ড়ায় দাঁড়ালে পুরো খাগড়াছড়ি শহরকে পাখির চোখে দেখা যায়। আলুটিলা পাহাড়ের আরেকটি আকর্ষণীয় জায়গা হলো এর নিচের গুহাপথ। পাহাড়ের নিচে গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে চলছে শীতল জলধারা।

আলুটিলা পাহাড় থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রিসাং ঝরনাটিও বেশ সুন্দর। আর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নুনছড়ির পাহাড়চ‚ড়ায় দেবতার পুকুরও মনোরম জায়গা।


সুন্দরবন
প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারই বাংলাদেশে। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য এটি। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বেঙ্গল টাইগারের বাস ছাড়াও এ বনে আছে চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বন্য শূকর, বানর, গুইসাপ, ভোঁদড়, ডলফিন, লোনাপানির কুমিরসহ আরও অনেক বন্য প্রাণী। সুন্দরবনের প্রায় ৩৩০ প্রজাতির গাছপালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুন্দরী, কেওড়া, পশুর, ধুন্দল, আমুর, গরান, গর্জন, খোলশী, হেঁতাল, গোলপাতা, টাইগার ফার্ন, হারগোজা ইত্যাদি।
মোংলার কাছাকাছি করমজল আর হারবাড়িয়া ছাড়াও সুন্দরবন ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো কটকা, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, কোকিলমনি, মান্দারবাড়িয়া, পুটনি দ্বীপ ইত্যাদি। এর মধ্যে কচিখালী, দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, মান্দারবাড়িয়া এবং পুটনি দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। সুন্দরবনে ভ্রমণে এখন অনেক পেশাদার ভ্রমণ সংস্থা এখন প্যাকেজ ট্যুর পরিচালনা করে।

শ্রীমঙ্গল
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চা-বাগান মৌলভীবাজার জেলায়। আর এ জেলার শ্রীমঙ্গলেই সবচেয়ে বেশি চা-বাগান। জীববৈচিত্র্যে ভরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানও শ্রীমঙ্গলের পাশেই। শ্রীমঙ্গলে বেশ কিছু সুন্দর চা-বাগান আছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সময় চারদিকে চোখে পড়বে শুধুই চা-বাগান আর চা-বাগান। পছন্দসই যেকোনো বাগানে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দেখতে পারো। শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের থাকার জন্য গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মানের হোটেল রিসোর্টও। তাই চা-বাগান বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এখানে আরও বেড়াতে পারো বাইক্কা বিল। এ বিল অতিথি পাখির অন্যতম অভয়াশ্রম। শ্রীমঙ্গলের সীমান্তবর্তী থলই এলাকায় আছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। আর কমলগঞ্জের মাধবপুর লেকও শ্রীমঙ্গল থেকে খুবই কাছের একটি দর্শনীয় স্থান।

 

 

 

বাগেরহাট

প্রাচীন মসজিদের একটি শহর বাগেরহাট। বেশ কিছু প্রাচীন মসজিদ এখানকার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদসহ খানজাহান আলীর এসব প্রাচীন স্থাপনা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। খানজাহান আলীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যকীর্তি ষাটগম্বুজ মসজিদ। ঐতিহাসিকদের মতে, এই ষাটগম্বুজ মসজিদটি তিনি নির্মাণ করেছিলেন ১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দেরও কিছু আগে।
বাগেরহাট শহরের মাঝে হজরত খানজাহানের (র.) সমাধিসৌধ, মসজিদ আর প্রাচীন দিঘি। এ ছাড়া এই দিঘির তীরে জিন্দাপীর মসজিদ আর নয়গম্বুজ মসজিদ নামে আরও দুটি মসজিদ আছে। হজরত খানজাহান আলীর (র.) সমাধিসৌধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ষাটগম্বুজ মসজিদ। এটি বাগেরহাটের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। বিশাল এই মসজিদ ইটের তৈরি। ষাটগম্বুজ নাম হলেও মসজিদটিতে ৮১টি গম্বুজ আছে। তবে মসজিদের ভেতরের ষাটটি স্তম্ভ থাকার কারণে এর নাম হতে পারে ষাটগম্বুজ। স্তম্ভগুলো কালো পাথরের তৈরি।
এ ছাড়া বাগেরহাটের অন্য প্রাচীন মসজিদগুলো হলো ষাটগম্বুজের পাশেই সিংড়া মসজিদ, রণবিজয়পুর গ্রামে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একগম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ রণবিজয়পুর মসজিদ। চুনাখোলা গ্রামের চুনাখোলা মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

কুয়াকাটা
বাংলাদেশের দক্ষিণে কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগরকন্যা। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাওয়ার কারণে এ জায়গাটি বেশি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এখানকার সৈকত লাগোয়া পুরো জায়গাতেই আছে নারকেলগাছের বাগান। তবে এর অনেকটাই সাগরে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়েছে সমুদ্র তীরের এই নারকেল বাগান।
এ সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে আছে জেলেপল্লি। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। শীত মৌসুমে এ পল্লির জেলেরা ব্যস্ত থাকেন শুঁটকি তৈরির কাজে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম পাশে নদী পার হলেই সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল। এর নাম ফাতরার বন। সুন্দরবনের অংশ হলেও তেমন কোনো হিংস্র বন্য  প্রাণী নেই সেখানে।
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতীর খাল। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গামতীর জঙ্গল। এখান থেকে আরও সামনে গেলে ছোট্ট একটি দ্বীপে আছে লাখ লাখ লাল কাঁকড়া। দ্বীপটি ক্রাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ নামে পরিচিত।

লেখা – রোদসী ডেস্ক

ছবি – সংগৃহীত

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

twelve − 5 =