হাল ছেড়ো না, সুদিন আসবেই

করেছে Suraiya Naznin

নারীর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে পরিবারের সহযোগিতাটা মুখ্য বিষয়। আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছি সন্তান হওয়ার পর। তাই ওদের রেখেই আমাকে অফিস করতে হয়। এখানে যদি আমার স্বামীর কিংবা আমার পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা না থাকত, তাহলে আমি হয়তো থেমে যেতাম। বলছিলেন সাংবাদিক নাদিরা জাহান, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সুরাইয়া নাজনীন

 

নাদিরা জাহান

কীভাবে মিডিয়ায় এলেন?
নাদিরা জাহান : আমার ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ার প্রতি ভালোলাগা ছিল। যখন একুশে টেলিভিশন দেখতাম, মনে হতো যদি কাজ করতে পারতাম ওখানে। পরে মিডিয়ার ওপর নানা রকম কোর্স করেছি। পরে আমি ২০১৩ সালে এবিসি রেডিওতে যোগ দিই। আর আমার বাড়তি একটি পাওনা ছিল, আমার স্বামীও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তাই ওনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানার সুযোগ হতো। আমি রেডিও দিয়ে শুরু করেছিলাম, পরে চ্যানেল ২৪, এরপর নেক্সাস টিভি, আর এখন তো দেশ টিভিতে আছি।

 

প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
নাদিরা জাহান : আমার ক্যারিয়ার গড়তে তেমন কোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়নি। আমার বাবা ভীষণ সহযোগী ছিলেন। আর বর্তমানে স্বামী খুব সহযোগিতা করেন কাজের বিষয়ে। এমনকি ঘরের কাজগুলোতেও আমি বেশ সাপোর্ট পাই, তা না হলে সন্তান নিয়ে চাকরি করাটা সম্ভব হতো না।

 

নারীর জন্য মানসিক শক্তি কতটুকু দরকার?
নাদিরা জাহান : একজন নারীর স্বপ্ন তৈরি করতে এবং তার বাস্তবায়নের জন্য মানসিক শক্তি ভীষণ দরকার। আমি যখন নেক্সাস টিভিতে কাজ করি, তখন একটি প্রোগ্রাম ‘লেডিস ক্লাব’ আমার হাত দিয়েই অনেকটা যাত্রা, তখন দেখেছি কত শত নারীর সংগ্রামের গল্প। গল্প শুনে মনে হতো এত সংগ্রাম করে নারীরা যে এত দূর আসতে পারে, ভাবার বাইরে। আসলেই একেবারে অবাক করা বিষয়। তাদের মানসিক সাহস কিংবা শক্তি না থাকলে এটা একেবারেই সম্ভব হতো না।

 

নারী জাগরণ বলতে কী বোঝেন
নাদিরা জাহান : এটা আসলে একটি ভাসমান বিষয়। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে নারী জাগরণ অনেকটা নিশ্চিত হবে। একটি পরিবারে যদি চারজন সদস্য থাকে, তার মধ্যে যদি একজন আর্থিক সহায়তা করেন, তাহলে পরিবারটির ওপর অনেক চাপ পড়ে। আবার জীবনে দুর্ঘটনার কথা কেউ বলতেও পারে না। তাই একজন হাল ধরার মানুষ খুব প্রয়োজন। নারী বলে সে কাজ করতে পারবে না, এটা কোনো যৌক্তিক বিষয় নয়।

 

দেশের উন্নয়নের জন্য কি নারীর ভূমিকা আছে?
নাদিরা জাহান : এককভাবে বা একা একা উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নে একজন নারীর যেমন এগিয়ে আসা দরকার, তেমনি একজন পুরুষেরও। আপনি যদি ছোট পরিসরে ফিরে যান, অর্থাৎ একটি সংসারে সবকিছু যদি নারী একা করে, তাহলে তার জন্য সত্যি কষ্টের সবকিছু। তবে একজন পুরুষ যদি সহযোগী হয়ে পাশে দাঁড়ায়, তাহলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই ঘর থেকে আমরা যদি পরিবর্তন শুরু করতে পারি, তাহলে বিষয়গুলোর চমৎকার প্রভাব পড়বে সমাজের ওপর।

 

নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত, আমরা কি বলতে পারি এখন?
নাদিরা জাহান : আসলে কখনো বলা যায়, আবার কখনো না। তবে পরিবর্তন হচ্ছে অনেকটাই। আমরা করোনাকালীন দেখেছি প্রচুর নারী ঘরে বসে উদ্যোক্তা হয়েছে। একেকজন উদ্যোক্তা এখন অনেকেই আরও বিশাল পরিসরে স্বপ্ন দেখছেন। ঘরে বসেই যে মেধার সঠিক ব্যবহার হয়েছে এবং তা ফলপ্রসূ শতভাগ। এটা তো আমার কাছে বড় বিপ্লব মনে হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিজিটাল যুগের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো, নিজেকে তৈরি করা কম কথা নয়।

 

জীবনে চলার পথের প্রতিকূলতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে কি?
নাদিরা জাহান : আমরা প্রতিমুহূর্তেই শিখি। নিজের প্রতিকূলতা ছাড়াও অন্যের প্রতিকূলতা দেখে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। যদি শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা থাকে। আর আমার কাছে মনে হয় জীবনে কোনো সিদ্ধান্ত চটজলদি নেওয়া ঠিক নয়। একটু ভেবেচিন্তে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিলে তার ফলাফল ভালো হয়।

 

নারীর টিকে থাকা
নাদিরা জাহান : টিকে থাকতে হলে নারী-পুরুষ দুজনকেই মানবিক হতে হবে। মানবিকতা ছাড়া গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া অনেক কঠিন। মানবিক গুণাবলি দিয়ে কাজকে ভালোবেসে সামনে এগোলে সে তার সমাজে টিকে থাকবে।

 

 

কী বলবেন নতুনদের জন্য
নাদিরা জাহান : হাল ছাড়লে চলবে না। লেগে থাকতে হবে। যেকোনো বাধাকে মোকাবিলা করার সাহস রাখতে হবে। জীবন অনেকটা চলে গেছে, এখন আর সময় নেই এটা ভাবলে হবে না। যখন থেকেই আপনি প্রস্তুতি, তখন থেকেই শুরু করুন।

 

পারিবারিক সহযোগিতা
নাদিরা জাহান : শুরুতেই বলেছি একজন নারীর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে পরিবারের সহযোগিতাটা মুখ্য বিষয়। আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছি সন্তান হওয়ার পর। তাই ওদের রেখেই আমাকে অফিস করতে হয়। এখানে যদি আমার স্বামীর কিংবা আমার পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা না থাকত, তাহলে আমি হয়তো থেমে যেতাম। নিজেকে প্রমাণের কোনো সুযোগই থাকত না।

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

one + 2 =