হাস্যোজ্জ্বল হেঁশেল

করেছে Sabiha Zaman

রান্না করলে হেঁশেলে তেল-কালি জমবেই। কিন্তু রোজ যদি পরিষ্কার করা যায়, তাহলে খাটুনি হবে কম। রান্নাঘরেই কিন্তু লুকোনো থাকে পরিবারের সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। তাই রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। রান্নার তেল ছিটে বা আনাজের খোসা কিংবা ফলের রস ছিটকে রান্নাঘরের দেয়ালের কোণে কোণে জমে থাকা অস্বাভাবিক নয়। সেখানেই বাসা বাঁধে ব্যাকটেরিয়া। তা থেকে ছড়াতে পারে অসুখ। তাই নিত্যদিনের সাফাইসূচিতে রান্নাঘরকেও জোড়া আবশ্যিক। রান্নাঘর শুনতে ছোট্ট একটা ঘর মনে হলেও তা গোছানো ও পরিষ্কার রাখা  কিন্তু মুখের কথা  নয়। তাই হেঁশেল পরিষ্কার করার কাজ দিন-সপ্তাহ-মাসে ভাগ করে নিতে পারো, সুবিধা হবে।

প্রতিদিন যা করা জরুরি

  • রান্না হয়ে গেলেই গ্যাস ওভেন ও গ্যাসের টেবিল সাবান-পানি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে নাও। পরে করবে বলে ফেলে রাখবে না। খাবার সার্ভ করার সময় বা তেল ঢালার সময় পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে নিতে হবে। দাগ পুরোনো হলেই তা তুলতে সমস্যা হয়। রান্নাঘরের মেঝে দিনে দুবার মুছে পরিষ্কার করো। সকালে ও রাতে রান্নার পরে মুছলেই ভালো। রাতে মোছার অসুবিধা হলে মবদিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারো।
  • রান্নাঘরে ওভেনের ওপরে চিমনির গায়েও কিন্তু তেল জমে। রোজকার তেলময়লা তুলে নিলে ঝামেলা কম। অটোক্লিন চিমনি না হলে চিমনি খুলে পরিষ্কার করার ব্যাপার থাকে। তাহলে সপ্তাহে এক দিন পরিষ্কার করো। কিন্তু চিমনির চারপাশে, ওপরে রোজ ভেজা টিস্যু বা স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে মুছে নিতে হবে।
  • রান্নাঘরের বেসিন সব সময় যেন ঝকঝকে থাকে। বেসিনে এঁটো কাপ, প্লেট জমিয়ে রাখবে না। যদি এঁটো থালাবাটি রাখতেই হয়, বেসিনের নিচে ঢাকা দেওয়া জায়গায় রাখো। বেসিনের মুখে কিছু আটকে গেলে ভিনেগার ঢেলে রাখতে পারো। কয়েক ঘণ্টা পরে নিজে থেকেই বেসিনের মুখ খুলে যাবে।

প্রতি সপ্তাহে

  • সপ্তাহান্তে রান্নাঘরের কৌটো সাফ করে নিতে হবে। কৌটোর ওপরেও ময়লা জমে। এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা গুলে নাও। সেই পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে কৌটোর মুখের ময়লা তুলে নাও। চিমনি খুলে পরিষ্কার করতে হবে। চিমনি অটো ক্লিন হলে তো ঝামেলা নেই। তবু চিমনির বাইরের তেলময়লা ঈষদুষ্ণ পানিতে সাবান গুলে পরিষ্কার করতে পারো। বছরে দুবার কোম্পানির থেকে যে সার্ভিস করানো হয়, তা করাতে হবে। রান্নাঘরের দেয়ালে টাইলস পরিষ্কার করতে পুরোনো টুথব্রাশ বা কাপড় কাচার ব্রাশ আর সাবান পানি ব্যবহার করতে পারো।
  • হেঁশেলে আরশোলার উৎপাত প্রায় প্রতিটি ঘরের সমস্যা। তা এড়াতে একটি পাত্রে বাসন মাজার লিকুইড সোপের মধ্যে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে নাও। এক চামচ সাবান হলে ছোট এক বাটি পানি নিলেই চলে। তারপরে মিশ্রণটি হেঁশেলের নানা জায়গায় ছড়িয়ে দাও। যেসব জায়গা থেকে আরশোলা, পোকামাকড়ের উৎপত্তি, সেখানে ছড়ালে নির্বংশ হবে তারা। আবার কর্পূর ছড়িয়ে রাখলেও কাজ হয়।

মাসকাবারি

  • রান্নাঘরে জানালার গ্রিল বা এগজস্ট ফ্যানেও তেলঝুল জমে। তাই মাসে এক দিন নিজে বা প্রশিক্ষিত লোক ডেকেও তা পরিষ্কার করিয়ে নিতে পারো। ক্যাবিনেটও পরিষ্কার করো। ভেতরটা মোছো শুকনো কাপড় দিয়ে। বাইরেটা সাফ করতে ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করতে পারো।

খেয়াল রাখবে
রান্নাঘরে যেসব ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স থাকে অর্থাৎ টোস্টার, গ্রিলার বা মিক্সার-গ্রাইন্ডার, সেগুলো তাকে তুলে রাখো। ব্যবহার করার সময় বের করে পরে মুছে তুলে রাখো। কভারও ব্যবহার করা যায়। কুরুশের বা ডাবল লেয়ারের প্রিন্টেড কভার পেয়ে যাবে বাজারে।
ঢাকা দিয়ে রান্না করো। তাহলে তেলকালির দাগ বেশি পড়বে না। ফোড়ন দেওয়ার সময়েও এক হাতে সাঁড়াশি দিয়ে ঢাকনা ধরে রাখো কড়াইয়ের ওপরে। একগাদা বাসন রান্নাঘরের টেবিলে স্তূপ করে না রেখে কাজ শেষে তা ক্যাবিনেটে ঢুকিয়ে রাখো। বাকিটা নির্ভর করছে নিজের ওপরে। তোমার রান্নাঘর তো সেজে উঠবে তোমার রুচিতেই।

টিপস

  • একটু পাতিলেবুর রসে গোলাপজল মিশিয়ে রান্নাঘরে স্প্রে করলে বাসি গন্ধ চলে যাবে।
  •  কিচেন ক্যাবিনেট পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগার ও স্পঞ্জ ব্যবহার করতে পারো।
  •  রান্নাঘরে পিঁপড়া বা পোকামাকড় রুখতে দুটো করে লবঙ্গ প্রত্যেকটা ক্যাবিনেটের কোণে দিয়ে রাখো।

লেখা : রোদসী ডেস্ক

 

০ মন্তব্য করো
0

You may also like

তোমার মন্তব্য লেখো

10 − 6 =